২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ৮ জুলাই তারিখটি টুর্নামেন্টের সূচিতে এক বিরল বিরতি হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্লে-অফের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর ভক্তরা প্রথমবারের মতো কোনো খেলা ছাড়া দিন কাটালেন: ৭ জুলাই শেষ ১৬-এর খেলা শেষ হয়েছে এবং কোয়ার্টার ফাইনাল শুরু হবে ৯ জুলাই থেকে। টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্যায়ের আগে দলগুলো যাতে নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারে, সেজন্যই সূচিতে এই বিরতি রাখা হয়েছে।
এই পর্যায়ে এসে প্রতিযোগিতায় টিকে আছে কেবল সেরা আটটি দল। ফ্রান্স, মরক্কো, স্পেন, বেলজিয়াম, নরওয়ে, ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। এই দলগুলোই এখন সেমিফাইনাল এবং ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালের টিকিট পাওয়ার লড়াই চালিয়ে যাবে।
আগের খেলার দিনের মূল আকর্ষণ ছিল কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ দুটি টিকিট নিশ্চিত হওয়া। একটি রোমাঞ্চকর ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে মিশরকে পরাজিত করে, আর সুইজারল্যান্ড টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে এগিয়ে যায়, যেখানে নির্ধারিত সময়ে খেলাটি ০-০ ড্র ছিল। এখন কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড একে অপরের মুখোমুখি হবে।
৮ জুলাই দিনটি ছিল মূলত অপেক্ষার। ফুটবলারদের জন্য এটি ছিল শারীরিক ধকল কাটিয়ে ওঠা, প্রতিপক্ষকে বিশ্লেষণ করা এবং সেই সব ম্যাচের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়, যেখানে একটি ছোট ভুলও হতে পারে মারাত্মক। আর ভক্তদের জন্য এটি ছিল শেষ ১৬-এর নাটকীয়তার পর একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা এবং টুর্নামেন্টের নতুন বিন্যাস বুঝে নেওয়ার সুযোগ।
৯ জুলাই ফ্রান্স ও মরক্কোর লড়াইয়ের মাধ্যমে শুরু হবে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব। ম্যাচটি বিশেষ আগ্রহ জাগাচ্ছে কারণ এটি ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে, যেখানে ফ্রান্স মরক্কোর রূপকথার দৌড় থামিয়ে দিয়েছিল। এবার মরক্কো আবারও সেরাদের কাতারে ফিরে এসেছে, আর ফ্রান্সের লক্ষ্য আরও একবার শিরোপা নিজেদের করে নেওয়া।
এরপর টুর্নামেন্ট এগিয়ে যাবে স্পেন-বেলজিয়াম, নরওয়ে-ইংল্যান্ড এবং আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচের মধ্য দিয়ে। এই কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন লড়বে আসরের অন্যতম সুশৃঙ্খল দল হিসেবে, বেলজিয়াম দেখাচ্ছে নতুন উদ্যম, নরওয়ে তৈরি করছে ইতিহাস, আর আর্জেন্টিনা ধরে রেখেছে অন্যতম ফেভারিট দলের তকমা।
ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপের ৮ জুলাই দিনটিতে কোনো গোল, চমক কিংবা রেফারি নিয়ে বিতর্ক ছিল না। তবে বড় কোনো চূড়ান্ত লড়াইয়ের আগে এই ধরণের দিনগুলোই অনেক সময় টানটান উত্তেজনার কেন্দ্রে পরিণত হয়। টুর্নামেন্ট এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে কেবল সেরারাই টিকে আছে, আর প্রতিটি আসন্ন ম্যাচই তৈরি করতে পারে নতুন ইতিহাস।




