এবিপি লাইভ (ABP Live) সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যাতে পোষা বিড়ালের আয়ু বাড়ানোর জন্য ছয়টি সহজ অথচ কার্যকর উপায়ের কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি বিষয় সরাসরি পোষা প্রাণীর স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ুর ওপর প্রভাব ফেলে: সঠিক যত্নে পোষা বিড়াল সাধারণত ১২ থেকে ১৭ বছর বাঁচে, তবে আদর্শ পরিবেশে অনেক সময় তারা ২০ বছর বা তার বেশি সময়ও বেঁচে থাকতে পারে।
১. সঠিক পুষ্টি — দীর্ঘায়ুর মূল ভিত্তি
প্রোটিন, টাউরিন, ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ সুষম খাবার হলো বিড়ালের সুস্বাস্থ্যের ভিত্তি। বিড়াল মূলত মাংসাশী প্রাণী হওয়ায় তাদের খাদ্যতালিকায় প্রচুর প্রোটিনের প্রয়োজন: প্রোটিন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান টাউরিনের (যা বিড়াল নিজে তৈরি করতে পারে না) অভাবে হৃদরোগ, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। উন্নত মানের খাবার প্রাণীর ওজন ঠিক রাখে, স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং লিভারের রোগের ঝুঁকি কমায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য অসংখ্য রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।
২. পর্যাপ্ত ও বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করা
বিড়াল প্রকৃতিগতভাবেই খুব কম পানি পান করে: বন্য পরিবেশে তারা সাধারণত শিকার থেকেই শরীরের প্রয়োজনীয় তরল পেয়ে থাকে এবং আলাদা করে পানি পান করার প্রবণতা তাদের কম। তবে গৃহপালিত বিড়ালের ক্ষেত্রে এটি সমস্যার কারণ হতে পারে। বিড়ালের জন্য সবসময় পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত জরুরি (দৈনিক প্রতি কেজি ওজনের জন্য প্রায় ৬০–৮০ মিলি পানি প্রয়োজন): এটি বৃক্ক (কিডনি) এবং মূত্রনালীর কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখে এবং মূত্রপাথরী বা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের মতো জটিলতা প্রতিরোধ করে।
৩. নিয়মিত পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
বিড়াল তাদের শারীরিক অসুস্থতা লুকিয়ে রাখতে দক্ষ: তারা স্বভাবগতভাবেই দুর্বলতা প্রকাশ করে না, যার ফলে মালিক যখন সমস্যা বুঝতে পারেন, ততক্ষণে রোগটি বেশ জটিল হয়ে পড়ে। প্রতি ৬ থেকে ১২ মাসে একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে (৭ বছরের বেশি বয়সী বিড়ালের ক্ষেত্রে প্রতি ৬ মাসে একবার) লুকানো অসুখগুলো প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়ে। এছাড়াও, নিয়মিত টিকাদান এবং কৃমি ও অন্যান্য পরজীবী থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করলে বিড়াল প্যানলিউকোপেনিয়া, ক্যালিসিভাইরাস, রাইনোট্রাকাইটিস এবং জলাতঙ্ক রোগের মতো মারাত্মক সংক্রমণ থেকে রক্ষা পায় এবং শরীরে শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে।
৪. দৈনিক শারীরিক পরিশ্রম বা খেলাধুলা
প্রতিদিন মাত্র কয়েক মিনিটের সক্রিয় খেলাধুলা বিড়ালের জন্য কেবল বিনোদন নয়, বরং একটি প্রয়োজন। শারীরিক কসরত বিড়ালের মাংসপেশির গঠন ঠিক রাখে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে (স্থূলতা পোষা প্রাণীর আয়ু ১–২ বছর কমিয়ে দিতে পারে), একঘেয়েমি দূর করে এবং তাদের শিকারি প্রবৃত্তিকে সচল রাখে। যেসব বিড়াল প্রচুর দৌড়ঝাঁপ এবং খেলাধুলা করে, তারা অলস বিড়ালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশিদিন বাঁচে। বয়সের সাথে সাথে মানসিক তীক্ষ্ণতা বজায় রাখার জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক উদ্দীপনা (যেমন ইন্টারেক্টিভ খেলনা, কোনো কিছুতে চড়া বা নতুন কিছু অন্বেষণ) সমান গুরুত্বপূর্ণ।
৫. নিয়মিত যত্ন বা গ্রুমিং
লোম আঁচড়ানো, নখ কাটা এবং চামড়া পরীক্ষা করা কেবল পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়। গ্রুমিংয়ের সময় আপনি বিড়ালের শরীরে কোনো অস্বাভাবিক পিণ্ড, ক্ষত, লালচে ভাব, লোম পড়ে যাওয়া বা পরজীবীর উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারেন, যা নিজে থেকেই ক্ষতিকর হতে পারে অথবা বড় কোনো সমস্যার সংকেত দিতে পারে। তাছাড়া, নিয়মিত যত্ন বিড়াল এবং তার মালিকের মধ্যে মানসিক বন্ধন দৃঢ় করে, প্রাণীর মানসিক চাপ কমায় এবং তার মনে বিশ্বাসের জন্ম দেয়।
৬. শান্ত এবং নিরাপদ ঘরোয়া পরিবেশ
বিড়াল অভ্যাসের দাস এবং তারা স্থিতিশীল পরিবেশ পছন্দ করে। অনবরত এবং অপ্রত্যাশিত মানসিক চাপ (গোলমাল, অস্থিরতা, রুটিনে পরিবর্তন) তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয় এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। একটি শান্ত ও গোছানো পরিবেশ, আরামদায়ক বিশ্রামের জায়গা, উচ্চশব্দের অনুপস্থিতি এবং সর্বোপরি নিয়মিত আদর ও মনোযোগ বিড়ালের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করে, যা কেবল তাদের মানসিক প্রশান্তিই নয়, বরং শারীরিক স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ুর ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলে।
এই সবকটি বিষয় আলাদাভাবে নয় বরং সম্মিলিতভাবে কাজ করে। বিড়ালের যত্নে আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই: এই ছয়টি কাজ প্রতিদিন নিয়মানুযায়ী পালন করাই যথেষ্ট। এর ফলে আপনার প্রিয় বিড়ালটি দীর্ঘ বছর ধরে আপনার পাশে সুস্থ, প্রাণবন্ত এবং সক্রিয় থাকবে এবং আপনি পাবেন একজন বিশ্বস্ত সঙ্গী যে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত আপনার জীবনকে আনন্দময় করে তুলবে।



