ক্লোজড স্ক্রিনিংয়ের পর ‘মাস্টার্স অফ দ্য ইউনিভার্স’ সিনেমাটি নিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে, যা এই ফ্র্যাঞ্চাইজির ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
এটি একটি মহাকাব্যিক ফ্যান্টাসি অ্যাকশনধর্মী সিনেমা, যেখানে ইটার্নিয়া বিশ্বকে প্রাচীন রহস্য ও দ্বন্দ্বে ঘেরা এক উজ্জ্বল ও জাদুকরী গ্রহ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমার আবহ আশির দশকের মূল অ্যানিমেটেড সিরিজের নস্টালজিয়া এবং আধুনিক গতির এক চমৎকার সমন্বয়। কাহিনীর মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তরুণ রাজপুত্র অ্যাডামের নিজের ভাগ্য নির্ধারণের লড়াই এবং স্কেলেটরের স্বৈরাচার থেকে প্রিয়জনদের রক্ষা করার সংগ্রাম। সিনেমাটি দেখার অভিজ্ঞতা অনেকটা শৈশবে ফিরে যাওয়ার মতো, তবে এতে আবেগের এক পরিপক্ক গভীরতা রয়েছে। একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য দিক হলো ‘পাওয়ার সোর্ড’ সক্রিয় করার দৃশ্যটি, যেখানে অতিরিক্ত সিজিআই ব্যবহার না করেই আলো ও শব্দের মাধ্যমে এক শক্তিশালী দৃশ্যকাব্য তৈরি করা হয়েছে।
রিবুট এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের এই যুগে ধ্রুপদী ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর প্রতি আগ্রহ পুনরুজ্জীবিত করতে এই সিনেমাটি বর্তমান সময়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
একটি অভাবনীয় বিষয় ছিল যুদ্ধ দৃশ্যের জন্য প্র্যাকটিক্যাল ইফেক্ট ব্যবহারের প্রতি পরিচালকের গুরুত্বারোপ, যা এই প্রজেক্টকে নিছক ডিজিটাল ব্লকবাস্টার থেকে আলাদা করেছে। একজন দর্শক মন্তব্য করেছেন যে, চরিত্রগুলোর রসবোধ অত্যন্ত সাবলীল এবং তা মূল নাটকীয় আবহকে বিন্দুমাত্র বিঘ্নিত করে না।
বড় একটি প্ল্যাটফর্মে সিনেমাটির প্রিমিয়ার হতে চলেছে, আর এর সাফল্যের ওপরই নির্ভর করছে স্টুডিওটি এর সিক্যুয়েল নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবে কি না।
যারা অ্যাডভেঞ্চার সিনেমা এবং ৮০-র দশকের নস্টালজিয়া পছন্দ করেন তাদের জন্য এটি উপযুক্ত, তবে অ্যাকশনহীন গভীর ড্রামা যারা খুঁজছেন তাদের জন্য এটি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।
দেখার শেষে মনে হয় যে, কয়েক দশক পার হয়ে গেলেও ভালো এবং মন্দের লড়াইয়ের গল্প আজও নতুনভাবে আবেদন সৃষ্টি করতে পারে।

