পতঙ্গবিদ্যার জগতে পিঙ্ক ফ্লয়েডের উত্তরাধিকার: যে মাকড়সা দেয়ালকেই শিকারের ফাঁদে পরিণত করেছে

লেখক: Svitlana Velhush

পতঙ্গবিদ্যার জগতে পিঙ্ক ফ্লয়েডের উত্তরাধিকার: যে মাকড়সা দেয়ালকেই শিকারের ফাঁদে পরিণত করেছে-1

২০২৪ সালে পতঙ্গবিদরা আনুষ্ঠানিকভাবে মাকড়সার একটি নতুন প্রজাতির বর্ণনা দিয়েছেন, যারা আক্ষরিক অর্থেই আমাদের শহরের দেয়ালগুলোতে বাস করে। এর সাথে পরিচিত হোন — Pikelinia floydmuraria। এই ক্ষুদ্র শিকারিটি তার নাম পেয়েছে কিংবদন্তি ব্যান্ড দল পিঙ্ক ফ্লয়েড এবং তাদের কালজয়ী অ্যালবাম ‘দ্য ওয়াল’-এর সম্মানে। তবে এই কাব্যিক নামের আড়ালে লুকিয়ে আছে অণুজীব জগতের সবচেয়ে দক্ষ শিকারি কৌশলগুলোর একটি।

পতঙ্গবিদ্যার জগতে পিঙ্ক ফ্লয়েডের উত্তরাধিকার: যে মাকড়সা দেয়ালকেই শিকারের ফাঁদে পরিণত করেছে-1

এই মাকড়সাটি ফিলিস্টাটিডি (Filistatidae) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এর আকার মাত্র কয়েক মিলিমিটার হলেও এটি নিজের ওজনের চেয়ে পাঁচ-ছয় গুণ বড় শিকারকে কুপোকাত করতে সক্ষম। কিন্তু সে এটি কীভাবে করে?

এর গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে ‘ক্রিবেলেট’ রেশমি সুতার মধ্যে। আমাদের পরিচিত আঠালো জালের বিপরীতে, Pikelinia floydmuraria-এর জাল হাজার হাজার অতি সূক্ষ্ম শুকনো সুতা দিয়ে তৈরি যা একটি জটিল কাঠামোয় বিন্যস্ত থাকে। পোকামাকড়ের কঙ্কালের সংস্পর্শে আসামাত্র এই সুতোগুলো অনেকটা মাইক্রোস্কোপিক ‘ভেলক্রো’-এর মতো কাজ করে এবং মুহূর্তের মধ্যে শিকারের পা ও ডানা আটকে ফেলে।

মাকড়সাটি কংক্রিট এবং ইটের দেয়ালের সরু ফাটলে নিজের বাসা তৈরি করে। তার তৈরি এই জালটি কেবল একটি ফাঁদ নয়, বরং এটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সেন্সর। বাইরে সামান্যতম নড়াচড়া হলেই সেই বিশেষ সংকেতটি তার বাসার গভীরে পৌঁছে যায়। গবেষকদের কাছে এটি মানবসৃষ্ট পরিবেশে একটি প্রজাতির মানিয়ে নেওয়ার এক অনন্য উদাহরণ, যেখানে শহরের অবকাঠামোর ত্রুটিগুলোকে তারা নিজেদের সেরা শিকারক্ষেত্রে পরিণত করেছে।

বিষয়টি আমাদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? ভবিষ্যতে এই ধরনের রেশমের গঠন নিয়ে গবেষণা থেকে নতুন ধরনের শুকনো আঠালো উপাদান তৈরি হতে পারে। এটি মূলত বায়োনিক্সের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ: শিল্প এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে প্রকৃতির নিজস্ব কৌশলগুলো অনুকরণ করা। এছাড়াও, এই ‘দেয়ালের মাকড়সাগুলো’ কোনো রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই শহরে পোকামাকড়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক রক্ষক হিসেবে কাজ করে।

বিষয়টি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক, আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন যে প্রতিদিন আমরা যেসব ভবনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাই, সেগুলোর ফাটলে এরকম কত ‘প্রকৌশলগত বিস্ময়’ লুকিয়ে আছে?

বায়োমিমেটিক্সের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতভাবেই এমন বিশেষায়িত প্রজাতির গবেষণার ওপর নির্ভর করছে। সম্ভবত শীঘ্রই আমরা এমন এক ধরনের ধারক বা ক্লিপ তৈরি করতে পারব যা কোনো আঠা ছাড়াই ভারী ওজন ধরে রাখতে সক্ষম হবে, যা কেবল এই ছোট্ট মাকড়সার জাল বুননের কৌশলটি অনুকরণ করে তৈরি করা হবে।

16 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • EurekAlert! (Глобальный агрегатор научных новостей)

  • IFLScience (Популярное научное издание)

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।