বৈজ্ঞানিক সম্পদ ও সুযোগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য তুলে ধরল ইউনেস্কো

সম্পাদনা করেছেন: Svitlana Velhush

ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ গবেষক কোয়ান্টাম গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে প্রবেশাধিকার পান না। সংস্থার একটি আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সীমাবদ্ধতা আধুনিক প্রযুক্তির পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে সমাজের সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে গবেষণার সুযোগের এই ব্যবধান অত্যন্ত প্রকট, কারণ অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো একেবারেই নেই।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে যে, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি কম্পিউটিং, ক্রিপ্টোগ্রাফি এবং পদার্থবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেও এর উন্নয়ন এখনও মুষ্টিমেয় কিছু দেশের হাতে সীমাবদ্ধ। প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরিতে প্রবেশাধিকার না থাকায় বিজ্ঞানীরা কেবল তাত্ত্বিক গবেষণায় সীমাবদ্ধ থাকতে বাধ্য হচ্ছেন অথবা তাদের বিদেশি কেন্দ্রগুলোর সাথে সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ইউনেস্কো সতর্ক করেছে যে, এই পরিস্থিতির ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিভাবান বিশেষজ্ঞদের মূল্যবান অবদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মানবজাতি।

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোর প্রেক্ষাপটে এই সমস্যাটি বর্তমানে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বৈজ্ঞানিক সম্পদের সীমাবদ্ধতা শুধু উদ্ভাবনকেই বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং এটি বিদ্যমান ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যহীনতাকেও আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। যেসব দেশের হাতে মূল গবেষণা কেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তারা অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে, যেখানে অন্য দেশগুলো উচ্চ-প্রযুক্তি শিল্পের উন্নয়নে পিছিয়ে পড়ছে।

পাশাপাশি ইউনেস্কো দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের সফল উদ্যোগগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে, যেখানে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব এবং বিশ্বাস শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তরে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। এই অঞ্চলে এমন কিছু প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে কাজ করে। এই উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে যে, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্পদের অভাব আংশিকভাবে পূরণ করা এবং জ্ঞানের পরিধি বাড়ানো সম্ভব।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, এই বৈষম্য দূর করতে অবকাঠামোতে বিনিয়োগ এবং বিনিময় কর্মসূচিসহ সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। জাতীয় সরকার থেকে শুরু করে বেসরকারি তহবিল পর্যন্ত বিভিন্ন পক্ষের স্বার্থকে সুযোগের আরও ন্যায়সঙ্গত বণ্টনের লক্ষ্যে সমন্বিত করতে হবে। এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ না করলে ব্যবধান কেবল বাড়তেই থাকবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এক্ষেত্রে মানবিক দিকটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ; সীমিত সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন দেশগুলোর তরুণ বিশেষজ্ঞরা প্রায়ই তাদের সৃজনশীল ধারণা বাস্তবায়নের সুযোগ হারান, যা মেধা পাচার এবং স্থানীয় সম্ভাবনা নষ্ট হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের উদাহরণগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সহায়তা নেটওয়ার্ক এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।

পরিশেষে, বৈজ্ঞানিক সম্পদের অসম বন্টনের বিষয়টি তুলে ধরে ইউনেস্কো বিশ্ব সম্প্রদায়কে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যা বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির ধারায় আরও বেশি মানুষকে সম্পৃক্ত করবে এবং এর মাধ্যমে মানবজাতির সাধারণ সমস্যাগুলোর সমাধান ত্বরান্বিত করবে।

18 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • One in three researchers have no access to quantum research facilities, depriving society of its full potential

  • Trust and partnerships transform education: insights from South-East Europe

মন্তব্য

এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:

iPhone Duo costs almost ₹3,00,000 in India For the price of ONE phone, you could: • Buy a decent second-hand car • Buy a good motorcycles • Buy around 20 grams of gold • Pay a year’s rent in many Indian cities • Sponsor your brother/sister wedding’s catering bill • Buy a

Reply

Instagram’s viral ChatGPT ’80s photo trend is turning modern selfies into realistic retro portraits inspired by 1980s fashion and Bollywood. Users can create the look by uploading a photo to ChatGPT and using a detailed prompt for period-style clothes, hair, lighting and film

Reply
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।