প্রতিটি যুগ শুধু তার ঘটনাগুলোই নয়, বরং তার নিজস্ব সুরও পেছনে ফেলে যায়। কখনও কখনও এই সুর কোনো একক শিল্পীর মাধ্যমে নয়, বরং একাধিক কণ্ঠের মিলনে তৈরি হয়, যা অপ্রত্যাশিতভাবে এক অভিন্ন আবহে মিশে যায়।
LE SSERAFIM, ILLIT এবং KATSEYE-এর যৌথ প্রয়াস 'আইকনিক বাই মিসটেক' ঠিক তেমনই একটি গল্প। বাইরে থেকে দেখলে এটি নতুন প্রজন্মের জনপ্রিয় দলগুলোকে একত্রিত করা এক জমকালো মিউজিক রিলিজ। তবে সঙ্গীত শিল্পের বাইরেও এখানে একটি গভীর প্রশ্ন লুকিয়ে আছে: বর্তমান বিশ্বে কোনো বিষয়কে ঠিক কী অর্থবহ করে তোলে?
গানের শিরোনামটির অনুবাদ হতে পারে 'ভুল করেই আইকন হয়ে ওঠা'। গানের কথা ও দৃশ্যায়নে জনমানুষের মনোযোগ, সোশ্যাল মিডিয়া এবং নিরন্তর পর্যবেক্ষণের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। বিশ্ব ক্রমেই একে অপরের সাথে আরও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে, আর মানুষের মনোযোগ হয়ে উঠছে বর্তমান সময়ের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ।
আজকের দিনে কোটি কোটি মানুষ একসাথে একটি ভিডিও দেখতে পারে, একটি গান নিয়ে আলোচনা করতে পারে কিংবা একটি বিশেষ ঘটনার দিকে নজর রাখতে পারে। আর তখনই এক চমৎকার প্রপঞ্চের সৃষ্টি হয়: কোনো বিষয় যত বেশি মনোযোগ পায়, সাংস্কৃতিক পরিসরে সেটি তত বেশি প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।
তবে এই গল্পটি হয়তো কেবল জনপ্রিয়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
তিনটি মিউজিক ব্যান্ড, তিনটি সৃজনশীল ধারা আর তিন ভিন্ন ধরণের শ্রোতা এই একটি শিল্পকর্মে মিলিত হয়েছে। প্রতিযোগিতার বদলে এখানে গড়ে উঠেছে সহযোগিতা। বিভেদের পরিবর্তে তৈরি হয়েছে এক সম্মিলিত সুর।
প্রকৃতিতে তিনটি উপাদান প্রায়ই একটি টেকসই কাঠামো তৈরি করে। তিনটি বিন্দু মিলে একটি সমতল গঠন করে। তিনটি স্বরের সমন্বয়ে তৈরি হয় একটি কর্ড। তিনটি রঙের মিলনে জন্ম নেয় নতুন সব আভা। সঙ্গীতে বিভিন্ন কণ্ঠের মিলন এমন এক ব্যাপ্তি বা গভীরতা তৈরি করে, যা একা সৃষ্টি করা অসম্ভব।
তাই এই গল্পের আসল মাহাত্ম্য মিউজিক চার্টের সাফল্যের চেয়েও অনেক গভীরে প্রোথিত হতে পারে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মনোযোগের একটি সৃজনশীল শক্তি রয়েছে। আমরা যে বিষয়ের প্রতি মনোনিবেশ করি, তা আমাদের জীবনে ক্রমেই আরও বেশি জায়গা করে নিতে শুরু করে। আর এটি কেবল সঙ্গীতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়।
প্রতিটি দিন মানবজাতি সম্মিলিতভাবে বেছে নেয় তারা কী দেখবে, কী শুনবে, কী নিয়ে আলোচনা করবে আর কোন বিষয়কে তাদের শক্তি দিয়ে সমর্থন জানাবে। এই কোটি কোটি পছন্দের মাধ্যমেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে কোনো একটি যুগের সাংস্কৃতিক পটভূমি।
এই ঘটনাটি বিশ্বের সুরে নতুন কী যোগ করল?
'আইকনিক বাই মিসটেক'-এর এই গল্পটি আমাদের একটি সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে করিয়ে দেয়: মনোযোগ হলো শক্তিরই একটি রূপ। মানুষের প্রাণবন্ত মনোযোগ যা-ই পায়, তা-ই বিকশিত এবং শক্তিশালী হতে শুরু করে। হয়তো এই কারণেই আমাদের সময়ের প্রধান প্রশ্নটি এখন 'বর্তমানে কী জনপ্রিয়?' তা নয়, বরং 'আমাদের মনোযোগ এখন কোন দিকে?' হওয়া উচিত।
সঙ্গীত কেবল সেই উত্তরটি খুঁজে পেতে সাহায্য করে। কেননা প্রতিটি যুগ তার দেখার ভঙ্গি, অনুভব করার ক্ষমতা এবং হৃদয়ের সমর্থন দিয়ে নিজস্ব এক সুর তৈরি করে।



