‘গ্রিন জ্যাকেট’-এর অভিশাপ এখন আনুষ্ঠানিকভাবে কাটল। ১২ এপ্রিল ২০২৬ সালে ররি ম্যাকিলরয় সেই অসাধ্য সাধন করলেন যার জন্য বারো বছর ধরে অপেক্ষা করা হচ্ছিল: তিনি মাস্টার্স খেতাব জিতলেন। এই জয় কেবল তাঁর ট্রফি সংগ্রহই বাড়ায়নি, বরং উত্তর আয়ারল্যান্ডের এই খেলোয়াড়কে গলফ ইতিহাসের সবচেয়ে অভিজাত ক্লাবে স্থান করে দিয়েছে। ররি এখন ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ার ‘গ্র্যান্ড স্ল্যাম’ পূর্ণ করলেন এবং জ্যাক নিকলাস ও টাইগার উডসের মতো কিংবদন্তিদের কাতারে শামিল হলেন।
অগাস্টায় এ বছরের টুর্নামেন্টটি এক স্নায়ুক্ষয়ী দ্বৈরথে পরিণত হয়েছিল। ম্যাকিলরয়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্কটি শেফলার, যিনি তাঁর তৃতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে খেলছিলেন। পুরো ফাইনাল রাউন্ড জুড়ে তাঁদের মধ্যে সমানে সমান লড়াই চলেছে। বিখ্যাত ১২ নম্বর ‘গোল্ডেন বেল’ হোলে খেলার নিষ্পত্তি ঘটে, যেখানে ম্যাকিলরয় শান্ত মেজাজে খেললেও গ্রিনে পৌঁছানোর সময় শেফলার এক বিরল ভুল করে বসেন।
ররির চূড়ান্ত ফলাফল ছিল ১২ আন্ডার পার (-১২)। এটি কোর্সের রেকর্ড না হলেও গত এক দশকের অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও উন্নত মানের পারফরম্যান্স ছিল। ম্যাকিলরয় তাঁর স্বভাবজাত আক্রমণাত্মক ঢং বদলে নিখুঁত পজিশনিংয়ের ওপর জোর দিয়ে এক অভূতপূর্ব ধৈর্য প্রদর্শন করেছেন।
ম্যাকিলরয়ের এই বিজয় কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পুরো গলফ শিল্পের জন্য একটি বড় বার্তা। পিজিএ এবং এলআইভি ট্যুরের মধ্যকার চলমান বিভাজনের মাঝে, ঐতিহ্যবাহী ধারার প্রতি অনুগত থাকা একজন খেলোয়াড়ের এই সাফল্য আবারও সবার মনোযোগ অর্থের অঙ্ক থেকে সরিয়ে খোদ খেলার ওপর নিবদ্ধ করেছে। যদিও বিজয়ীর ৪.০৫ মিলিয়ন ডলারের প্রাইজমানি এটিই স্পষ্ট করে যে গলফকে ঘিরে বাণিজ্যিক আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।
ররির এই জয় কি কোনো নতুন আধিপত্যের শুরু, নাকি এটিই ছিল তাঁর আজীবনের কাঙ্ক্ষিত ‘শেষ শিখর’? যাই হোক না কেন, এই সপ্তাহান্তে আমাদের চোখের সামনেই গলফ ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় রচিত হলো।



