রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন যে ইউক্রেন যুদ্ধ "শেষের দিকে চলে এসেছে" এবং তিনি আলোচনার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। চলমান সংঘাত এবং কূটনৈতিক সমাধান খোঁজার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার মাঝেই এই মন্তব্য করলেন তিনি।
পুতিনের মতে, রাশিয়ার মূল নিরাপত্তা দাবিগুলো মেনে নেওয়া হলে তারা যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের ইঙ্গিত রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট এবং মিত্রদের পক্ষ থেকে চাপের প্রতিফলন হতে পারে।
পুতিন আরও যোগ করেছেন যে, একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির সমস্ত শর্ত পূরণ হওয়ার পরই তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে তৃতীয় কোনো দেশে বৈঠক করতে রাজি আছেন।
"তৃতীয় কোনো দেশেও সাক্ষাৎ হতে পারে, তবে তা কেবল তখনই সম্ভব যখন একটি শান্তি চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্য পৌঁছানো যাবে; এই চুক্তিটি এমন হতে হবে যা দীর্ঘমেয়াদী ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কথা বিবেচনা করে তৈরি, যাতে আমি সেখানে অংশগ্রহণ করতে পারি বা কোনো নথিতে স্বাক্ষর করতে পারি, তবে এটি আলোচনার শুরু নয় বরং আলোচনার চূড়ান্ত সমাপ্তি হতে হবে।"
এই বিবৃতির প্রধান কারণগুলো মূলত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং ক্রমবর্ধমান ক্ষয়ক্ষতির সাথে সম্পর্কিত। রাশিয়া ইউক্রেনের নিরপেক্ষ অবস্থান এবং আঞ্চলিক পরিবর্তনের স্বীকৃতির ওপর জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে কিয়েভ সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দাবি করছে।
এর একটি স্পষ্ট উদাহরণ হলো সম্প্রতি তুরস্ক ও জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলো, যেখানে অস্ত্র সরবরাহ এবং মানবিক করিডোর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্ভাব্য সংলাপ নিয়ে নানা কথা হলেও এই পরিস্থিতিই প্রমাণ করে যে উভয় পক্ষের অবস্থান এখনো কতটা বিপরীতমুখী।




