সমুদ্রের বিশালতা: সেলফোর্থ ২৫০ হারবার স্পেক্টাকল। এই মুহূর্তে নিউ ইয়র্ক কিসে মাতোয়ারা?

লেখক: Svitlana Velhush

দেখুন: Sail4th 250 ইভেন্ট আমেরিকার ২৫০তম জন্মবার্ষিকীর জন্য

গ্রীষ্মের নিউ ইয়র্ক কেবল একটি শহর নয়, বরং এটি একটি মানসিক অবস্থা। যখন থার্মোমিটারের পারদ চড়তে থাকে, রাজপথের পিচ গলতে শুরু করে আর গগনচুম্বী অট্টালিকাগুলো গোধূলির আলোয় ঝিকমিক করে ওঠে, তখন পুরো শহরটাই যেন এক বিশাল মঞ্চে রূপ নেয়। বিগ অ্যাপল বা নিউ ইয়র্কের জুলাই মাস মানেই দেশপ্রেমের জোয়ার, হলিউডি নস্টালজিয়া আর অফুরন্ত গ্রীষ্মকালীন সন্ধ্যার হাতছানি।

সেলফোর্থ ২৫০ হারবার স্পেক্টাকল (Sail4th 250 Harbor Spectacle)

আমেরিকার বন্দরগুলোর ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহৎ এবং মনোমুগ্ধকর আয়োজন। আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণার ২৫০ বছর পূর্তির বর্ণাঢ্য উদযাপন উপলক্ষ্যেই এই নৌ-প্যারেডের আয়োজন করা হয়েছে।

* এটি কী: অর্কেস্ট্রার সুর আর আতশবাজির ঝলকানিতে নিউ ইয়র্ক উপসাগরের বুক চিরে এগিয়ে চলা শত শত পালতোলা নৌকা, ঐতিহাসিক জাহাজ, রণতরী এবং ব্যক্তিগত ইয়টের এক বিশাল মিছিল।

* কখন: এর নির্ধারিত সময় ৩ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত হলেও, পুরো মাসজুড়েই বন্দর এলাকায় উৎসবের আমেজ ও রেশ বজায় থাকে।

* কোথায় দেখবেন: আপনি কি নিখুঁত সব ছবি তুলতে চান? তবে স্ট্যাচু অফ লিবার্টির দৃশ্য দেখতে চলে যান ব্যাটারি পার্কে (Battery Park), ম্যানহাটনের প্যানোরামা দেখতে যান ব্রুকলিন ব্রিজ পার্কে (Brooklyn Bridge Park), অথবা বিনা খরচে স্টেট আইল্যান্ড ফেরিতে (Staten Island Ferry) চড়ে বসুন।

* আমেজ: চুলে বাতাসের ঝাপটা, মাস্তুলের ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ, ভাজা পপকর্নের ঘ্রাণ আর এক অভূতপূর্ব একাত্মতার অনুভূতি। এটি হলো মার্কিন দেশপ্রেম আর সমুদ্রের রোমাঞ্চের এক অনন্য সংমিশ্রণ।

তারার নিচে সিনেমা: পার্কগুলোতে নস্টালজিয়া

গুমোট সিনেমা হলের কথা ভুলে যান। গ্রীষ্মের এই সময়ে নিউ ইয়র্ক চলচ্চিত্রকে ঘরের বাইরে নিয়ে আসে এবং পার্কের সবুজ ঘাসগুলোকে পরিণত করে একেকটি বিশাল প্রেক্ষাগৃহে। ‘প্যারামাউন্ট প্লাস মুভি নাইটস’ (Paramount+ Movie Nights) এবং শহরের অন্যান্য উদ্যোগগুলো দর্শকদের জন্য জাদুকরী সব সন্ধ্যা উপহার দিচ্ছে।

* প্রধান আকর্ষণ: মৌসুমের শুরুতেই থাকছে নব্বই দশকের কাল্ট কমেডি সিনেমা ‘ওয়েনস ওয়ার্ল্ড’ (Wayne’s World)। এর প্রদর্শনী শুরু হবে ১৩ জুলাই ব্রায়ান্ট পার্কে (Bryant Park)। চমৎকার সাউন্ডট্র্যাক, ট্রেডমার্ক হাস্যরস আর স্বাধীনতার আমেজ—একটি নিখুঁত মঙ্গলবার কাটানোর জন্য আর কী লাগে?

