প্যারাগুয়েতে এখন সাজ সাজ রব। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে জার্মানির বিপক্ষে জাতীয় দলের ঐতিহাসিক জয়কে স্মরণীয় করে রাখতে প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০ জুন, ২০২৬ তারিখকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন।
টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান এই অঘটনের পর দেশজুড়ে যে আনন্দ-উল্লাস শুরু হয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত তারই এক যৌক্তিক প্রতিফলন।
ম্যাচটি যেভাবে এগিয়েছিল
প্যারাগুয়ে জাতীয় দল ('আলবিরোজা') এক অবিশ্বাস্য বীরত্ব প্রদর্শন করেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হয়েছিল। পেনাল্টি শ্যুটআউটে প্যারাগুয়ে বেশি নির্ভুলতা দেখিয়ে ৪-৩ ব্যবধানে জয়লাভ করে।
এই ম্যাচের মূল নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল, যিনি প্রতিপক্ষের দুটি পেনাল্টি কিক রুখে দেন। ফুটবলার এবং সমর্থকরা এমনভাবে জয় উদযাপন করেছেন যেন তারা পুরো বিশ্বকাপই জিতে নিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট পেনা ব্যক্তিগতভাবে ৬২৮০ নম্বর ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেন এবং একটি আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেন:
বিশাল প্যারাগুয়ে! আজ পুরো দেশ উদযাপন করছে। তারা এমন একটি জাতীয় দলের বিজয় উদযাপন করছে যা আমাদের পরিচয়ের গভীরতম বৈশিষ্ট্যগুলোকে ফুটিয়ে তোলে: আমাদের সহনশীলতা, বিশ্বাস এবং এমন এক জাতির শক্তি যারা কখনোই হার মানে না। এই অসীম আনন্দের জন্য এবং এক পতাকার নিচে লক্ষ লক্ষ প্যারাগুয়েনকে আবারও ঐক্যবদ্ধ করার জন্য 'আলবিরোজা' তোমাদের ধন্যবাদ। এগিয়ে চলো প্যারাগুয়ে!
দেশের প্রতিক্রিয়া
দেশজুড়ে ব্যাপক আনন্দ মিছিল শুরু হয়, মানুষ পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে আসে, গাড়ির হর্ন বাজিয়ে উল্লাস করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে #GiganteParaguay হ্যাশট্যাগটি তাৎক্ষণিকভাবে শীর্ষে উঠে আসে। প্যারাগুয়ের মতো দেশের জন্য, যারা বিশ্বমঞ্চে শীর্ষ দলগুলোকে খুব কমই হারাতে পারে, এটি সত্যিই একটি জাতীয় পর্যায়ের বড় ঘটনা।
শেষ ১৬-এর লড়াইয়ে 'আলবিরোজা'র পরবর্তী ম্যাচটি হবে ফ্রান্স বনাম সুইডেন ম্যাচের বিজয়ীর বিরুদ্ধে।
যদিও প্যারাগুয়ে এরপর আর সামনে এগোতে পারেনি (প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্স ১-০ ব্যবধানে জয়ী হয়, যেখানে ৭০ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পে পেনাল্টি থেকে গোল করেন), তবুও এই উৎসব ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে।
ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে, যেখানে তারা মরক্কোর মুখোমুখি হবে।



