গুগল আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নতুন ল্যাপটপ প্ল্যাটফর্ম 'গুগলবুক' উন্মোচন করেছে, যা মূলত জেমিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে। এই ডিভাইসগুলোকে ক্রোমবুক সিরিজের উত্তরসূরি হিসেবে ধরা হলেও এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অ্যান্ড্রয়েডের গভীর সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ল্যাপটপগুলোর বডি অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি হওয়ায় এগুলো যেমন মজবুত, ওজনেও তেমনি বেশ হালকা। যারা গুগলের ক্লাউড সেবা এবং জেমিনির মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কাজ দ্রুত সেরে নিতে চান, মূলত তাদের লক্ষ্য করেই এই প্ল্যাটফর্মটি সাজানো হয়েছে। তবে এই ল্যাপটপের প্রসেসর, মেমরি বা ব্যাটারি ব্যাকআপ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এর সবচেয়ে বড় নতুনত্ব হলো ল্যাপটপের ইন্টারফেসেই যুক্ত থাকা জেমিনি সুবিধা, যার মাধ্যমে সরাসরি টেক্সট, ছবি এবং কোডিংয়ের কাজ করা যাবে। ব্যবহারকারীরা আলাদা কোনো অ্যাপে না গিয়েই সরাসরি ডকুমেন্টস বিশ্লেষণ, নতুন আইডিয়া তৈরি বা এডিটিংয়ের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিতে পারবেন।
২০২৬ সালের শরতে প্রথম গুগলবুক বাজারে আসার কথা রয়েছে। ডিভাইসগুলো কি পূর্ণাঙ্গ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ সমর্থন করবে নাকি বাড়তি কিছু ফিচারসহ ক্রোম ওএস-এই সীমাবদ্ধ থাকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বর্তমানে স্ন্যাপড্রাগন এক্স এলিট চালিত এআই ল্যাপটপগুলোর মতো প্রতিযোগীরা ইতিমধ্যে তাদের পারফরম্যান্স ও ব্যাটারি লাইফ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।
যারা ইতিমধ্যে গুগলের ইকোসিস্টেমের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং বিস্তারিত স্পেসিফিকেশনের জন্য অপেক্ষা করতে রাজি, তাদের জন্য গুগলবুক একটি ভালো পছন্দ হতে পারে। তবে অন্যদের জন্য বর্তমানে বাজারে থাকা পরীক্ষিত ক্রোমবুক বা উইন্ডোজ ল্যাপটপ বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে, যেগুলোর সক্ষমতা সম্পর্কে আগে থেকেই নিশ্চিত হওয়া যায়।