* স্থানসমূহ: ব্রায়ান্ট পার্ক, সেন্ট্রাল পার্ক এবং ব্রুকলিন ব্রিজ পার্ক। শহরের আইকনিক সব দৃশ্যের সামনেই বড় পর্দাগুলো বসানো হয়।

* জরুরি টিপস: এখানে প্রবেশ সাধারণত বিনামূল্যে (অথবা অনুদানের বিনিময়ে)। সিনেমা প্রদর্শনী শুরু হয় রাত ৮টায়, তবে আগেভাগেই জায়গা দখল করে রাখা জরুরি। সাথে একটি কম্বল নিন, বন্ধুদের জড়ো করুন, আর সাথে করে পিৎজা এবং স্থানীয় ক্রাফট বিয়ার নিয়ে নিন। যখন ‘ওয়েনস ওয়ার্ল্ড’ সিনেমার আবহে মাথার ওপর এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের আলোকসজ্জা ঝিকমিক করবে—সেই জাদুকরী মুহূর্তের নিশ্চয়তা দেওয়াই যায়।

আলোকিত আকাশ: আতশবাজি আর গ্রীষ্মের রাত

কিংবদন্তি ‘মেসিস ফোর্থ অফ জুলাই’ (Macy’s 4th of July) আতশবাজির প্রদর্শনী ইতিমধ্যেই ইস্ট রিভারের আকাশকে মার্কিন পতাকার রঙে রাঙিয়ে শেষ হয়েছে, তবে গ্রীষ্মের আনন্দ কিন্তু এখনই ফুরিয়ে যাচ্ছে না। জুলাই মাসেও শহরটি একইভাবে উজ্জ্বল থাকে, বিশেষ করে খেলাধুলার উত্তেজনার ঢেউয়ে।

* আতশবাজি কোথায় দেখবেন: গ্রীষ্মকালীন উৎসব এবং বিশ্বকাপ উপলক্ষে ইস্ট রিভারের ওপর নিয়মিতভাবে আরও কিছু আতশবাজির প্রদর্শনী চলে। দেখার সেরা ফ্রি জায়গাগুলো হলো: রুজভেল্ট আইল্যান্ড, ব্রুকলিন হাইটস অথবা কুইন্সের গ্যান্ট্রি প্লাজা স্টেট পার্কের নদী তীর।

* শৌখিনদের জন্য: শহরের কোনো একটি রুফটপ বারে (যেমন: 230 Fifth বা Magic Hour) টেবিল বুক করুন। অনেক জায়গাতেই ডিজে এবং ককটেলের সাথে আকাশছোঁয়া আতশবাজি দেখার জন্য বিশেষ ‘ভিউয়িং পার্টি’র আয়োজন করা হয়।

এই মুহূর্তে নিউ ইয়র্ক আর কী নিয়ে মেতে আছে?

আপনার যদি মনে হয় যে আপনি সবকিছুই দেখে ফেলেছেন, তবে নিউ ইয়র্কের গ্রীষ্মকালীন আনন্দে ভিন্ন মাত্রা যোগ করার জন্য এখানে কিছু ধারণা দেওয়া হলো:

১. রকফেলার সেন্টারে ওয়ার্ল্ড কাপ ফ্যান ভিলেজ (World Cup Fan Village) (১৯ জুলাই পর্যন্ত উন্মুক্ত)। বিশাল সব পর্দা, সারা বিশ্বের স্ট্রিট ফুড আর খেলার উত্তেজনার এক অনন্য প্রাণশক্তি নিয়ে এই ফ্যান জোনটি তৈরি। বৈশ্বিক এই সম্প্রদায়ের অংশ হতে এটি একটি চমৎকার জায়গা।

২. বিচ পার্টি: একটি ফেরিতে চড়ে চলে যান রকঅ্যাওয়ে বিচ অথবা কনি আইল্যান্ডে। সেখানে উপভোগ করুন সার্ফিং, হাউজ মিউজিকের তালে বালুর ওপর নাচ আর আটলান্টিকের বুকে সূর্যাস্ত।

৩. পার্কগুলোতে ফ্রি কনসার্ট: ব্রঙ্কস থেকে স্টেট আইল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি চত্বরেই গ্রীষ্মকালীন কনসার্টের ব্যবস্থা থাকে; যা সেন্ট্রাল পার্কে খোলা আকাশের নিচে জ্যাজ মিউজিক থেকে শুরু করে মার্কাস গার্ভি পার্কে লাতিন ছন্দের মূর্ছনা পর্যন্ত বিস্তৃত।

জুলাই মাসে নিউ ইয়র্ক কখনোই ঘুমায় না। এটি এখন কেবলই উৎসব, হাসি, সিনেমা আর আতশবাজির রোশনাইয়ে মাতোয়ারা। গ্রীষ্মকালে এই শহরের একমাত্র নিয়ম হলো—চার দেয়ালের মাঝে বন্দি না থাকা। তাই একটি কম্বল গুছিয়ে নিন, বন্ধুদের ডাকুন এবং এই গ্রীষ্মকে উপভোগ করতে বেরিয়ে পড়ুন!

42 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।