২০২৬ সালের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে অজ্ঞাতনামা আকাশমন্ডলীয় ঘটনা (UAP) গবেষণার প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি নতুন গতি পেয়েছে। পেন্টাগন কর্তৃক প্রায় ১৬০-১৬২টি ভিডিও এবং প্রতিবেদন সংবলিত তথ্যের প্রথম বড় কিস্তি প্রকাশের পরপরই এবং জাপানি কর্তৃপক্ষের দ্রুত প্রতিক্রিয়ার পর, এবার ফ্রান্স এই অগ্রযাত্রায় শামিল হয়েছে।
"Œil de Sauron, soucoupes volantes, orbes orange… Pourquoi le Pentagone publie-t-il des documents classifiés sur les #ovnis, et que disent-ils ?" On fera le point au colloque #PAN que j'organiserai à l'Assemblée le 29/6 avec mon collègue Pierre Henriet. 😎franceinfo.fr/monde/usa/il-d…
মার্কিন নথিপত্রগুলোর মধ্যে ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড এলাকার দুটি ঘটনা বিশেষ কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালের DOW-UAP-PR47 হলো প্রায় দুই মিনিটের একটি ইনফ্রারেড ভিডিও, যাতে জাপানের কাছাকাছি তিনটি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ অঞ্চল ধরা পড়েছে। অন্যটি ২০২৪ সালের DOW-UAP-PR46, যা পূর্ব চীন সাগর থেকে ধারণ করা মাত্র ৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও, যেখানে অদ্ভুতভাবে চলমান একটি উপবৃত্তাকার বা ‘ফুটবল’ আকৃতির বস্তু দেখা গেছে।
গত ১১ মে জাপানের প্রধান ক্যাবিনেট সচিব মিনোরু কিহারা নিশ্চিত করেছেন যে, তার সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বয় করে এই নথিপত্রগুলো গুরুত্বের সাথে বিশ্লেষণ করছে। টোকিও প্রতিদিন এ ধরণের ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করার কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা বিবেচনায় ধাপে ধাপে নিজস্ব তথ্য প্রকাশের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।
এখন ফ্রান্সও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে। প্রতিরক্ষা কমিটির সদস্য এবং ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রতিনিধি আর্নৌ সেন্ট-মার্টিন আগামী ২৯ জুন পিএএন (ইউএপির ফরাসি সংস্করণ) বিষয়ে প্রথম সংসদীয় আলোচনার ঘোষণা দিয়েছেন। এই আয়োজনে সংসদ সদস্য ছাড়াও সিএনইএস (জাতীয় মহাকাশ সংস্থা) এবং জেইআইপিএএন-এর (যারা দীর্ঘকাল ধরে মহাকাশীয় ঘটনা নিয়ে কাজ করছে) প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। ‘কল্পনার ওপারের ঘটনা’ শিরোনামের এই আলোচনার পেছনে পেন্টাগনের সাম্প্রতিক তথ্য প্রকাশই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
প্রখ্যাত অনুসন্ধানী সাংবাদিক রস কোল্টহার্ট এবং অন্যান্য পর্যবেক্ষকরা একে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন: জাপানের সতর্ক অবস্থানের পর ইউরোপ এবার সরাসরি সংসদীয় আলোচনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সেন্ট-মার্টিন এর আগেও বিভিন্ন বিজ্ঞান কমিটির পূর্ববর্তী আপত্তি অগ্রাহ্য করে পিএএন সংক্রান্ত ফাইলগুলো পুনরায় খোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
পুরো ঘটনাপ্রবাহ একটি সুনির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা মেনে চলছে। প্রথমে রাষ্ট্রপতির সরাসরি নির্দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সংরক্ষিত তথ্যের ধাপে ধাপে প্রকাশ শুরু করে। এরপর জাপান তাদের উপকূলে ঘটা ঘটনাগুলোর বিশ্লেষণ এবং তথ্য বিনিময়ের প্রস্তুতি জনসমক্ষে নিশ্চিত করে। সবশেষে ফ্রান্স, যারা ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে এই বিষয়ে সবচেয়ে সুশৃঙ্খল পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে, তারা বিষয়টিকে তাদের জাতীয় পরিষদের উচ্চপর্যায়ে নিয়ে এসেছে।
সাধারণ মানুষের কাছে এটি একটি ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়ার শুরু বলে মনে হচ্ছে। কোনো দেশই এখন পর্যন্ত ভিনগ্রহের প্রযুক্তি বা তাদের সাথে যোগাযোগের মতো চাঞ্চল্যকর কোনো দাবি করেনি। তবে পরিচিত প্রযুক্তি, প্রাকৃতিক কারণ বা অন্য দেশের তৎপরতা দিয়ে ব্যাখ্যা করা অসম্ভব—এমন বস্তুগুলো নিয়ে বেশ গুরুত্বের সাথে এবং সতর্কতার সাথে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
এই পুরো পরিস্থিতি অত্যন্ত কৌতূহল উদ্দীপক কারণ এতে উন্নত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা সম্পন্ন বেশ কয়েকটি শক্তিশালী দেশ জড়িত। প্রতিটি নতুন পদক্ষেপ এই বিষয়টিকে ঘিরে থাকা সামাজিক জড়তা কমিয়ে দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সংলাপকে ত্বরান্বিত করছে। এখনই একে বৈশ্বিক কোনো যুগান্তকারী ঘটনা বলা না গেলেও ওয়াশিংটন থেকে টোকিও হয়ে প্যারিস পর্যন্ত এই ধারাবাহিকতা একটি জোরালো অগ্রগতির জানান দিচ্ছে।
আগামী মাসগুলোতে, বিশেষ করে জুনের শেষে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনা সভাটি নির্ধারণ করবে যে বিভিন্ন দেশ তাদের তথ্য প্রকাশ এবং যৌথভাবে অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর খোঁজার ক্ষেত্রে কতটুকু প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



