ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের মৌসুম এখন একদম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। আগামীকাল, ১৪ এপ্রিল, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম সেমিফাইনালিস্টদের নাম নির্ধারিত হবে, আর দুই জোড়া প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যেই উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
মাদ্রিদের স্প্যানিশ ডার্বিটি এখন সবার মনোযোগের কেন্দ্রে। নিজেদের মাঠে ০-২ গোলের বড় ব্যবধানে হারের গ্লানি নিয়ে বার্সেলোনা এখন অ্যাটলেটিকোর আতিথ্য গ্রহণ করতে যাচ্ছে। সিমিওনের দল এই মৌসুমে তাদের স্টেডিয়ামকে এক অভেদ্য দুর্গে পরিণত করেছে, তাই তাদের রক্ষণব্যুহ ভাঙতে কাতালানদের নিজেদের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে পারফর্ম করতে হবে। মাদ্রিদ শিবিরের বিধ্বংসী পাল্টা আক্রমণ ঠেকিয়ে দিয়ে ফ্লিকের (বা বর্তমান কোচের) শিষ্যরা কি দুবার গোল করার মতো সৃজনশীলতা দেখাতে পারবে?
একই সাথে অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের জন্য টিকে থাকার এক মরণপণ লড়াই শুরু হবে। প্যারিসে ০-২ ব্যবধানে হারের পর মার্সিসাইড দলটির সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুবই সংকুচিত হয়ে এসেছে। পিএসজিকে বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী মনে হলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফিরতি লেগের ম্যাচগুলোতে অ্যানফিল্ডের জাদু ইতিপূর্বে বারবার অলৌকিক সব ঘটনার জন্ম দিয়েছে। সব পূর্বাভাস যখন বিপক্ষে, তখন এই ইংলিশ ক্লাবটি কি আবারও ইতিহাস নতুন করে লিখতে পারবে?
এদিকে আটলান্টিকের ওপারে বিভিন্ন জাতীয় দলগুলো ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্ব শেষ করছে। ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফ্রান্স বনাম ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচটি ফ্রান্স — ব্রাজিল ২:১ ব্যবধানে শেষ হয়েছে।
ব্রাজিল ও ফ্রান্সের কোচিং স্টাফরা এই ইউরোপীয় ক্লাব লড়াইগুলোতে তাদের মূল খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর পারফরম্যান্সই আগামী জুনের শুরুতে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার ক্ষেত্রে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়াবে।
মনে হচ্ছে আমরা মৌসুমের এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি, যেখানে একটি ছোট ভুল শুধু একটি ট্রফিই নয়, বরং চার বছরের সেরা আসরে যাওয়ার টিকিটও কেড়ে নিতে পারে।




