বিটকয়েন ৬২ হাজার ডলারের নিচে: কেন অর্ধেকের বেশি সরবরাহ এখন লোকসানে

সম্পাদনা করেছেন: Yuliya Shumai

বিটকয়েনের দাম ৬২ হাজার ডলারের নিচে নেমে আসায় এখন মোট সরবরাহের অর্ধেকেরও বেশি তাদের হাতে রয়েছে, যারা এটি বর্তমান দামের চেয়ে বেশি মূল্যে কিনেছিলেন। এই পরিসংখ্যানটি আপাতদৃষ্টিতে কেবল একটি সংখ্যা মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে হাজার হাজার মানুষের বাস্তব গল্প, যাদের সঞ্চয় হঠাৎ করেই লোকসানের বোঝায় পরিণত হয়েছে।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বিক্রির হিড়িকের পর কেনা দামের চেয়ে কম মূল্যে লেনদেন হওয়া কয়েনের পরিমাণ ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত সূচক নয়। এটি প্রতিফলিত করে যে, যারা ক্রিপ্টোকারেন্সিকে দশকের পর দশক ধরে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন, বাজার কত দ্রুত তাদের সেই প্রত্যাশা বদলে দিতে পারে।

লোকসানের মুখে পড়া অধিকাংশ বিনিয়োগকারীই ২০২৪-২০২৫ সালের সাম্প্রতিক চাঙ্গা বাজারের সময় কয়েন কিনেছিলেন। তখন মনে হয়েছিল যে দাম ১ লাখ ডলারে পৌঁছানো স্রেফ কয়েক মাসের ব্যাপার। কিন্তু বর্তমানে অনেকে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি: হয় লোকসান মেনে নিয়ে সরে আসা, অথবা মূলধনের একটি বড় অংশ এই সম্পদে আটকে রেখে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকা।

প্রতিটি বাজারচক্রেই এই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে। নতুন রেকর্ডের খবর শুনে চরম উত্তেজনার মুহূর্তে মানুষ সম্পদ কেনে এবং পরে দাম পড়ে গেলে পুনরায় লাভের আশায় তা ধরে রাখে। এর পেছনের মনস্তত্ত্ব খুবই সাধারণ: বিক্রি করা মানে নিজের ভুল স্বীকার করা, আর ধরে রাখা মানে আশাকে বাঁচিয়ে রাখা। ঠিক একারণেই সরবরাহের একটি বড় অংশের জন্য লোকসান কাটিয়ে ওঠার সীমা ক্রমেই উঁচুর দিকে সরে যাচ্ছে।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং দীর্ঘমেয়াদী হোল্ডাররা যারা অনেক আগে বাজারে প্রবেশ করেছিলেন, তারা এখনও লাভে রয়েছেন। তবে নতুন ক্রেতাদের আগমনে তাদের সেই আধিপত্য ধীরে ধীরে কমে আসছে, যারা পরে যোগ দিয়ে এখন মূল লোকসানের ভার বইছেন। এভাবে বাজার তাদের কাছ থেকে পুঁজি সরিয়ে নিচ্ছে যারা দ্রুত লাভের আশায় ছিল এবং তা পৌঁছে দিচ্ছে তাদের কাছে যারা আগে বিনিয়োগ করেছিল এবং আতঙ্কে বিচলিত হয়নি।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা যে, ক্রিপ্টোকারেন্সি এখনও 'ডিজিটাল গোল্ড' বা স্বর্ণের মতো নিরাপদ নয়, বরং একটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ হিসেবেই আচরণ করছে। বিটকয়েনে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অন্যান্য সঞ্চয়ের মতো ঠান্ডা মাথায় হিসাব কষা জরুরি: পোর্টফোলিও-র কতটুকু অংশ নিজের জীবনযাত্রায় প্রভাব না ফেলে হারানো সম্ভব তা বুঝতে হবে এবং কেবল একটি খাতের ওপর দ্রুত ধনী হওয়ার আশা সঁপে দেওয়া ঠিক নয়।

পরিশেষে, বাজার আবারও বিনিয়োগকারীদের এই মৌলিক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে যে, ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির আশায় তারা ঠিক কতটা লোকসান সইতে প্রস্তুত।

5 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Bitcoin Selloff Leaves Half of All Supply Trading at a Loss

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।