২০২৬ সালের ১৭ জুন মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ তাদের মূল সুদের হার ৩.৫০–৩.৭৫ শতাংশের সীমার মধ্যে অপরিবর্তিত রেখেছে। নতুন প্রধান কেভিন ওয়ার্শের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম এই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এটি ছিল টানা চতুর্থ বৈঠক যেখানে সুদের হারে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। গত এক বছরের মধ্যে এটি একটি বিরল ঘটনা যে, এই ভোটাভুটিতে কোনো সদস্যই ভিন্নমত পোষণ করেননি।
ফেডারেল রিজার্ভের বিবৃতিতে এর আগে সুদের হার কমানোর যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এছাড়া বিবৃতির আকারও প্রায় তিন গুণ কমিয়ে মাত্র ১৩২ শব্দে নামিয়ে আনা হয়েছে।
নতুন ত্রৈমাসিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, কমিটির ১৮ জন সদস্যের মধ্যে ৯ জনই ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন। বর্তমানে মধ্যম মানের প্রাক্কলন অনুযায়ী সুদের হার ৩.৮ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ওয়ার্শ নিজে কোনো ত্রৈমাসিক ছক বা গ্রাফ উপস্থাপন করেননি। তার মতে, এই ধরণের পূর্বাভাস নীতিগত সিদ্ধান্তের নমনীয়তাকে সংকুচিত করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেল রিজার্ভ প্রধান ২ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তার দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় বাজারে ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড বা মুনাফা বেড়েছে এবং শেয়ার বাজারের সূচকগুলোতে পতন দেখা গেছে।
ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে তা সময়ই বলে দেবে, তবে নতুন নেতৃত্বের এই প্রথম পদক্ষেপটি নীতি শিথিল করার ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্ক অবস্থানেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তটি অধিকাংশ বিশ্লেষকের প্রত্যাশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তবে আলোচনার ধরণ এবং পূর্বাভাসে আসা পরিবর্তনগুলোই শেষ পর্যন্ত বাজারের জন্য মূল সংকেত হিসেবে কাজ করেছে।



