মার্কিন নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল দাবি করেছেন: আটলান্টিস বাস্তব, আর পৃথিবী কোনো ‘উচ্চতর বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির’ নজরদারিতে রয়েছে

লেখক: Uliana S

২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের শেষের দিকে, মার্কিন নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল টিমোথি গ্যালোডেট (Timothy Gallaudet) 'দ্য ফ্রি প্রেস' (The Free Press)-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এমন কিছু চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA)-এর প্রাক্তন প্রধান এবং সমুদ্রবিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিত গ্যালোডেট, যিনি দীর্ঘকাল ধরে অজ্ঞাতনামা অস্বাভাবিক ঘটনা বা ইউএপি (UAP) সংক্রান্ত তথ্যের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে আটলান্টিস কোনো রূপকথা নয়, বরং এটি একটি বাস্তব সত্য যা প্রমাণ করা সম্ভব। তার মতে, পৃথিবী দীর্ঘকাল ধরে এক 'উচ্চতর বুদ্ধিমত্তার' নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে, যাদের প্রকৃতি এবং উদ্দেশ্য আজও আমাদের কাছে এক রহস্য হয়ে আছে।

গ্যালোডেট এই বিষয়ে কোনো নবাগত ব্যক্তি নন। তিনি এর আগে একাধিকবার মার্কিন কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং ২০১৫ সালে ইউএসএস রুজভেল্ট (USS Roosevelt) ডেস্ট্রয়ারের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইউএপি সংক্রান্ত তথ্যের যে পরিমাণ জনসাধারণের সামনে আনা হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, যদি সাধারণ মানুষকে পরিচিত তিনটি ভিডিওর পরিবর্তে অন্তত এক হাজার ভিডিও দেখানো হতো, তবে তা এক বিশাল বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসত। তার মূল্যায়ন অনুযায়ী, তথ্যের এই বিশাল ভাণ্ডার জনমানসের চিন্তাচেতনাকে আমূল বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

একজন সমুদ্র গবেষণা বিশেষজ্ঞ হিসেবে অ্যাডমিরাল গ্যালোডেট বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন মহাসাগরগুলোর ওপর। তিনি মনে করেন, সমুদ্রের তলদেশে বা দুর্গম কোনো এলাকায় এই 'উন্নত সভ্যতার' গোপন ঘাঁটি বা তাদের কর্মকাণ্ডের চিহ্ন লুকিয়ে থাকতে পারে। তার এই বক্তব্য আগের জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বিশ্বাস করেন যে, অজানার সাথে আমাদের এই সাক্ষাৎগুলো যতটা ভাবা হয় তার চেয়েও বেশি নিয়মিত ঘটে। গ্যালোডেটের মতে, এটিই হবে একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঘটনা, যা ইতিহাসের অন্য সব ঘটনাকে ম্লান করে দেবে।

তার এই মন্তব্যে ইন্টারনেটে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন এটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সত্য প্রকাশের একটি ধাপ, আবার অনেকে মনে করছেন এটি কোনো শক্ত প্রমাণ ছাড়াই একটি চাঞ্চল্যকর খবর মাত্র। তবে গ্যালোডেট তার দাবির সপক্ষে তার দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা এবং সরকারি পর্যবেক্ষণের তথ্যের ওপর নির্ভর করছেন। তিনি এমন এক 'উচ্চতর বুদ্ধিমত্তার' কথা বলছেন যাদের প্রযুক্তি এবং সক্ষমতা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তারা আমাদের কৌতূহলবশত পর্যবেক্ষণ করছে নাকি সতর্কতার সাথে, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে, তা আমরা এখনও বুঝতে পারিনি।

অবশ্যই, এই ধরণের দাবি সবসময়ই সন্দেহের উদ্রেক করে। আটলান্টিসের ইতিহাস প্লেটোর সময়কাল থেকে চলে আসছে এবং আধুনিক বিজ্ঞান সবসময়ই অকাট্য প্রমাণের দাবি রাখে। তবুও, টিমোথি গ্যালোডেটের মতো একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সমুদ্রবিজ্ঞানী এবং সামরিক ব্যক্তিত্বের কথাগুলো মানুষকে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করে। যদি তার বক্তব্যের সামান্য অংশও সত্য হয়, তবে মানবজাতি মহাবিশ্বে তাদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

যদিও সরকারি সংস্থাগুলো এখনও এই বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছে এবং অনেক তথ্যই গোপন রাখা হয়েছে, তবুও গ্যালোডেটের মতো ব্যক্তিদের কণ্ঠস্বর ধীরে ধীরে জনমতের ধারা পরিবর্তন করছে। এটি কি সত্যিই কোনো বড় সত্যের উন্মোচন হবে নাকি আলোচনার আরেকটি নতুন মোড় মাত্র, তা সময়ই বলে দেবে। তবে প্রশ্নটি ইতিমধ্যেই উত্থাপিত হয়েছে: যদি আমরা একা না হই এবং আটলান্টিসের মতো প্রাচীন সভ্যতাগুলো সত্যিই কোনো চিহ্ন রেখে গিয়ে থাকে, তবে আমাদের ইতিহাসকে কতটা গভীরভাবে পুনর্লিখন করতে হবে?

60 দৃশ্য

এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।