২০২৬ সালের মে মাসে war.gov/UFO পোর্টালে প্রকাশিত তথ্যগুলো বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই প্রকাশনায় মোট ২৮টি সামরিক ভিডিও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার সম্মিলিত দৈর্ঘ্য প্রায় ৪১ মিনিট। এই ভিডিওগুলো মূলত বিভিন্ন যুদ্ধবিমান, জাহাজ এবং অন্যান্য সামরিক প্ল্যাটফর্মে থাকা অত্যাধুনিক ইনফ্রারেড এবং অপটিক্যাল সেন্সরের মাধ্যমে ধারণ করা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ফুটেজগুলো এমন কিছু অমীমাংসিত ঘটনার সাক্ষী, যার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত সক্ষম হয়নি। এই রহস্যময় ঘটনাগুলো আধুনিক বিজ্ঞানের সামনে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রকাশিত ভিডিওগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত এবং ভাইরাল হয়েছে নয় সেকেন্ডের একটি ক্লিপ, যার কোড নাম DOW-UAP-PR46 (INDOPACOM, 2024)। জাপানের আকাশসীমায় ধারণ করা এই ভিডিওতে একটি অদ্ভুত বস্তু দেখা যায়, যাকে সামরিক ভাষায় ফুটবল আকৃতির বডি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই বস্তুটির তিনটি বিশেষ অভিক্ষেপ বা প্রোট্রুশন ছিল—একটি লম্বালম্বিভাবে উপরের দিকে এবং অন্য দুটি ৪৫ ডিগ্রি কোণে নিচের দিকে মুখ করে ছিল। নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় এই বস্তুটির বিচরণ এতটাই বিস্ময়কর ছিল যে, এটি মুহূর্তেই বিশ্বব্যাপী এই প্রকাশনার প্রধান চাক্ষুষ প্রতীকে পরিণত হয়।
পারস্য উপসাগর এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত রেকর্ডগুলোও সমানভাবে চমকপ্রদ। বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে যে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং সামরিক ঘাঁটির আশেপাশে একদল বস্তু ঘোরাফেরা করছে। এই বস্তুগুলোর গতিবিধি কোনো পরিচিত ড্রোন বা বিমানের মতো নয়; বরং এগুলো হঠাৎ তীব্র গতিতে ছুটে চলা, এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকা বা এমন আচরণ প্রদর্শন করে যা কোনো প্রাকৃতিক ঘটনার সাথে মেলে না। ২০১৩ সালের একটি ক্লিপে (DOW-UAP-PR38) ইরাক ও সিরিয়ার আকাশে একটি স্পন্দিত আট-কোণা বস্তুকে চালচলন করতে দেখা যায়, যা দেখতে অনেকটা চাকা বা তারার মতো। এই ফুটেজটি দেখার পর অনেকেই একে বাইবেলে বর্ণিত ওফানিম বা বুক অফ ইজেকিয়েলের আগুনের চাকার সাথে তুলনা করেছেন।
সিরিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ধারণ করা আরও কিছু ভিডিওতে স্বচ্ছ কমলা রঙের আকৃতি এবং বস্তুর ঝাঁক দেখা গেছে, যা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দৃশ্যমান হয়ে আবার মিলিয়ে যায়। সেন্সর অপারেটররা লক্ষ্য করেছেন যে, এই বস্তুগুলোর মধ্যে কোনো ধরনের তাপীয় ইঞ্জিনের অস্তিত্ব বা থার্মাল সিগনেচার ছিল না। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বস্তুগুলো প্রবল বাতাস এবং অ্যারোডাইনামিক্স বা বায়ুগতিবিদ্যার প্রচলিত নিয়মগুলোকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে চলাচল করছিল। এই ধরনের সক্ষমতা বর্তমান প্রযুক্তিতে প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হয় এবং এটি বিশেষজ্ঞদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে।
এই ভিডিওগুলোর বেশিরভাগই ইনফ্রারেড মোডে (ব্ল্যাক-হট বা হোয়াইট-হট) ধারণ করা হয়েছে, যা সেগুলোকে একটি রহস্যময় এবং স্পষ্ট বৈপরীত্য প্রদান করেছে। যদিও এই প্রকাশনায় অন্যান্য ধরণের ফুটেজও রয়েছে, তবে সামরিক গ্রেডের ইনফ্রারেড এবং ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল সেন্সর থেকে প্রাপ্ত তথ্যই এখানে প্রধান। এই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ভিডিওগুলোর গুণমান এবং নির্ভরযোগ্যতা সাধারণ ক্যামেরার তুলনায় অনেক বেশি। এই সেন্সরগুলো মূলত প্রতিকূল পরিবেশে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যা এই রহস্যময় বস্তুগুলোর অস্তিত্বকে আরও জোরালোভাবে প্রমাণ করে।
এই রেকর্ডিংগুলোর বিশেষ গুরুত্বের কারণ হলো, এগুলো কোনো সাধারণ পথচারীর মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়নি। বরং সামরিক গোয়েন্দা ব্যবস্থার মাধ্যমে সক্রিয় মিশন চলাকালীন এগুলো রেকর্ড করা হয়েছে। এই সেন্সরগুলো যারা পরিচালনা করেন, তারা অত্যন্ত প্রশিক্ষিত পেশাদার যারা প্রতিদিন বিমান, ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে কাজ করেন। তাদের দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই এই তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও, প্রতিটি প্রতিবেদনের শেষে একটি বাক্যই বারবার ফিরে এসেছে: পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এটি নির্দেশ করে যে, এই বস্তুগুলো সামরিক রাডার এবং অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের কাছেও সম্পূর্ণ অপরিচিত ছিল।
২০২৬ সালের এই প্রকাশনাটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, কারণ প্রথমবারের মতো এই ভিডিও ক্লিপগুলো একটি সাধারণ পাবলিক-অ্যাক্সেস প্ল্যাটফর্মে সংগ্রহ করা হয়েছে। আগে যা শুধুমাত্র বিশেষজ্ঞ এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একটি ছোট বৃত্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন তা যে কেউ দেখতে পারছেন। যদিও এই ভিডিওগুলো কোনো চূড়ান্ত উত্তর প্রদান করে না, তবে এগুলো এমন শক্তিশালী প্রমাণ দেয় যে আমাদের আধুনিক আকাশে এমন কিছু ঘটছে যা বর্তমান বিজ্ঞান বা প্রযুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। এই অমীমাংসিত রহস্যই এখন বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের মধ্যে তীব্র কৌতূহল এবং আগ্রহের মূল চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
