জাপানি সরকার ইউএপি (UAP) সংক্রান্ত মার্কিন নথিপত্রের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং স্বচ্ছতার লক্ষ্যে নিজস্ব পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে

লেখক: Uliana S

DOW-UAP-PR46, অসমাপ্ত UAP রিপোর্ট, INDOPACOM, 2024

অশনাক্তকৃত আকাশযান বা আনআইডেন্টিফাইড অ্যানোমালাস ফেনোমেনা (ইউএপি) নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন সম্প্রতি একগুচ্ছ ছবি, ভিডিও এবং নথিপত্র প্রকাশ করেছে, যা এই বিষয়ের গুরুত্বকে নতুন করে তুলে ধরেছে। এই নথিপত্রগুলোর মধ্যে এমন কিছু রেকর্ডিং রয়েছে যা জাপানের খুব কাছাকাছি মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড (ইন্ডোপ্যাকম) এর আওতাধীন এলাকায় ধারণ করা হয়েছে। এই প্রকাশনাটি বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো ডিওডব্লিউ-ইউএপি-পিআর৪৭ (DOW-UAP-PR47), যা ২০২৩ সালের একটি অমীমাংসিত ইউএপি প্রতিবেদন। এটি একটি ইনফ্রারেড ভিডিও যার স্থায়িত্ব প্রায় এক মিনিট উনষাট সেকেন্ড। মার্কিন সামরিক প্ল্যাটফর্ম থেকে ধারণ করা এই ভিডিওতে দেখা যায় যে সেন্সর তিনটি ভিন্ন ভিন্ন বিপরীতধর্মী বস্তুকে ট্র্যাক করছে। এই বস্তুগুলো একে অপরের সাপেক্ষে একটি নির্দিষ্ট অবস্থান এবং দিক বজায় রেখে চলছিল। এই ঘটনার স্থান হিসেবে জাপানকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করে।

DOW-UAP-PR47 (অমীমাংসিত UAP রিপোর্ট, INDOPACOM, 2023)

দ্বিতীয় উল্লেখযোগ্য নথিটি হলো ডিওডব্লিউ-ইউএপি-পিআর৪৬ (DOW-UAP-PR46), যা ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদন। এটি পূর্ব চীন সাগর অঞ্চলে ধারণ করা মাত্র নয় সেকেন্ডের একটি সংক্ষিপ্ত ইনফ্রারেড ভিডিও। ভিডিওতে একটি অদ্ভুত বস্তু দেখা যায় যার শরীর অনেকটা ফুটবল আকৃতির এবং এতে তিনটি রেডিয়াল প্রোট্রুশন বা উপবৃদ্ধি রয়েছে। এর মধ্যে একটি লম্বালম্বি এবং অন্য দুটি মূল অক্ষের সাথে ৪৫ ডিগ্রি কোণে নিচের দিকে মুখ করে ছিল। এই ঘটনাটিও জাপানের পার্শ্ববর্তী এলাকায় ঘটেছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই মার্কিন নথিপত্র প্রকাশের পর জাপানের পক্ষ থেকে অত্যন্ত দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। গত ১১ মে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা নিশ্চিত করেছেন যে, তার সরকার আমেরিকার প্রকাশিত এই ভিডিও এবং অন্যান্য উপকরণগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছে। জাপানের এই দ্রুত পদক্ষেপ নির্দেশ করে যে তারা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

সংবাদ সম্মেলনে মিনোরু কিহারা বলেন, আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সাথে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে ইউএপিসহ জাতীয় নিরাপত্তার সাথে জড়িত বিভিন্ন তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করি। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, জাপানের নিজস্ব তথ্য প্রকাশের বিষয়টি নিরাপত্তার দিক বিবেচনা করে প্রতিটি ঘটনার গুরুত্ব অনুযায়ী আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটি স্পষ্ট করে যে জাপান এই স্পর্শকাতর বিষয়ে গোপনীয়তা বজায় রেখে কাজ করতে চায়।

জাপানের এই সরকারি বিবৃতি এমন এক সময়ে এলো যখন দেশটির একটি সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপ ইউএপি নিয়ে বিশেষ গবেষণা চালাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তথ্য প্রকাশের পর, জাপানেও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার এবং তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর উদ্যোগগুলো নতুন গতি পেয়েছে। যদিও নতুন কোনো সুপারিশ বা নির্দেশিকা প্রকাশের নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমান ঘটনাক্রম একটি সুশৃঙ্খল ধারাবাহিকতা অনুসরণ করছে: প্রথমে পেন্টাগন তথ্য প্রকাশ করছে এবং পরবর্তীতে টোকিও জনসমক্ষে সেই তথ্য বিশ্লেষণের বিষয়টি নিশ্চিত করছে। জাপান, যার কাছে অত্যন্ত উন্নত আকাশ ও সমুদ্র পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা রয়েছে, অতীতেও এই অঞ্চলে এমন অনেক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের এই সরকারি মনোযোগ প্রমাণ করে যে ইউএপি বিষয়টি এখন আর কেবল জল্পনা-কল্পনার বিষয় নয়, বরং এটি রুটিন নিরাপত্তা কাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই কোনো চাঞ্চল্যকর বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। ভিডিওতে দেখা বস্তুগুলো এখনও অশনাক্তকৃত রয়ে গেছে। এগুলোকে পরিচিত কোনো বিমান, প্রাকৃতিক ঘটনা বা অন্য কোনো দেশের উন্নত প্রযুক্তির সাথে নিশ্চিতভাবে মেলানো সম্ভব হয়নি। তা সত্ত্বেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক পদক্ষেপ এবং জাপানের দ্রুত সাড়া এই রহস্যময় ঘটনার প্রতি ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক মনোযোগের ইঙ্গিত দেয়।

আগামী মাসগুলোতে তথ্য আদান-প্রদান এবং সম্ভাব্য তথ্য প্রকাশের প্রক্রিয়া কতদূর এগোবে তা দেখার বিষয়। সাধারণ মানুষের কাছে এই ধরনের প্রকাশনা অত্যন্ত আকর্ষণীয়, কারণ বিশ্বের দুটি প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত দেশ অত্যন্ত সংযত কিন্তু উন্মুক্তভাবে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। এই স্বচ্ছতা ভবিষ্যতে মহাকাশ বা আকাশসীমার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন কোনো দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

11 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।