ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইতালি—এই চার ইউরোপীয় দেশ ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে তাদের প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেছে। ২০২৬ সালের ১৪ জুন একটি যৌথ বিবৃতিতে এই ঘোষণা প্রকাশ করা হয়।
ওই দলিলে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে "সুস্পষ্ট এবং যাচাইযোগ্য পদক্ষেপের" বিনিময়েই কেবল এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা সম্ভব। ইউরোপীয় নেতারা ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে তাদের সুস্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে আমরা সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নিতে প্রস্তুত।" বর্তমান সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে দেশগুলো "যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করার" ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানকে "কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না।" এই লক্ষ্য অর্জনে ইউরোপীয় শক্তিগুলো যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সাথে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আমেরিকা-ইরান চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ই৪ (E4)-এর এই বিবৃতি। এটি নির্দেশ করে যে, ইউরোপীয় দেশগুলো অর্জিত সমঝোতাকে সুসংহত করতে এবং পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় ফেরার হাতিয়ার হিসেবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর কঠোর তদারকি ও যাচাইকরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। এটি একটি সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গিরই বহিঃপ্রকাশ; অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাহার করা হচ্ছে না, বরং তা কেবল নির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য কাজের বিনিময়েই করা হবে।



