গত শনিবার সন্ধ্যায় কোপেনহেগেনের প্রাণকেন্দ্র এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল, যেখানে হাজারেরও বেশি মানুষ সমবেত হয়েছিলেন ১২ জন ব্যক্তির নিখুঁত মালেট চুলের ছাঁটের প্রতিযোগিতা দেখতে।
"সামনে বিজনেস, পেছনে পার্টি" — এই মূলমন্ত্রকে ঘিরেই এবারের সন্ধ্যাটি ছিল ভীষণ জমজমাট। এই প্রতিযোগিতার নেপথ্যে থাকা ৩৭ বছর বয়সী ইলেকট্রিশিয়ান স্টেফেন স্টিভ ওয়েবার চার বছর আগে তার চুল প্রতিস্থাপনের পর এটি শুরু করেন। সাধারণ চুলের পরিবর্তে তিনি মালেট স্টাইল বেছে নেন এবং অনুভব করেন যে এটি বিশেষ কিছু হতে পারে। এরপর থেকেই এই বার্ষিক প্রতিযোগিতাটি স্টাইল এবং অদ্ভুত শখের এক অনন্য উৎসবে রূপ নিয়েছে।
এ বছর মঞ্চে ১২ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন। প্রত্যেক প্রতিযোগীকে ৬০ সেকেন্ড সময় দেয়া হয়েছিল, যেখানে তাদের চুলের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি যেমন মাথা ঘোরানো বা নাচ প্রদর্শন করতে হয়েছে। একজন প্রতিযোগী তো ডেনমার্কের পতাকার নিচে 'ডাবল মানকিনি' পরে জ্যাজারসাইজ নেচে দর্শকদের চমকে দেন। দর্শকরা উল্লাসে মেতে ওঠেন এবং ফোনে পুরো দৃশ্যটি ধারণ করতে থাকেন।
বিজয়ী কেবল খেতাবই জেতেননি, বরং দর্শকদের অকুণ্ঠ ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন যারা সেখানে কেবল চুলের ছাঁট দেখতেই আসেননি। অনেকের জন্যই এটি ছিল ধরাবাঁধা ছক ভেঙে আনন্দ করার এক মোক্ষম সুযোগ। একজন ইলেকট্রিশিয়ানের শখ থেকে শুরু হওয়া এই শো এখন একটি জনপ্রিয় বার্ষিক উৎসবে পরিণত হয়েছে যা হাজার হাজার মানুষকে টানে।
এই যুগে যেখানে ফ্যাশন সব সময় অন্যের দ্বারা নির্ধারিত হয়, ডেনমার্কের এই বাসিন্দারা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে নিজের মতো থাকাই আসল আনন্দ, এমনকি যদি সেই 'নিজেকে' দেখতে সামনে বিজনেস এবং পেছনে পার্টির মতোও হয়।



