চীনা প্রকাশনা Sohu-এর তথ্য অনুযায়ী, বার্লিনের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সাইবার হামলার পর প্রায় 1,4 মিলিয়ন প্রশাসনিক ফাইল, যার মোট আয়তন প্রায় 6 টেরাবাইট, ডার্কনেটে চলে গেছে। হ্যাকার গোষ্ঠী Rhysida 30 বিটকয়েন মুক্তিপণ না পেয়ে 4 সেপ্টেম্বর চুরি করা তথ্য উন্মুক্তভাবে প্রকাশ করে।
বার্লিন কর্তৃপক্ষের সরকারি নিশ্চিতকরণ ও সংবাদমাধ্যমের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদন অনুসারে, এই হামলা সেনেটের পরিবহন, জলবায়ু ও পরিবেশ বিভাগের পাশাপাশি নগর উন্নয়ন, নির্মাণ ও আবাসন বিভাগকেও আঘাত করেছে। প্রধান ফাঁস ঘটে 7 ও 12 আগস্টের মধ্যে; 14 আগস্টে সিস্টেমগুলো বিচ্ছিন্ন করা হয়। তথ্য বিশেষায়িত পেশাদার ডেটাবেস থেকে নয়, বরং কর্মীদের শেয়ার করা ফোল্ডার ও ব্যক্তিগত ডিরেক্টরি থেকে নেওয়া হয়েছে।
ফাঁস হওয়া তথ্যে রয়েছে কর্মীসংক্রান্ত নথি, কর্মঘণ্টার হিসাব, বেতনভুক্ত তালিকা, টেলিফোন নম্বর, ঠিকানা, জন্মসনদ ও নথিপত্রের স্ক্যান, সেই সঙ্গে দাপ্তরিক চিঠিপত্র, চুক্তি এবং জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা। কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন: এর অর্থ এই নয় যে বার্লিনের সব বাসিন্দার তথ্য আপোষিত হয়েছে, এবং যিনি কখনো এই বিভাগগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝুঁকির আওতায় পড়েন না।
কর্তৃপক্ষের চলমান বিশ্লেষণ এখনো শেষ হয়নি; 10 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্য সংসদ নির্বাচনের ভোটিং সিস্টেম বা জাতীয় নিরাপত্তার উচ্চপর্যায়ের তথ্য আপোষের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। সূত্র উল্লেখ করেছে, এখন প্রধান হুমকি হলো ‘টার্গেটেড ফিশিং’: অপরাধীরা সরকারি কর্মচারী বা ব্যাংকারের ছদ্মবেশ ধারণ করতে প্রকৃত নাম, ঠিকানা ও যোগাযোগের বিবরণ ব্যবহার করতে পারে।
Sohu-র প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট পরামর্শ দেওয়া হয়েছে: সন্দেহজনক বার্তার লিংকে ক্লিক করবেন না, যাচাইকরণ কোড জানাবেন না, দুই-ধাপের প্রমাণীকরণ চালু করুন এবং তথ্য পরিবর্তনের যেকোনো অনুরোধ সরাসরি বিভাগগুলোর সরকারি ওয়েবসাইটে যাচাই করুন। প্রতারণার শিকার হলে সব প্রমাণ সংরক্ষণ করে Internetwache বা স্থানীয় থানার মাধ্যমে পুলিশের কাছে অভিযোগ করুন।
বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ: Datenschutzvorfall@senmvku.berlin.de — পরিবহন ও জলবায়ু বিষয়ে; Datenschutzvorfall@SenStadt.berlin.de — নির্মাণ ও আবাসন বিষয়ে; Cyberangriff@senatskanzlei.berlin.de — অন্যান্য ক্ষেত্রে। বিপুল সংখ্যক অনুরোধের কারণে উত্তর দিতে দেরি হতে পারে।
মূলত, এই ফাঁস প্রকাশ করে দেয় সরকারি কাঠামোতে এমনকি ‘সাধারণ’ দাপ্তরিক ফোল্ডারগুলোও কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, এবং প্রত্যেক বাসিন্দাকে নিজের তথ্য নিয়ে আরও সতর্ক হতে উৎসাহিত করে।



