কম্পিউটার মাউসের যুগের অবসান? ব্রিটিশ স্টার্টআপের উদ্ভাবন: ‘ডিম’ দিয়েই চলবে কার্সর

লেখক: Tetiana Pin

NextAxis Design-এর OVO একটি মাউসকে একটি ডিম দিয়ে বদলায়।

১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষ সমতল পৃষ্ঠের সাথে মানিয়ে নিতে নিজের হাতের তালু ও কবজিকে ব্যবহার করছে। এর ফল? কার্পাল টানেল সিনড্রোম, কবজিতে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং টেবিলের ওপর রাখা লক্ষ লক্ষ আরামহীন প্লাস্টিকের ‘মাউস’। বিশেষ করে যারা গ্রাফিক্স বা কোডিং নিয়ে কাজ করেন, তারা এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগেন।

তবে ২০২৬ সালের মে মাসে লন্ডনের স্টার্টআপ 'নেক্সটঅ্যাক্সিস ডিজাইন' (NextAxis Design) ঘোষণা করেছে যে, এই সমস্যার ইতি টানার সময় এসেছে। তাদের বৈপ্লবিক এই সমাধানের নাম "OVO"—এমন একটি গ্যাজেট যা টেবিলের ওপর নাড়াচাড়া করার কোনো প্রয়োজন নেই।

OVO দেখতে অনেকটা মসৃণ ও ম্যাট ফিনিশের ডিমের মতো, যা হাতের তালুতে খুব চমৎকারভাবে মানিয়ে যায়। এই অত্যাধুনিক কন্ট্রোলারের ভেতরে কোনো প্রচলিত অপটিক্যাল সেন্সর নেই। এর পরিবর্তে ইঞ্জিনিয়াররা এতে যুক্ত করেছেন উন্নত মানের থ্রিডি এক্সিলারোমিটার, জাইরোস্কোপ এবং অত্যন্ত নির্ভুল ম্যাগনেটোমিটার।

ডিভাইসটি সরাসরি শূন্যে আপনার কবজির সূক্ষ্ম নড়াচড়া, হেলানো বা অঙ্গভঙ্গি শনাক্ত করতে পারে। মনিটরের কোণায় কার্সর নিতে চান? স্রেফ এই ‘ডিম’টি সামান্য একপাশে হেলিয়ে দিন। টেক্সট সিলেক্ট করতে বা কোনো থ্রিডি মডেল ঘুরাতে হবে? শুধু আঙুল দিয়ে হালকা ঘোরানোর মতো ভঙ্গি করুন।

OVO-এর আসল জাদু লুকিয়ে আছে স্বাস্থ্যের সুরক্ষায়। এই ডিভাইসটি ধরার সময় আপনার হাত একদম স্বাভাবিক ও আরামদায়ক অবস্থায় থাকে—ঠিক যেন হাতের তালুতে একটি টেনিস বল ধরে আছেন। ফলে হাতের পেশিতে আর কোনো অস্বাভাবিক টান পড়ে না এবং শক্ত টেবিলের ঘর্ষণে কবজিও ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

এটি ফোল্ডার খোলার নতুন কোনো উপায় মাত্র নয়, বরং ডিজাইনার, প্রোগ্রামার এবং যারা দিনে আট ঘণ্টা মনিটরের সামনে কাটান, তাদের জন্য জয়েন্টের সমস্যার এক কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।

ব্লুটুথ ৫.৩ প্রোটোকলের মাধ্যমে যুক্ত এই গ্যাজেটটি এর সাশ্রয়ী সেন্সরের কল্যাণে একবার চার্জ দিলে কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। নির্মাতারা ইতিমধ্যে একটি ক্রাউডফান্ডিং ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন এবং মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রথম লটের সব ডিভাইস বিক্রি হয়ে গেছে। নতুন এই উদ্ভাবনের সম্ভাব্য বাজারমূল্য হবে প্রায় ১০০ মার্কিন ডলার।

কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রি দীর্ঘকাল ধরে কেবল নতুন নতুন বাটন আর ডিপিআই (DPI) বাড়ানোর নেশায় মত্ত ছিল। OVO প্রমাণ করেছে যে, মাঝে মাঝে ইন্টারফেস জটিল করা নয়, বরং মানুষের স্বাভাবিক শরীরবৃত্তীয় কাঠামোর দিকে ফিরে যাওয়াই হলো আসল উদ্ভাবন।

খুব শীঘ্রই হয়তো ক্লাসিক কম্পিউটার মাউসের জায়গা হবে জাদুঘরে, আর আমাদের অফিসের টেবিলগুলো বাড়তি তার ও মাউস প্যাডের ঝামেলা থেকে চিরতরে মুক্তি পাবে। আর নিঃসন্দেহে এটি হবে একটি দারুণ ব্যাপার।

25 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।