রয়্যাল মেইল বিদ্যুৎ চালিত ব্যবস্থায় দ্রুত এগোচ্ছে: লাল ভ্যানগুলো এখন সবুজ হচ্ছে

সম্পাদনা করেছেন: Svitlana Velhush

রয়্যাল মেইল বিদ্যুৎ চালিত ব্যবস্থায় দ্রুত এগোচ্ছে: লাল ভ্যানগুলো এখন সবুজ হচ্ছে-1

লন্ডনের একটি রাস্তা। একটি লাল রঙের ভ্যান। হাতে পার্সেল নিয়ে একজন পোস্টম্যান।

প্রথম দেখায়—সবকিছু যেন আগের মতোই।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে: ইঞ্জিনের শব্দ প্রায় শোনা যায় না

রয়্যাল মেল ধীরে ধীরে তার বিশাল বিতরণ নেটওয়ার্ককে বিদ্যুতে রূপান্তরিত করছে, এবং বর্তমানে ব্রিটিশ রাস্তায় প্রায় ৯,০০০ ইলেকট্রিক ভ্যান চলাচল করছে।

বিশ্বের প্রাচীনতম ডাক পরিষেবাগুলোর মধ্যে এটি কেবল গাড়ির বহর হালনাগাদ করা নয়।

এটি এক নতুন যুগে সত্যিকারের পদার্পণ।

⚡ ইঞ্জিনের পরিচিত গর্জন ছাড়া ডাক পরিষেবা

রয়্যাল মেইলের লাল ভ্যানগুলো দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটিশ শহুরে দৃশ্যের একটি অংশ হয়ে আছে।

এগুলো সংকীর্ণ রাস্তা, গ্রাম, শহরতলি এবং বড় বড় মহানগরগুলোতে চলে, লক্ষ লক্ষ চিঠি ও পার্সেল পৌঁছে দেয়।

এখন এই ধরনের আরও অনেক গাড়ি বিদ্যুৎ চালিত হচ্ছে।

কোনো নির্গমন গ্যাস ছাড়াই।

জোরে ডিজেলের শব্দ ছাড়া।

এবং সাধারণ ডাক বিতরণে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অনুভূতি নিয়ে।

চিঠিটি একই রয়েছে।

পার্সেলটিও একই রয়েছে।

তবে বাড়ির দরজা পর্যন্ত পৌঁছানোর পথটি উল্লেখযোগ্যভাবে শান্ত ও পরিচ্ছন্ন হচ্ছে।

🔋 ৯,০০০ গাড়ি — এটি আর কোনো পরীক্ষা নয়

প্রথম দিকের ইলেকট্রিক ভ্যানগুলোকে একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা যেত।

কয়েক ডজন গাড়ি — একটি আকর্ষণীয় ধারণা ছিল।

কয়েকশ গাড়ি — সেটি একটি প্রকল্প ছিল।

কিন্তু প্রায় ৯,০০০ ইলেকট্রিক ভ্যান — এটি সত্যিকারের বিশালতা।

রয়্যাল মেইলের কাছে প্রায় ৪১,৫০০ ভ্যান রয়েছে, তাই গাড়ির বহরের বৈদ্যুতিক অংশটি এখন সমগ্র বিতরণ ব্যবস্থার একটি উল্লেখযোগ্য উপাদান হয়ে উঠেছে।

এবং বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই গাড়িগুলো শুধুমাত্র প্রদর্শনী বা উপস্থাপনায় ব্যবহৃত হয় না।

এগুলো প্রতিদিন ডাক পৌঁছে দেয়।

সাধারণ রুটগুলোতে।

সাধারণ মানুষের কাছে।

🌿 যখন পরিবেশবান্ধবতা দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ওঠে

সবচেয়ে আকর্ষণীয় পরিবর্তন তখনই ঘটে যখন নতুন প্রযুক্তিকে আর অস্বাভাবিক মনে হয় না।

কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করার প্রয়োজন হয় না।

যাত্রীদের বোঝানোর প্রয়োজন হয় না যে তাদের সামনে “ভবিষ্যতের পরিবহন” রয়েছে।

শুধু সকালে একটি লাল ভ্যান আসে।

পোস্টম্যান পার্সেলটি নেন।

দরজা বন্ধ করেন।

এবং গাড়িটি নিঃশব্দে এগিয়ে চলে।

এই মুহূর্তেই ইলেকট্রিক পরিবহন সত্যিই দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ওঠে।

🚶 আর মাঝে মাঝে পোস্টম্যানের গাড়ির প্রয়োজনই হয় না

রয়্যাল মেইলের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো: রুটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে হেঁটে সম্পন্ন করা হয়।

সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩১% ডেলিভারি রুটকে নির্গমন-মুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এটি বেশ একটি অস্বাভাবিক সমন্বয় তৈরি করে:

🚶 পোস্টম্যানরা হেঁটে যান;
⚡ ইলেকট্রিক ভ্যানগুলো বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ডাক পরিবহন করে;
📦 পার্সেলগুলো দরজায় পৌঁছাতে থাকে।

প্রযুক্তি পরিবর্তিত হচ্ছে, কিন্তু বিতরণের মূল ধারণাটি আশ্চর্যজনকভাবে সহজ রয়ে গেছে।

🇬🇧 প্রাচীনতম পরিষেবা নতুন ভবিষ্যৎ গ্রহণ করছে

রয়্যাল মেইলের ইতিহাসের বিশেষ সৌন্দর্য এখানেই নিহিত।

শতাব্দী প্রাচীন এই সংস্থাটি তার ঐতিহ্য ত্যাগ করার চেষ্টা করে না।

লাল রঙটি রয়ে গেছে।

ডাক রুটগুলোও রয়ে গেছে।

পরিচিত ভ্যানগুলোও রয়ে গেছে।

শুধুমাত্র হুডের নিচে কী আছে, তা পরিবর্তিত হচ্ছে।

এবং সম্ভবত, সবচেয়ে সফল প্রযুক্তিগত বিপ্লবটি দেখতে এমনই হয়:

যখন চারপাশের সবকিছু অচেনা হয়ে যায় না,

বরং যখন পরিচিত পৃথিবীটি কেবল একটু স্মার্ট, শান্ত এবং পরিচ্ছন্নভাবে কাজ করা শুরু করে।

❤️ লাল রঙটি রয়ে গেছে।

🌿 পদচিহ্ন আরও সবুজ হচ্ছে।

⚡ আর ভবিষ্যৎ এখন ব্রিটিশ রাস্তাগুলোতে পার্সেল পৌঁছে দিচ্ছে।

93 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Royal

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।