গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ৬৮তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস বিতর্ক তৈরির চেয়ে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে শেষ হয়েছে। সমালোচকরা যখন অভ্যাসবশত সবকিছুর মাঝে ‘পপ সংস্কৃতির’ প্রভাব খুঁজছিলেন, তখন অ্যাকাডেমি এমন ফলাফল ঘোষণা করেছে যা সংশয়বাদীদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে।
মূল বিভাগে ব্যাড বানি-র বিজয় কেবল তার ব্যবসায়িক সাফল্যের স্বীকৃতি নয়। এটি স্প্যানিশ ভাষার কনটেন্টকে বিশ্বব্যাপী মূলধারার সংগীত হিসেবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি দিয়েছে, যার জন্য আলাদা কোনো ‘অনুবাদে’র প্রয়োজন নেই। ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় ল্যাটিন আমেরিকান শিল্পী হিসেবে পুয়ের্তো রিকোর এই গায়ক ‘অ্যালবাম অফ দ্য ইয়ার’ খেতাব জিতেছেন। আপনার কী মনে হয়—এটি কি প্রকৃত অন্তর্ভুক্তির বহিঃপ্রকাশ নাকি নিছক একটি সুচতুর বিপণন কৌশল?
এই বছরের গ্র্যামিতে হিপ-হপ ঘরানার সংগীত এক নজিরবিহীন শক্তিমত্তা প্রদর্শন করেছে। কেনড্রিক লামার তার GNX অ্যালবামের জন্য চারটি পুরস্কার জিতে নিয়েছেন, যার মধ্যে Luther ট্র্যাকটির জন্য পাওয়া ‘রেকর্ড অফ দ্য ইয়ার’ অন্যতম। তবে র্যাপ বিভাগে ক্লিপস-এর বলিষ্ঠ ও আপসহীন অ্যালবাম Let God Sort Em Out-এর জয় প্রমাণ করেছে যে, অ্যাকাডেমি এখন কেবল মসৃণ রেডিও হিট নয়, বরং সংগীতের ‘র’ সাউন্ড এবং জটিল সামাজিক বার্তাগুলোকেও গুরুত্ব দিতে প্রস্তুত।
বিলি আইলিশের বিবর্তন লক্ষ্য করা বেশ চমকপ্রদ। ইতিহাসের প্রথম শিল্পী হিসেবে তিনটি ‘সং অফ দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রজন্মের প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যিনি স্টেডিয়াম-ভর্তি দর্শকদের সামনেও অন্তরঙ্গ আবেগ প্রকাশ করতে সক্ষম।
দীর্ঘমেয়াদে ২০২৬ সালের এই আসরটি হতে পারে একটি আদর্শ উদাহরণ যে, কীভাবে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান স্ট্রিমিংয়ের সংখ্যা এবং শৈল্পিক মানের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে। আমরা দেখেছি যে, সাবরিনা কার্পেন্টারের পপ ধারার কাজ এবং টাইলারের পরীক্ষামূলক হিপ-হপ একই মনোনয়ন তালিকায় একে অপরকে ছাপিয়ে না গিয়েও পাশাপাশি অবস্থান করতে পারে। দেখে মনে হচ্ছে, গ্র্যামি কর্তৃপক্ষ অবশেষে বাস্তবতাকে অস্বীকার করার বদলে তাকে গ্রহণ করতে শুরু করেছে।



