"একবার আমার স্ত্রী তার ক্রেডিট কার্ড হারিয়ে ফেলেছিলেন। আমার মনে আছে, আমি সেটি ফেরত পাওয়ার জন্য কোনো চেষ্টাই করিনি, কারণ যে ব্যক্তিটি সেটি পেয়েছিলেন তিনি নিশ্চিতভাবেই আমার স্ত্রীর চেয়ে কম খরচ করছিলেন," — মার্কিন বিনিয়োগকারী এবং বিলিয়নেয়ার ওয়ারেন বাফেট

লেখক: Svitlana Velhush

আমার প্রথম স্ত্রী আমার ক্রেডিট কার্ডটি হারিয়ে ফেলেছে এবং আমি সেটি ফিরে পাওয়ার কোনো চেষ্টা করি নি, কারণ ঐ লোকটি সে যেটা খরচ করেছে তার চেয়ে কম খরচ করেছে।

কিংবদন্তি বিনিয়োগকারী এবং বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ওয়ারেন বাফেট কেবল তার অসাধারণ বিনিয়োগ কৌশলের জন্যই পরিচিত নন, বরং তার প্রখর রসবোধের জন্যও সমাদৃত। তার সবচেয়ে স্মরণীয় কৌতুকগুলোর একটি ফরচুন মোস্ট পাওয়ারফুল উইমেন সামিটে (Fortune Most Powerful Women Summit) এক সাক্ষাৎকারের সময় বলা হয়েছিল।

ক্রেডিট কার্ড নিয়ে সেই গল্প

ফরচুন সাংবাদিক ক্যারল লুমিসের সাথে আলাপকালে যখন ব্যক্তিগত অর্থায়নের প্রসঙ্গটি আসে, তখন বাফেটকে একটি পুরোনো ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে, কীভাবে তার স্ত্রী তার ক্রেডিট কার্ডটি হারিয়ে ফেলেছিলেন। বিলিয়নেয়ারের সেই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া উপস্থিত সবার মাঝে হাসির রোল ফেলে দিয়েছিল।

"ও হ্যাঁ, আমার প্রথম স্ত্রী একবার আমার ক্রেডিট কার্ডটি হারিয়ে ফেলেছিলেন," বাফেট শান্তভাবে উত্তর দেন। তিনি রসিকতা করে বলেন, "আমি এমনকি সেটি ফিরে পাওয়ার চেষ্টাও করিনি, কারণ যে লোকটি কার্ডটি খুঁজে পেয়েছিলেন, তিনি স্পষ্টতই আমার স্ত্রীর চেয়ে অনেক কম খরচ করছিলেন।"

গল্পের প্রেক্ষাপট

এই সাক্ষাৎকারটি ফরচুন মোস্ট পাওয়ারফুল উইমেন সামিটে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মিতব্যয়িতা এবং সাধারণ জীবনযাপনের জন্য পরিচিত বাফেট সেখানে নিজের স্বভাবজাত আত্ম-বিদ্রূপাত্মক রসবোধ প্রদর্শন করেছিলেন।

এই কৌতুকটি বেশ কয়েকটি কারণে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ:

১. আর্থিক প্রজ্ঞা

হাসি-ঠাট্টার ছলেও বাফেট অর্থের প্রতি তার বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন — যদি কেউ আপনার তুলনায় কম খরচ করে, তবে সেটিই আর্থিক দিক থেকে লাভজনক।

২. আত্ম-বিদ্রূপ

অগাধ সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও, বাফেট নিজের জীবন এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে জনসমক্ষে রসিকতা করতে কখনোই দ্বিধাবোধ করেননি।

৩. অর্থের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি

এই কাহিনীটি স্পষ্ট করে যে, বাফেটের কাছে কেবল আনুষ্ঠানিক মালিকানার চেয়ে অর্থের যৌক্তিক ও পরিমিত ব্যবহার অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বাফেটের ব্যক্তিগত জীবন

ওয়ারেন বাফেট ১৯৫২ সালে সুসান বাফেটের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৭৭ সালে তারা আলাদা হয়ে গেলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। সুসান সান ফ্রান্সিসকোতে চলে যান এবং ওয়ারেন অ্যাস্ট্রিড মেঙ্কসের সাথে থাকতে শুরু করেন, যাকে তিনি ২০০৪ সালে সুসানের মৃত্যুর পর বিয়ে করেন।

এই কৌতুকে মূলত সুসান বাফেটের কথাই বলা হয়েছিল।

  • - মূল সাক্ষাৎকারটি ফরচুন মিডিয়া কর্তৃক ধারণ করা হয়েছিল
  • - ফরচুন মোস্ট পাওয়ারফুল উইমেন সামিট নিয়মিতভাবে গণমাধ্যমে গুরুত্বের সাথে কভার করা হতো

বাফেটের উত্তরাধিকার

এই কাহিনীটি বাফেটের সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত কৌতুকগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে কৌতুক করার সময়ও এই মহান বিনিয়োগকারী নিজের আদর্শে অবিচল থাকেন — অর্থাৎ তিনি বাস্তববাদী, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন এবং জীবন সম্পর্কে সত্য কথা বলতে কুণ্ঠাহীন।

বাফেটের অন্যান্য উক্তির মতো এই কৌতুকটিও আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রজ্ঞা মানেই সবসময় গম্ভীর হতে হবে এমন নয় — কখনও কখনও জীবনের সেরা শিক্ষাগুলো হাস্যরসের মাধ্যমেই পাওয়া যায়।

176 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • optionsswing

এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:

"Mi mirada está muy lejos de esta idea mal expresada del #cientificidio”, dice hoy a @infobae el presidente del #CONICET. Aquí le aclaramos a @DanielSalamone, por si aún no entendió, qué es el #cientificidio que su gobierno ejecuta sobre el sistema científico argentino . 👇

La Nacion Más
La Nacion Más
@lanacionmas

🔷 “Estamos viviendo un cientificidio” Movilización en el Obelisco en defensa de la ciencia y en reclamo de mayor presupuesto. 📌 LN+

Reply
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।