ভূগর্ভস্থ জলাধার যখন বাদ্যযন্ত্র

লেখক: Inna Horoshkina One

The Poughkeepsie Cistern ৫ মিলিয়ন গ্যালন পানি ধারণ করেছিল। স্থানটি প্রায় 150'×250' (36,000 বর্গফুট) 21' উঁচু ছাদের সঙ্গে। 180টি কংক্রিট কলাম 13'.

কখনো কখনো সঙ্গীতের বিপ্লব কোনো স্টুডিও, উৎসবের মঞ্চ বা আধুনিক প্রযুক্তির মাঝে জন্ম নেয় না।

বরং তা জন্ম নেয় এমন এক জায়গায়, যা কয়েক দশক ধরে নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে ছিল।

আমেরিকার পকিপসি (Poughkeepsie) শহরে ১৯২৪ সালে নির্মিত এবং ২০২১ সালে পরিত্যক্ত ঘোষিত হওয়া একটি ভূগর্ভস্থ জলাধার আচমকাই বর্তমান যুগের এক অন্যতম অদ্ভুত সঙ্গীত কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

প্রায় এক শতাব্দী ধরে এই জায়গাটি পানি ধরে রেখেছিল। আজ এটি শব্দ ধরে রাখছে।

শত শত কংক্রিটের স্তম্ভ এবং ছয় মিটারেরও বেশি উঁচু ছাদ সম্বলিত প্রায় ৩৬,০০০ বর্গফুট আয়তনের এই জায়গাটি এক অনন্য ধ্বনিশৈলী তৈরি করে, যেখানে কোনো শব্দ ১৪ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

তুলনামূলকভাবে, সাধারণ কনসার্ট হলে শব্দের রেশ বা প্রতিধ্বনি মাত্র ১ থেকে ২ সেকেন্ড স্থায়ী হয়।

এখানে একটি সুরের মূর্ছনা সহজে মিলিয়ে যায় না। সেটি বয়ে চলে। ফিরে আসে।

নিজের ওপর নিজে স্তরে স্তরে জমতে থাকে। অনেকটা শব্দের এক জীবন্ত স্মৃতির মতো। এটি সঙ্গীত পরিবেশনার মূল প্রকৃতিকেই পুরোপুরি বদলে দেয়।

একজন সঙ্গীতশিল্পী এখানে শুধু নিজের বাদ্যযন্ত্র বাজান না। তিনি এই বিশাল পরিসরের সাথে মিলে সুর তোলেন। প্রতিটি বিরতি এখানে সুরের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।

প্রতিটি শ্বাস এক একটি সুরের অভিব্যক্তি হয়ে ধরা দেয়। আর শ্রোতা তখন আর কেবল দর্শক হয়ে থাকেন না।

তিনি যেন সরাসরি সেই বাদ্যযন্ত্রের ভেতরেই অবস্থান করেন।

‘মাস ডিজাইন গ্রুপ’ (MASS Design Group)-এর নির্মাতারা এই অভিজ্ঞতাকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন, যারা এই জলাধারটিকে শব্দ ও আলোর এক নতুন প্রদর্শনী কেন্দ্র হিসেবে দেখছেন।

এখানকার সুর অন্যরকম আচরণ করে। এটি দ্রুত হারিয়ে যায় না।

এটি বাতাসে ভেসে থাকে, কংক্রিটের স্তম্ভে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে, নিজের ওপর স্তর তৈরি করে এবং নিস্তব্ধতাকেও সুরের একটি অংশ বানিয়ে ফেলে।

এমন এক পরিবেশে সঙ্গীত আর রৈখিক কোনো ঘটনা থাকে না। এটি হয়ে ওঠে এমন এক পরিমণ্ডল, যেখানে মানুষ নিজেকে খুঁজে পায়।

এটি আর গতানুগতিক কনসার্ট নয় যেখানে মঞ্চ এবং দর্শক আলাদা থাকে। এখানে খোদ শূন্যস্থানটিই পরিবেশনার এক সহ-স্রষ্টা হয়ে ওঠে।

এই ঘটনাটি পৃথিবীর সুরের জগতে নতুন কী যোগ করল?

প্রায় এক শতাব্দী ধরে এই জলাধারটি পানি জমিয়ে রেখেছিল—তার চলন, গভীরতা আর প্রতিফলনকে।

এখন এটি শব্দকে আগলে রাখছে।

আর সম্ভবত এখানেই লুকিয়ে আছে নতুন সঙ্গীত যুগের এক বিস্ময়কর প্রতীক:

সঙ্গীতের ভবিষ্যৎ শুধু প্রযুক্তির মাঝেই নিহিত নয়। কখনো কখনো এটি এমন জায়গায় জন্ম নেয় যেখানে শূন্যস্থান নিজেই সুর হয়ে ওঠে।

সব বাদ্যযন্ত্র কাঠ, তার বা ধাতু দিয়ে তৈরি হয় না।

কখনো কখনো খোদ শূন্যস্থানটিই যন্ত্র হয়ে ওঠে। আর তখন সঙ্গীত শুধু স্রেফ সুর হয়ে থাকে না।

এটি মানুষকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে, প্রতিধ্বনিত হয় এবং আক্ষরিক অর্থেই মানুষকে নিজের ভেতরে গেঁথে নেয়।

আর সম্ভবত ভবিষ্যতের সবচেয়ে অসাধারণ কনসার্ট হলগুলো সেখানে হবে না যেখানে প্রযুক্তির ছড়াছড়ি। বরং সেখানেই হবে, যেখানে শূন্যস্থান নিজেই গান গাইবে।

4 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।