বিবিসি-র একজন সাংবাদিক প্যারিসে এক সপ্তাহান্তে রে-ব্যান মেটা এআই চশমা পরীক্ষা করেছেন। কালো ফ্রেমের এই মডেলটি দেখতে সাধারণ চশমার মতো হলেও এতে রয়েছে ক্যামেরা, স্পিকার এবং মেটার এআই সংযোগ। ডিভাইসটিকে পর্যটকদের সহায়ক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে: এটি মেনু অনুবাদ করতে পারে, অডিও গাইড দিতে পারে এবং চলাচলের পথ বাতলে দিতে পারে।
পরীক্ষার সময় এই চশমাটি শহর ভ্রমণের জন্য অডিও নির্দেশনা দিয়েছিল। ব্যবহারকারী বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারতেন এবং বিল্ট-ইন স্পিকারের মাধ্যমে সরাসরি কানে উত্তর শুনতে পেতেন। এর ফলে বারবার ফোন বের করার ঝামেলা এড়ানো গেছে এবং পরিবেশের দিকে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ক্যাফেতে মেনু কার্ড অনুবাদ করা এবং বিভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়ার সুবিধাগুলো বেশ কার্যকর ছিল।
তবে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বেশ কিছু ভুলও করেছে। আইফেল টাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে চশমাটি এর উচ্চতা নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং ভুল তথ্য প্রদান করে। যেখানে নিখুঁত তথ্যের প্রয়োজন, সেখানে এ ধরনের ভুল ডিভাইসের ওপর আস্থা কমিয়ে দেয়। এছাড়া ক্যামেরা এবং ভয়েস কমান্ডের অনবরত ব্যবহারের কারণে ব্যাটারিও দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছিল।
ডিজাইনটি বেশ আঁটসাঁট হলেও এর ফ্রেম সাধারণ চশমার চেয়ে বেশ মোটা। মাত্র একটি ক্লিকের মাধ্যমে ভিডিও এবং ছবি তোলা সম্ভব হলেও ছবির গুণমান স্মার্টফোনের তুলনায় কিছুটা নিম্নমানের। নেভিগেশন এবং অডিও ফিচারগুলো পর্যটকদের জন্য সহায়ক হলেও গোপনীয়তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে: রেকর্ডিং করার সময় এর ইন্ডিকেটরটি অনেক সময় অন্যদের নজরে আসে না।
আগের সংস্করণগুলোর তুলনায় মেটা তাদের এআই ব্যবস্থাপনায় উন্নতি আনলেও উত্তরের নির্ভুলতা এখনো অস্থিতিশীল। গুগল গ্লাস এন্টারপ্রাইজের মতো প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে কর্পোরেট খাতের দিকে নজর দিচ্ছে, সেখানে রে-ব্যান মেটা মূলত সাধারণ গ্রাহকদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে। তবে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এই মডেলের দাম এখনো বেশ চড়া।
সংক্ষিপ্ত ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই চশমাটি স্মার্টফোনের একটি দারুণ বিকল্প হতে পারে, যদি ব্যবহারকারী এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুলভ্রান্তি এবং ঘনঘন চার্জ দেওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে প্রস্তুত থাকেন।
