মিউজিক চার্ট আমাদের সমষ্টিগত পছন্দ সম্পর্কে কী বার্তা দেয়

লেখক: Inna Horoshkina One

মিউজিক চার্ট আমাদের সমষ্টিগত পছন্দ সম্পর্কে কী বার্তা দেয়-1

বিশ্বের মিউজিক চার্টগুলোতে আপত্তিকর শব্দ সংবলিত গানের হার কমে যাওয়াটা স্রেফ সাধারণ কোনো পরিসংখ্যান নয়; বরং আধুনিক সংস্কৃতির ভাষা কীভাবে বদলে যাচ্ছে, তা নিয়ে ভাবার এক বিশেষ সুযোগ।

মাঝে মাঝে সংস্কৃতির সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক পরিবর্তনগুলো তাৎক্ষণিকভাবে চোখে পড়ে না।

এগুলো এমন সব সূক্ষ্ম খুঁটিনাটির মধ্যে লুকিয়ে থাকে, যা প্রথম দেখায় স্রেফ সাধারণ পরিসংখ্যান বলে মনে হতে পারে।

কিন্তু একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করলেই দেখা যায়, এই সংখ্যাগুলোই আস্ত একটি প্রজন্মের গল্প বলতে শুরু করেছে।

মিউজিক বিশ্লেষকরা সম্প্রতি ঠিক এমনই একটি প্রবণতা লক্ষ্য করেছেন।

গত আট বছরে Spotify Top 50-এ আপত্তিকর শব্দ থাকা গানের হার ২০১৮ সালের ৭৪% থেকে কমে ২০২৬ সালে মাত্র ১৩%-এ দাঁড়িয়েছে। গবেষকরা একে কতগুলো আন্তঃসম্পর্কিত কারণের ফলাফল হিসেবে দেখছেন: স্ট্রিমিং কাঠামোর পরিবর্তন, পুরোনো গানের (ক্যাটালগ মিউজিক) ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা, নির্দিষ্ট কিছু ঘরানার একাধিপত্য হ্রাস এবং শ্রোতাদের রুচির পরিবর্তন। এই পরিসংখ্যানটি নিজে থেকে ঘটনার প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা না করলেও, আধুনিক সংগীত সংস্কৃতি কীভাবে বিবর্তিত হচ্ছে তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার একটি আকর্ষণীয় সুযোগ তৈরি করে দেয়।

পরিসংখ্যানের আড়ালে বড় এক আখ্যান

গবেষকদের মতে, শ্রোতাদের মধ্যে ধ্রুপদী বা পুরোনো মিউজিকের প্রতি আগ্রহ ফিরে আসা এর অন্যতম প্রধান কারণ।

বর্তমানে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে নতুন সব হিট গানের পাশাপাশি কয়েক দশকের পুরোনো গানগুলোও প্রায়শই জায়গা করে নিচ্ছে।

চলচ্চিত্র, টিভি সিরিজ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে Fleetwood Mac, Prince, David Bowie, Michael Jackson এবং অন্যান্য শিল্পীদের গানগুলো যেন পুনর্জন্ম পাচ্ছে। কখনও জনপ্রিয় কোনো সিরিজের একটি দৃশ্য বা একটি ভাইরাল ভিডিওর মাধ্যমেই বহু বছর আগে লেখা গান আবারও গ্লোবাল চার্টে উঠে আসতে পারে। জনপ্রিয় সিরিজের নতুন সিজন এবং TikTok-এ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ফলে নতুন করে জনপ্রিয়তা পাওয়া গানগুলোর ক্ষেত্রে ঠিক এমনটিই ঘটেছে।

একই সঙ্গে আধুনিক সংগীতের জনরা বা ঘরানার মানচিত্রও বদলে যাচ্ছে।

২০১০-এর দশকের শেষের দিকে মিউজিক চার্টগুলোতে যেখানে হিপ-হপের প্রাধান্য ছিল, সেখানে আজ শ্রোতাদের মনোযোগ পপ, ইন্ডি, অ্যাফ্রোবিট, কান্ট্রি, ল্যাটিন মিউজিক, ইলেকট্রনিক মিউজিকসহ আরও অনেক ধারায় বিভক্ত হয়ে গেছে।

সংগীতের জগৎ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে।

আর এর হাত ধরেই পপুলার কালচার বা জনপ্রিয় সংস্কৃতির ভাষাও পরিবর্তিত হচ্ছে।

সংগীতের ভাষা যখন বদলে যায়

সংগীত কখনোই মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। এটি মূলত নিজস্ব সময়ের গর্ভে জন্ম নেয়।

