ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘চমৎকার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা তাৎক্ষণিকভাবে বাজার ও বিশ্লেষকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। শেয়ার বাজারের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর এই মন্তব্যের পর গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয় এবং সেখানে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্যটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা এবং ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই প্রণালী দিয়ে পণ্য সরবরাহ সামান্য সময়ের জন্য ব্যাহত হলেও জ্বালানির দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটতে পারে। এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি ইউরোপ ও এশিয়ার ভোক্তাদের ব্যয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, কারণ সেখানে তেলের আমদানিনির্ভরতা এখনও অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, প্রতি ব্যারেলে তেলের দাম ১০ ডলার বৃদ্ধি পেলে আমদানিকারক দেশগুলোতে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার প্রায় ০.৫ শতাংশ বেড়ে যায়।
প্রণালীর উত্তর উপকূল নিয়ন্ত্রণকারী ইরান এবং নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী দেশগুলোর জোটই এই উত্তেজনার মূল পক্ষ হিসেবে কাজ করছে। ট্রাম্প তেহরানের পদক্ষেপগুলো নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে সেগুলোর কার্যকারিতার প্রশংসা করলেও কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। সাম্প্রতিক সময়ে তেলের ট্যাঙ্কার নিয়ে ঘটা বিভিন্ন দুর্ঘটনা এবং জাহাজ চলাচলে সম্ভাব্য বিধিনিষেধ আরোপ নিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের হুমকিই বর্তমান উত্তেজনার মূল কারণ।
এই সংকটের প্রভাবের ধারাটি মূলত এমন: ট্রানজিট বা চলাচলে বাধা বাজারে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি করবে, যা তেলের দাম বাড়িয়ে দেবে এবং পরবর্তীতে তা জ্বালানি, পরিবহন ও বিভিন্ন পণ্যের মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলবে। উদাহরণস্বরূপ ২০১৯ সালের কথা উল্লেখ করা যায়, যখন এই অঞ্চলে একই ধরণের হুমকির ফলে এক সপ্তাহেই তেলের দাম ১৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।
এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ২০২২ সালের সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যখন জ্বালানি খাতের আকস্মিক অস্থিরতা উন্নত দেশগুলোতে মুদ্রাস্ফীতিকে ত্বরান্বিত করেছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যে এই প্রভাব প্রশমনে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে এর প্রকৃত মাত্রা নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালীর বর্তমান অস্থিরতা কতদিন স্থায়ী হবে তার ওপর।



