২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে অত্যন্ত বড় পরিসরে আতশবাজি প্রদর্শনী হবে, যা কুকুর ও বিড়ালের জন্য মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। পশু চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে, প্রাণীরা মানুষের তুলনায় চার গুণ বেশি দূর থেকে বিস্ফোরণের শব্দ ও কম্পন অনুভব করতে পারে, তাই শান্ত ঘরের ভেতরেও তারা প্রচণ্ড মানসিক চাপে ভুগতে পারে।
আমেরিকান ভেটেরিনারি মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এবং অন্যান্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা উৎসবের এই প্রদর্শনগুলোতে কুকুর না নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এমনকি শান্ত স্বভাবের পোষা প্রাণীও ভয় পেয়ে পালিয়ে যেতে পারে। ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে আয়োজিত অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন ইভেন্টের আয়োজকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এসব জায়গা প্রাণীদের জন্য উপযুক্ত নয়।
পোষা প্রাণী যাতে বাইরে যেতে না পারে সেজন্য সব সময় দরজা বন্ধ রাখুন, বিশেষ করে বাড়িতে অতিথি থাকলে বিষয়টি খেয়াল রাখা জরুরি। দরজার ওপর "বাড়িতে কুকুর আছে, দয়া করে দরজা বন্ধ রাখুন" লিখে একটি চিরকুট ঝুলিয়ে দিতে পারেন। গলার বেল্টে থাকা ঠিকানার ট্যাগ ও মাইক্রোচিপ আপডেট আছে কি না নিশ্চিত করুন এবং ফোনে পোষা প্রাণীর সাম্প্রতিক ছবি রাখুন, যা নিখোঁজ হলে তাকে দ্রুত খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। সাধারণত ৫ই জুলাই প্রাণীদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে, কারণ এই দিনে প্রচুর পোষা প্রাণী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
আতশবাজি শুরু হওয়ার আগে আপনার পোষা প্রাণীকে কিছুটা শারীরিক কসরত করান, কারণ ক্লান্ত হয়ে থাকলে বিস্ফোরণের শব্দের মধ্যেও তাদের ঘুমিয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। উৎসব শেষ হওয়ার পর আঙিনাটি ভালো করে পরীক্ষা করে দেখুন কোনো আতশবাজির অবশিষ্টাংশ রয়ে গেছে কি না, কারণ কৌতূহলী প্রাণীরা সেগুলো খেয়ে ফেলতে পারে।
প্রতিটি পোষা প্রাণীর স্বভাব ভিন্ন হয়, তাই তাদের শান্ত রাখার ওষুধ বা 'থান্ডার-শার্ট'-এর মতো বিশেষ পোশাক (যা শরীরের ওপর আরামদায়ক চাপ তৈরি করে) ব্যবহারের বিষয়ে আগেভাগেই পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পোষা পাখির ক্ষেত্রে ধোঁয়ার প্রতি তাদের অতিরিক্ত সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
ঘরের জানালা ও দেয়াল থেকে দূরে বাড়ির একেবারে মাঝখানের কোনো জায়গায় একটি নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করুন। সেখানে তাদের প্রিয় খেলনা রাখুন, শান্ত সুরের সংগীত বা টিভি চালিয়ে দিন এবং নিজে পোষা প্রাণীর কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করুন। এই সাধারণ পদক্ষেপগুলো তাদের উদ্বেগ কমাতে এবং ঘরের পরিবেশ শান্ত রাখতে সাহায্য করবে।



