আডাফ্রুট (Adafruit) পুরনো মেটা পোর্টাল ডিভাইসগুলোর ফার্মওয়্যার পরিবর্তনের একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পুরনো গ্যাজেটটিকে ওপেন-সোর্স সফটওয়্যার ভিত্তিক সম্পূর্ণ কাস্টমাইজড স্মার্ট হোম হাবে পরিণত করা সম্ভব।
মেটা পোর্টাল মূলত ভিডিও কলের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যাতে টাচস্ক্রিন, ক্যামেরা এবং স্পিকার রয়েছে। মেটার অফিসিয়াল সাপোর্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এখন এই ডিভাইসগুলোর ফার্মওয়্যার নতুন করে কনফিগার করা সম্ভব। আডাফ্রুট আলো, আবহাওয়া এবং সেন্সর নিয়ন্ত্রণের জন্য হোম অ্যাসিস্ট্যান্টের মতো সফটওয়্যারের সাথে রাসবেরি পাই বা অনুরূপ বোর্ড ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে।
নির্দেশিকাটিতে পর্যায়ক্রমিক ধাপগুলো বর্ণনা করা হয়েছে: ওয়াই-ফাই সংযোগ, কাস্টম ফার্মওয়্যার ইনস্টলেশন এবং আডাফ্রুট অ্যাডাপ্টারের মাধ্যমে MQTT ও Zigbee-এর সাথে সংযুক্তি। ব্যবহারকারীরা এমন একটি ড্যাশবোর্ড পাবেন যেখানে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং মুভমেন্ট সেন্সরের তথ্য প্রদর্শিত হবে। পোর্টালের স্ক্রিনটি সবসময় সচল থাকা একটি ইন্টারফেস হিসেবে কাজ করবে যা দিয়ে বিভিন্ন স্মার্ট হোম দৃশ্যপট নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
এই পদ্ধতির অন্যতম সুবিধা হলো নতুন ডিসপ্লে না কিনে পুরনো হার্ডওয়্যার ব্যবহার করা। ১০ থেকে ১৫ ইঞ্চির স্ক্রিন সাইজ এবং বিল্ট-ইন স্পিকার একে রান্নাঘর বা বসার ঘরের জন্য অত্যন্ত উপযোগী করে তুলেছে। আডাফ্রুট প্রচলিত স্মার্ট হোম প্রোটোকলগুলোর সাথে এর সামঞ্জস্যতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
তবে এই প্রজেক্টের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে: কিছু ক্ষেত্রে লিনাক্স চালানো এবং সোল্ডারিং করার দক্ষতার প্রয়োজন হতে পারে। সব মেটা পোর্টাল মডেল এই প্রক্রিয়ায় সমানভাবে কাজ করে না। এই কাস্টম প্রসেসটি ডিভাইসের ওয়ারেন্টি বাতিল করে দেয় এবং ক্যামেরার মূল কার্যকারিতা হারিয়ে যেতে পারে।
গুগল নেস্ট হাব বা আমাজন ইকো শোর মতো বাজারজাত করা হাবের তুলনায় এই কাস্টম সমাধানটি সাশ্রয়ী এবং অধিক নমনীয়। এখানে ব্যবহারকারী নিজস্ব সফটওয়্যার নির্বাচনের স্বাধীনতা পান এবং কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির ক্লাউড সেবার ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয় না।
আডাফ্রুটের এই প্রজেক্টটি এমন ডিভাইসগুলোকে নতুনভাবে ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে যা হয়তো অকেজো হয়ে পড়ে থাকত। এটি আধুনিক আইওটি ইকোসিস্টেমে পুরনো হার্ডওয়্যারকে একীভূত করার একটি ব্যবহারিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।


