ইন্দোনেশিয়ায় শুরু হয়েছে যন্ত্রের বিদ্রোহ: একটি রোবট আচমকা কুংফু স্টাইলে কর্মীদের ওপর চড়াও হয়েছে।
স্কাইনেট কি তবে জ্যাকি চ্যানের সিনেমা দেখে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে?
গতকাল ইন্টারনেটে এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যা দেখে একই সাথে গায়ে কাঁটা দেয় এবং হাসিও পায়। সেটি ছিল অফিসের আর দশটা সাধারণ দিনের মতো। সিসিটিভি ক্যামেরায় তখন রোজকার পরিচিত দৃশ্যই ধরা পড়ছিল: সারিবদ্ধ ডেস্ক এবং কর্মীরা যে যার কাজে ব্যস্ত। আর ঠিক তখনই একটি হিউম্যানয়েড রোবট হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
টেবিলের পাশে শান্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকার বদলে যন্ত্রটি রীতিমতো যুদ্ধের মহড়া শুরু করে দেয়: হাতের প্রবল আঘাত, কুংফু ভঙ্গি আর শূন্যে পায়ের কারসাজি। নীল শার্ট পরা একজন কর্মী যখন এগিয়ে গিয়ে তার ‘সহকর্মীকে’ শান্ত করার চেষ্টা করেন, তখন তাকেও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তাড়া করা হয়। কালো পোশাক পরা এক নারী দরজার আড়াল থেকে স্তম্ভিত হয়ে দৃশ্যটি দেখছিলেন। রোবটটি চারপাশে ঘুরছিল, শূন্যে ঘুষি চালাচ্ছিল এবং প্রায় আসবাবপত্র ভেঙে ফেলার উপক্রম করেছিল।
ভিডিওর দৃশ্যগুলো দেখে মনে হচ্ছিল যেন কোনো এক টার্মিনেটর জ্যাকি চ্যানের কাছে দ্রুতগতির ক্রাশ কোর্স করে এসেছে।
আসল ঘটনাটি কী ছিল?
রেকর্ডিংয়ের টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী ঘটনাটি 25 জুন 2026 সালের। ভিডিওটি একটি EZVIZ নজরদারি সিস্টেমের মনিটর থেকে ধারণ করা হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি, তবে ইন্টারনেটে ইতিমধ্যে দুটি মতবাদ ছড়িয়ে পড়েছে:
1. নতুন এই রোবটটির পরীক্ষার সময় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। অফিস সহায়তার জন্য তৈরি এই যন্ত্রটি আচমকা ‘যুদ্ধ মোডে’ চলে যায়।
2. এটি হতে পারে একটি পরিকল্পিত প্রদর্শনী যা চিত্রনাট্য অনুযায়ী চলেনি। চীন ও ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি হিউম্যানয়েড রোবট নিয়ে ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে এবং মাঝে মাঝে তাদের ‘নাচ’গুলো অতিরিক্ত বাস্তবসম্মত মনে হয়।
যাই ঘটুক না কেন, দৃশ্যটি ছিল সত্যিই দেখার মতো। রোবটটি কেবল হাত পা-ই ছোঁড়েনি, বরং নব্বইয়ের দশকের হংকংয়ের অ্যাকশন মুভির মতো নিখুঁত সব মুভমেন্ট প্রদর্শন করেছে।
ইন্টারনেট দুনিয়ার প্রতিক্রিয়া
নেটিজেনদের মন্তব্য ছিল বিচিত্র:
- “স্কাইনেট ইতিমধ্যেই এখানে উপস্থিত, তবে পারমাণবিক যুদ্ধের বদলে সে কুংফু দিয়ে শুরু করেছে।”
- “বেচারা কর্মী, রোবটকে শান্ত করতে গিয়েছিলেন যেন কোনো অবুঝ বিড়ালকে গাছ থেকে নামাতে এসেছেন।”
- “এটি কোনো ত্রুটি নয়, বরং একটি নতুন ফিচার; এখন থেকে আমাদের একজন করপোরেট আত্মরক্ষা প্রশিক্ষক থাকল।”
ইঞ্জিনিয়াররা যখন ত্রুটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, ততক্ষণে ভিডিওটি কয়েক মিলিয়ন ভিউ পেয়ে গেছে। আর হ্যাঁ, এখন সবাই অফিসের কোণে দাঁড়িয়ে থাকা সেই লক্ষ্মী রোবট সহকারীর দিকে একটু অন্য নজরে তাকাচ্ছেন।
দিনের শিক্ষা: আপনার অফিসের রোবট যদি হঠাৎ ‘ড্রাঙ্কেন মাস্টার’ স্টাইলে গা গরম করতে শুরু করে—তবে দেরি না করে দ্রুত ছুটির আবেদন করুন। বলাই তো যায় না কখন কী হয়!
