জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে দশ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে অস্ট্রেলিয়া

সম্পাদনা করেছেন: Svitlana Velhush

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে দশ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে অস্ট্রেলিয়া-1

অস্ট্রেলিয়া সরকার অতিরিক্ত কৌশলগত জ্বালানি মজুদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে দেশের ন্যূনতম জ্বালানি মজুদ প্রায় দশ দিনের ব্যবহার উপযোগী পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগটি প্রমাণ করে যে, দেশটি আমদানিকৃত পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর তার নির্ভরশীলতা কতটা প্রবলভাবে অনুভব করছে।

অস্ট্রেলিয়া প্রচুর পরিমাণে কয়লা ও গ্যাস রপ্তানি করলেও পরিবহন ও শিল্প খাতের জন্য পরিশোধিত জ্বালানির ক্ষেত্রে দেশটি মূলত আমদানির ওপরই নির্ভরশীল। বর্তমান মজুদ কেবল স্বল্প সময়ের চাহিদা মেটাতে সক্ষম, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে যেকোনো বিঘ্ন ঘটলে অর্থনীতির জন্য সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করে। লজিস্টিক চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হলে পরিবহন কোম্পানি, কৃষক এবং শিল্পকারখানাগুলো দ্রুতই সংকটের মুখে পড়তে পারে।

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিগত সংকটগুলো থেকে শিক্ষা নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর সংঘাত এবং অতিমারির সময়ে লজিস্টিক ব্যবস্থার বিপর্যয় গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো থেকে পণ্য সরবরাহের নাজুক অবস্থাকেই স্পষ্ট করে তুলেছে। জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে মজুদ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।

বরাদ্দকৃত অর্থ নতুন মজুদাগার নির্মাণ এবং সরবরাহকারীদের সাথে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির কাজে ব্যয় করা হবে। এর ফলে ন্যূনতম জ্বালানি মজুদের পরিমাণ দশ দিন বাড়বে এবং অন্যান্য উন্নত দেশের গৃহীত মানদণ্ডের কাছাকাছি পৌঁছাবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগলেও এর ইতিবাচক প্রভাব অচিরেই অনুভূত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই অতিরিক্ত দশ দিনের গুরুত্ব বোঝার জন্য সিঙ্গাপুর বা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে হঠাৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি কল্পনা করাই যথেষ্ট। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিদিনের জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ কয়েক মিলিয়ন লিটার, তাই পর্যাপ্ত মজুদ না থাকলে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যবস্থা অচল হয়ে অল্প সময়েই শত কোটি ডলারের ক্ষতি হতে পারে।

এই প্রকল্পের অর্থায়ন আসবে রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে, যা অন্যান্য খাত বা করের বোঝার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এই উদ্যোগের সমর্থকরা বলছেন যে, বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দা ঠেকাতে এই ব্যয় যুক্তিযুক্ত এবং শিল্প সমিতিগুলো ইতিমধ্যে সমর্থন জানিয়েছে; যদিও কিছু বিশেষজ্ঞ অর্থের সঠিক ব্যবহারের জন্য আরও বিস্তারিত পরিকল্পনার তাগিদ দিয়েছেন।

পরিশেষে, অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্তটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে কৌশলগত সম্পদ সংরক্ষণের বৈশ্বিক প্রবণতাকেই প্রতিফলিত করে এবং এটি বাহ্যিক ধাক্কা থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করতে চাওয়া অন্যান্য দেশগুলোর জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে।

38 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • More than $10 billion to boost fuel supplies and emergency stockpiles

  • Australia commits $7 billion to boost fuel stockpiles

এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:

"Staggering 90% of biomedical papers now show signs of AI help": Only those who never tried the latest frontier LLMs & are unaware of how good they are must be surprised by this. Soon this will sound as daft as those who opposed the introduction of computers or calculators...

nature
nature
@Nature

The use of AI to write scientific papers could be much more prevalent than was previously thought go.nature.com/4cANxOn

Reply

🚨 NSW Supreme Court just told the state to calm down 👏 Judge rejects putting a guy on a terror watch list over “F*k Israel” graffiti, and calls out the prosecution for treating every Jew as a monolithic Israel fanclub. “You are treating all Jews as monolithic… a statement of

Image
Reply
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।