এটি সমসাময়িক মেজাজকে ধারণ করে। এটি সময়ের নানা প্রশ্নের উত্তর দেয়।

কখনও এটি হয়ে ওঠে প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর। কখনও — আশার এক অনন্য আশ্রয়স্থল।

সমাজ যে অনুভূতিগুলো সবেমাত্র উপলব্ধি করতে শুরু করেছে, কখনও কখনও সংগীতই সেই অনুভূতির প্রকাশের ভাষা খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

তাই সংগীতের রুচি বা পছন্দের পরিবর্তন সবসময়ই একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া।

শ্রোতারা সংগীতকে প্রভাবিত করেন। সংগীতও শ্রোতাদের ওপর প্রভাব ফেলে।

আর এভাবেই ধীরে ধীরে তাদের মাঝে একটি নতুন সাংস্কৃতিক ভাষার জন্ম হয়।

গবেষকরা যখন আপত্তিকর শব্দ থাকা গানের হার কমার কথা বলেন, তারা মূলত সংগীতের বাজার এবং শ্রোতাদের আচরণের পরিবর্তনই বিশ্লেষণ করেন। তবে এই সংখ্যাগুলোর আড়ালে আরও একটি প্রশ্ন উঁকি দেয়।

মানুষ এখন ঠিক কোন ধরনের গল্প শুনতে বেশি আগ্রহী?

সংগীতের সাথে তারা কোন আবেগগুলোকে লালন করতে বেছে নিচ্ছেন?

গবেষণা বলছে, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সম্পর্ক, আত্ম-গ্রহণযোগ্যতা, আত্ম-অনুসন্ধান এবং আবেগীয় সততার মতো বিষয়গুলো বর্তমানে গানে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। পাশাপাশি, শ্রোতারা সক্রিয়ভাবে গত কয়েক দশকের সংগীতের কাছে ফিরে যাচ্ছেন এবং সেখানে এমন সব অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন যা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

এর মানে এই নয় যে সংগীতের আবেগ কমে গেছে। বরং বিষয়টি ঠিক উল্টো। আবেগ হারিয়ে যায়নি। শুধু তা প্রকাশের ভাষা প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে।

এটি এখন শুধু উচ্চস্বরে কথা বলতে শিখছে না। বরং আরও গভীরভাবে কথা বলতে শিখছে।

তবে এই পুরো প্রবণতাটি বেশ কৌতূহল জাগানিয়া।

বর্তমানের স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে মোট শোনার প্রায় অর্ধেকই হচ্ছে সেই গানগুলো, যা ১৮ মাসেরও বেশি সময় আগে মুক্তি পেয়েছে। এটি এটাই ইঙ্গিত দেয় যে, শ্রোতারা বারবার পরিচিত সুরের কাছেই ফিরে আসছেন এবং সেখানে নিজেদের আবেগের প্রতিফলন খুঁজে পাচ্ছেন।

সম্ভবত, সংগীত আজও সংস্কৃতির অন্যতম সংবেদনশীল ব্যারোমিটার হিসেবে টিকে আছে।

এর কারণ এই নয় যে এটি তৈরি কোনো সমাধান দেয়। বরং এটি কোটি কোটি মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দের প্রতিফলন ঘটায়।

একজন মানুষ তার প্লেলিস্টে যে গানগুলো সংরক্ষণ করেন, তার প্রতিটিই সেই সময়ের সাংস্কৃতিক রুচির একটি সামগ্রিক চিত্র হয়ে ওঠে।


যদি মিউজিক চার্ট সত্যিই সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন হয়, তবে আমাদের সময় বর্তমানে ঠিক কী গল্প বলছে এবং আমরা নিজেরা আমাদের জীবনের অংশ হিসেবে কোন অর্থগুলোকে বেছে নিচ্ছি?

3 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Music with explicit lyrics is in decline, report shows

  • 'Stranger Things' brings Prince and Fleetwood Mac back to the charts

  • Report Says Explicit Lyrics are Down Significantly on Streaming Charts

  • The Habitual Nature of Music Streaming

  • The Impact of Streaming on Catalog Music

  • 13% of Spotify Top 50 Songs Are Explicit, Down 57%, Data Shows

  • How 'Stranger Things' Scored Two Classic Prince Hits For Series Finale

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।