বিশ্বের নতুন সুর: এসপা এবং জি-ড্রাগন

লেখক: Inna Horoshkina One

aespa 에스파 'WDA (Whole Different Animal) (Feat. G-DRAGON)' MV

কখনও কখনও দুটি মিউজিক রিলিজ গোটা সাংস্কৃতিক পর্যালোচনার চেয়েও বর্তমান সময় সম্পর্কে অনেক বেশি কিছু বলে দিতে পারে।

BOYNEXTDOOR (보이넥스트도어) 'টক-টক-টক' Official MV

এই সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ায় ঠিক এমনটাই ঘটেছে, যেখানে দুটি বড় মাপের রিলিজ মিলেমিশে নতুন এক সংগীত ধারার প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছে।

  1. প্রথম সুরটি এসেছে এসপা (aespa) এবং জি-ড্রাগনের (G-DRAGON) কাছ থেকে।

‘WDA (Whole Different Animal)’ কেবল একটি মিউজিক ভিডিও নয়, বরং এটি নতুন এক ডিজিটাল নান্দনিকতার বহিঃপ্রকাশ। এখানে নিয়ন আলো, যান্ত্রিকতা, প্রবৃত্তি এবং কৃত্রিম বাস্তবতার জগত মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে মানুষের আবেগের সাথে। কে-পপ আবারও প্রমাণ করল যে অন্য সব ঘরানার আগে ভবিষ্যৎকে অনুভব করার এক অদ্ভুত ক্ষমতা তাদের আছে।

‘Whole Different Animal’ বর্তমান সময়ের এমন এক সুর হয়ে ধরা দিয়েছে, যেখানে মানুষ একইসাথে নিজেকে খুঁজছে এবং নিজের সত্তার এক নতুন রূপ তৈরি করছে।

  1. পরবর্তী সুরটি হলো— বয়নেক্সটডোর (BOYNEXTDOOR) এবং তাদের গান ‘তোক তোক তোক (KNOCK KNOCK KNOCK)’।

এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক শক্তির প্রকাশ।

এসপা এবং জি-ড্রাগন যদি ডিজিটাল ভবিষ্যতের দুয়ার খুলে দেয়, তবে বয়নেক্সটডোর ফিরিয়ে এনেছে তারুণ্যের প্রাণবন্ত স্পন্দন। তাদের মিউজিক ভিডিওটি গতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা, সহজতা এবং সেই প্রজন্মের আবেগের তীব্রতায় ভরপুর, যারা ছোট ছোট ভিডিও, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এবং তথ্যের নিরন্তর প্রবাহের মধ্যে বেড়ে উঠেছে।

আর ঠিক এই কারণেই গানটি লক্ষ লক্ষ মানুষকে এতটা আবিষ্ট করে রেখেছে।

বাইরের এই হালকা মেজাজের আড়ালে নতুন প্রজন্মের এক মূল আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে— তা হলো অন্যদের নজরে আসা, নিজেদের কথা জানানো এবং নিজেদের প্রকৃত সত্তাকে অনুভব করানো।

বিশ্বের সম্মিলিত ঐকতানে এই সুরগুলো নতুন কী মাত্রা যোগ করল?

আধুনিক পপ সংগীত এখন আর প্রযুক্তি এবং আবেগের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নেওয়ার চেষ্টা করে না।

এটি বরং দুইয়ের সমন্বয় ঘটায়। ডিজিটাল জগতগুলো এখন আবেগময় হয়ে উঠছে।
বর্তমানে কে-পপ কেবল একটি সংগীতের ধারা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। এটি সেই প্রজন্মের ভাষা হয়ে উঠছে, যারা ইন্টারনেট, দৃশ্যমান সংস্কৃতি এবং নিজস্ব পরিচয় খোঁজার নিরন্তর প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে।

সম্ভবত একারণেই বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই গানগুলোর মধ্যে নিজেদের খুঁজে পায়।

কারণ এই নিয়ন আলো, দ্রুত সম্পাদনা আর ভাইরাল তালের গভীরে লুকিয়ে আছে অত্যন্ত সহজ এক আকাঙ্ক্ষা:

অন্যের দৃষ্টিতে আসা।
সবার কাছে নিজের কথা পৌঁছানো।
নিজের প্রকৃত সত্তায় থাকা।

আর যখন সংগীত এই অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে শুরু করে, তখন তা আর কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে না।

তা হয়ে ওঠে বিশ্বের সামগ্রিক সুরের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

6 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।