২০২৬ সালের মে মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশনায় হোয়াইট হাউস প্রশাসন এক অভূতপূর্ব অভিযান শুরু করে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল আনআইডেন্টিফাইড অ্যানোমালাস ফেনোমেনা (UAP) বা অজ্ঞাত মহাজাগতিক ঘটনা সংক্রান্ত গোপনীয় নথিগুলো জনসমক্ষে আনা। প্রতিরক্ষা দপ্তরের পোর্টালে আপলোড করা প্রাথমিক নথিপত্রগুলোর মধ্যে অ্যাপোলো চন্দ্র অভিযানের আর্কাইভ রেকর্ডগুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এগুলো কেবল সাধারণ কোনো ছবি নয়; বরং এমন কিছু বস্তুর চিত্র তুলে ধরে যা দীর্ঘকাল ধরে মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
UFO spotted on NASA Apollo 12 Mission 1969 This is the First of the UFO files release This archival photograph depicts the lunar surface as viewed from the landing site of Apollo 12. This image features a highlighted area of interest slightly to the right of the vertical axis
১৯৬৯ সালের অ্যাপোলো ১২ মিশনের ছবিগুলো বর্তমানে গবেষকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় রয়েছে। চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে মহাকাশচারীদের তোলা সেই ছবিগুলোতে দিগন্তের উপরে উজ্জ্বল বিন্দু এবং অদ্ভুত কিছু কাঠামো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। নাসা-র ঘনিষ্ঠ মহলের কাছ থেকে সংগৃহীত উচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিগুলো এমন কিছু বস্তু প্রদর্শন করে যা পরিচিত মহাকাশ বর্জ্য বা কোনো প্রাকৃতিক ঘটনা বলে মনে হয় না। একইভাবে অ্যাপোলো ১৭ মিশনের নথিতেও এমন সব অসঙ্গতি ধরা পড়েছে যা বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলছে। উল্লেখ্য যে, ১৯৬৯ সালে মানুষের কাছে এমন কোনো প্রযুক্তি ছিল না যা চন্দ্র কক্ষপথে এই ধরনের জটিল কৌশল প্রদর্শন করতে সক্ষম।
🌖 Apollo astronauts landing on the Moon saw unidentified flying objects (UFO) floating nearby on two separate missions, newly released files reveal 🔗: telegraph.co.uk/world-news/202…
এই ছবিগুলো গত কয়েক দশক ধরে প্রচলিত বিভিন্ন গুঞ্জনকে আরও জোরালো ভিত্তি প্রদান করেছে। অ্যাপোলো মিশনের মহাকাশচারীরা বারবার মহাকাশে অদ্ভুত বস্তুর মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর অবশেষে এই রেকর্ডগুলোর একটি অংশ গোপন আর্কাইভ থেকে মুক্ত করা হয়েছে। দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, চন্দ্র অভিযানের সময় ক্রু সদস্যরা অজ্ঞাত বস্তু প্রত্যক্ষ করেছিলেন। নিউজনেশন এনওএএ-র প্রাক্তন প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল টিম গ্যালাউডেট-এর উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে, বর্তমান এই ঘটনাপ্রবাহ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এমনকি অ্যাপোলো ১১ মিশনের সময় বাজ অলড্রিন চাঁদের কাছাকাছি একটি উল্লেখযোগ্য বস্তু দেখার কথা রিপোর্ট করেছিলেন।
এরও আগে, ১৯৬৫ সালে জেমিনি ৭-এর ক্রু সদস্যরা হিউস্টন কন্ট্রোল রুমকে তাদের ঘড়ির কাঁটার ১০টার অবস্থানে একটি বগি বা অজ্ঞাত বস্তুর উপস্থিতির কথা জানিয়ে সতর্ক করেছিলেন। মহাকাশচারীরা গভীর মহাকাশের অন্ধকারের মধ্যে উজ্জ্বল কণা লক্ষ্য করেছিলেন। এই অডিও রেকর্ডিংটি দীর্ঘ ৬১ বছর ধরে গোপন রাখা হয়েছিল, যা এখন সাধারণ মানুষের শোনার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এটি মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক বিরল দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে যা দীর্ঘকাল লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিল।
প্রাক্তন ইউএপি কর্মকর্তা লু এলিজোন্ডো সরাসরি জানিয়েছেন যে, নাসা জনসমক্ষে যা প্রকাশ করেছে তার চেয়ে অনেক বেশি তথ্য তাদের কাছে সংরক্ষিত ছিল। তিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কাছাকাছি ঘটে যাওয়া বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের আসন্ন নথিপত্রের দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই তথ্যের একটি বড় অংশ দীর্ঘ সময় ধরে চেপে রাখা হয়েছিল। এলিজোন্ডো মন্তব্য করেন, জনসাধারণ যখন দেখবে আসলে সেখানে কী ঘটছে, তখন তারা বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে যাবে। তার এই বক্তব্য মহাকাশ গবেষণার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
কেন এই তথ্যগুলো এত দীর্ঘ সময় ধরে গোপন রাখা হয়েছিল? সরকারি ব্যাখ্যায় জাতীয় নিরাপত্তা এবং তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এটি ছিল সচেতনভাবে তথ্য নিয়ন্ত্রণের একটি প্রচেষ্টা। তারা উল্লেখ করেন যে, নাসা কয়েক দশক ধরে দাবি করে আসছিল যে তাদের কাছে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই, অথচ তাদের আর্কাইভেই এই অমীমাংসিত ঘটনাগুলো জমা ছিল। এখন যেহেতু এই উপকরণগুলো পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হচ্ছে, সাধারণ মানুষ অবশেষে নিজেরাই এই ছবি এবং রেকর্ডিংগুলো মূল্যায়ন করার সুযোগ পাচ্ছে।
যদিও এই প্রকাশনাগুলো এই রহস্যময় ঘটনার প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত উত্তর দেয় না, তবে এটি গভীরতর অনুসন্ধানের একটি পথ খুলে দিয়েছে। মহাকাশ সব সময়ই রহস্যের চাদরে ঢাকা ছিল এবং মানুষের চন্দ্র অভিযানের ইতিহাসে এমন অনেক অধ্যায় রয়েছে যা আগে সরকারি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিজ্ঞানী সমাজ এবং মহাকাশপ্রেমীরা প্রতিটি নতুন ফাইল অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিশ্লেষণ করছেন। এই পদক্ষেপগুলো হয়তো শেষ পর্যন্ত আমাদের চন্দ্রপৃষ্ঠের সেই কিংবদন্তি দিনগুলোতে আসলে কী ঘটেছিল, তা বুঝতে সাহায্য করবে।
এই উন্মোচন প্রক্রিয়াটি কেবল অতীতের ঘটনাগুলোর পুনর্মূল্যায়ন নয়, বরং এটি মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন স্বচ্ছতার যুগের সূচনা করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সাহসী পদক্ষেপটি বিশ্বজুড়ে মহাকাশ গবেষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। যখন প্রতিটি নতুন নথি প্রকাশিত হচ্ছে, তখন আমরা বুঝতে পারছি যে মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান কতটা সীমিত। আগামী দিনগুলোতে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা হয়তো মানবজাতির মহাকাশ ভ্রমণের ইতিহাসকে চিরতরে বদলে দেবে।

