ওয়াশিংটনে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পদগুলোর নিয়োগ নিয়ে প্রায়ই তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়, সেখানে মার্কিন সিনেট ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমের চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ারশ-র মনোনয়ন অনুমোদন করেছে। রয়টার্স এবং এপি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৩ মে অনুষ্ঠিত এক ভোটাভুটির মাধ্যমে ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর বোর্ডের এই সাবেক সদস্যের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়।
২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পরিচালনা পর্ষদে দায়িত্ব পালন করা ওয়ারশ মূলত কঠোর মুদ্রানীতির পক্ষে তার অবস্থানের জন্য সুপরিচিত। বিভিন্ন সূত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি যখন দ্রুত বাড়ছে, ঠিক তখনই তার এই নিয়োগ কার্যকর হলো, যার ফলে সুদের হারের বিষয়ে নতুন প্রধানকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
রয়টার্স জোর দিয়ে বলেছে যে, কংগ্রেসে বর্তমান উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও ওয়ারশ-র অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এপি নিউজ জানিয়েছে, ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট পরবর্তী সময়সহ বিভিন্ন সংকটকালীন পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে প্রার্থীর অভিজ্ঞতার ওপর সিনেটররা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। সম্ভবত এই অভিজ্ঞতাই তার নিয়োগের পেছনে প্রধান নির্ধারক হিসেবে কাজ করেছে।
ওয়ারশ-র এই নিয়োগ মূলত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ নিয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্যকে প্রতিফলিত করে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিষেবার দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে নতুন এই প্রধান সম্ভবত ধীরে ধীরে নীতি কঠোর করার দিকে মনোনিবেশ করবেন।
বিশ্ববাজারের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তের ফলে মুদ্রা বিনিময় হার এবং মূলধন প্রবাহের ওপর মার্কিন মুদ্রানীতির প্রভাব আরও শক্তিশালী হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, বিশ্ব বাণিজ্যে বিদ্যমান অনিশ্চয়তার মাঝে ওয়ারশ-র নেওয়া পদক্ষেপগুলো অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সিদ্ধান্তের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
পরিশেষে, কেভিন ওয়ারশ-র এই মনোনয়ন প্রমাণ করে যে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলাকেই যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।



