ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। স্থানীয় নির্বাচনে দলের শোচনীয় পরাজয়ের পর নিজ দলের সদস্যদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে তিনি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। লেবার পার্টি নতুন কোনো নেতা নির্বাচন না করা পর্যন্ত স্টারমার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবেন।
১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাসভবনের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় কিয়ার স্টারমারকে বেশ আবেগপ্রবণ দেখাচ্ছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তিনি কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই দলের দাবি মেনে নিচ্ছেন এবং উত্তরসূরি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে যাবেন। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া আগামী জুলাই মাস থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে।
নিজের পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এই রাজনীতিবিদ জানান যে, তিনি সর্বদা দেশের স্বার্থকে সবার আগে স্থান দিয়েছেন।
তিনি বলেন, "আমার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তের লক্ষ্য ছিল নিজের ভালোবাসার দেশটিকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখা। আর ঠিক এই কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতৃত্বের পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি।"
বক্তব্য শেষ করার আগে স্টারমার উল্লেখ করেন যে, দেশের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ’ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর তিনি এখন নিজের পরিবারকে আরও বেশি সময় দিতে চান। তার ভাষ্যমতে, তিনি এখন তার স্ত্রী ভিকির জন্য একজন যোগ্য স্বামী এবং সন্তানদের জন্য একজন আদর্শ বাবা হওয়ার মতো ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে’ মনোনিবেশ করতে চান, যাদেরকে তিনি নিজের গর্ব ও আনন্দের উৎস হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর নেতৃত্বের পরিবর্তন এখন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। মেকারফিল্ড আসনের গুরুত্বপূর্ণ উপ-নির্বাচনে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র এন্ডি বার্নহামের জয় স্টারমারকে পদত্যাগের দিকে ঠেলে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি চূড়ান্ত রাজনৈতিক মোড় হিসেবে কাজ করেছে।
বার্নহাম কেবল হাউস অফ কমন্সে নিজের আসনই নিশ্চিত করেননি, বরং দলের নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রিত্বের লড়াইয়ে নিজেকে অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার এই অভাবনীয় সাফল্য স্টারমারকে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে যে তিনি দলের সমর্থন হারিয়েছেন এবং লেবার পার্টির অভ্যন্তরেই এখন শক্তিশালী বিকল্প নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ব্রিটেনে দলীয় নেতৃত্বের জন্য তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে মন্ত্রিসভার কাজের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কিয়ার স্টারমার আপাতত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে যাবেন। জুলাই মাসের ভোটাভুটির ফলাফলের ভিত্তিতেই লেবার পার্টির নতুন নেতার নাম জানা যাবে, যিনি সরাসরি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর স্থলাভিষিক্ত হবেন।



