২০৩৫ সালের মধ্যে অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন চারগুণ বৃদ্ধির পূর্বাভাস।

লেখক: Tatyana Hurynovich

২০৩৫ সালের মধ্যে অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন চারগুণ বৃদ্ধির পূর্বাভাস।-1

বিশ্বব্যাপী সমুদ্রতীরবর্তী বা অফশোর বায়ুশক্তি শিল্প এক অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। গ্লোবাল উইন্ড এনার্জি কাউন্সিল (GWEC)-এর প্রকাশিত সাম্প্রতিক অডিট অনুযায়ী, আগামী এক দশকে এই খাতে বিশ্বব্যাপী সক্ষমতা চারগুণ বৃদ্ধি পাবে। এই নতুন জ্বালানি পরিস্থিতির রূপান্তরে মূল ভূমিকা পালন করবে চীন।

বিশাল অগ্রগতি: ৩২৭ গিগাওয়াট পরিচ্ছন্ন জ্বালানি

GWEC-এর নতুন প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী দশ বছরে বিশ্বজুড়ে ৩২৭ গিগাওয়াট ক্ষমতার নতুন অফশোর উইন্ড প্রোজেক্ট চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই বিশাল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন পরিবারকে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে, যা পুরো মহাদেশগুলোর জ্বালানি চাহিদার সাথে তুলনীয়।

বিশ্বজুড়ে এমন আশাবাদি পূর্বাভাসের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রে এই খাতে উল্লেখযোগ্য মন্দা দেখা গেছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বায়ুকল স্থাপনের হার গত আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। পর্যবেক্ষকরা এই প্রবণতাকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত করছেন, যারা দেশটিতে বায়ুশক্তির প্রসারে বাধা দেওয়ার সক্রিয় চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটনের এই ‘সবুজ রূপান্তর’ থামানোর চেষ্টা বৈশ্বিক প্রবণতাকে রুখতে পারবে না; বিশ্বের বাকি অংশগুলো বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথেই এগিয়ে চলেছে।

প্রতিবন্ধকতা এবং ‘সমাধানযোগ্য সমস্যা’

এমন উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও, এই শিল্প বেশ কিছু অবকাঠামোগত এবং আমলাতান্ত্রিক বাধার সম্মুখীন হচ্ছে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচীকে প্রভাবিত করতে পারে।

"আমরা আগামী এক দশকে এক অভাবনীয় প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করছি, যার ফলে বিশ্বব্যাপী অফশোর বায়ুশক্তির সক্ষমতা চারগুণ বৃদ্ধি পাবে,"—জানিয়েছেন GWEC-এর ডেপুটি সিইও রেবেকা উইলিয়ামস।

তবে উইলিয়ামস সতর্ক করে বলেন যে, এই লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যমান কাঠামোগত বাধাগুলো দূর করা জরুরি। তার মতে, এই খাতে এখনো "অনেকগুলো সমাধানযোগ্য সমস্যা" রয়ে গেছে যা প্রকল্পগুলোর গতি কমিয়ে দিচ্ছে। প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে তিনি দীর্ঘমেয়াদী অনুমোদন ও পরিকল্পনা প্রক্রিয়া এবং বিদ্যমান বিদ্যুৎ গ্রিডগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপের কথা উল্লেখ করেছেন, কারণ গ্রিডগুলো সব সময় এই বিপুল পরিমাণ নতুন বিদ্যুৎ গ্রহণে সক্ষম হয় না। এই বিশেষজ্ঞ জোর দিয়ে বলেন যে, এসব বিলম্ব দ্রুত নিরসন করা কেবল জলবায়ু নীতির জন্যই নয়, বরং বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার খাতিরেও প্রয়োজন।

জলবায়ু ছাড়িয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা

GWEC-এর প্রতিবেদনে এই বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যে, অফশোর বায়ুশক্তি এখন আর কেবল একটি ‘পরিবেশগত’ প্রকল্প নয়, বরং এটি ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন দেশগুলোকে তাদের জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনতে এবং বাহ্যিক অস্থিরতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

"আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর ক্রমাগত নির্ভরশীলতার কারণে গত পাঁচ বছরেরও কম সময়ে আমরা দুটি বড় সংকটের মুখোমুখি হয়েছি,"—মন্তব্য করেছেন রেবেকা উইলিয়ামস। "দেশের উপকূলরেখা বরাবর বায়ুকল নির্মাণ করা ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি থেকে বাঁচার একটি কার্যকর উপায়।"

সারসংক্ষেপ

২০৩৫ সালের মধ্যে অফশোর বায়ুবিদ্যুতের এই চারগুণ বিস্তার কেবল প্রকৌশলগত সাফল্য বা ‘সবুজ’ প্রযুক্তির জয় নয়। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা কাঠামোর একটি মৌলিক পরিবর্তন, যেখানে স্থানীয় এবং লজিস্টিক দিক থেকে নিরাপদ উৎপাদন ব্যবস্থা ধীরে ধীরে আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর রাষ্ট্রীয় নির্ভরতাকে কমিয়ে আনবে। যখন কিছু বাজার কৃত্রিমভাবে এই প্রক্রিয়াকে বাধা দিচ্ছে, তখন চীনের নেতৃত্বে অন্যান্য দেশগুলো ইতিমধ্যেই ভবিষ্যতের জ্বালানির ভিত্তি স্থাপন করছে।

16 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • ГЛОБАЛЬНЫЙ ВЕТРОТЧЕТ 2026

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।