“প্রথমে চলে যাওয়া ভালো”, “একদিন ঘুম থেকে জেগে ওঠেন – আর বাতাস যেন একটু মিষ্টি হয়ে আসে”। ব্রেড পিট – মা, একাকীত্ব ও আলোর পথে ফিরে আসা প্রসঙ্গে

লেখক: Svitlana Velhush

X থেকে লিংক (সোশ্যাল নেটওয়ার্ক)

ব্র্যাড পিট নতুন এস্কোয়ার পত্রিকার প্রচ্ছদে হাজির হয়েছেন। এই সাক্ষাৎকারটি সিনেমা, রেড কার্পেট বা তারকা খ্যাতির চিরাচরিত আলোচনার চেয়ে অনেক বেশি গভীর এবং অর্থবহ হয়ে উঠেছে।

সাধারণ গতানুগতিক উত্তরের পরিবর্তে, এখানে পরিবার, শোক, অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং জীবনের কঠিনতম সময় পার করে কীভাবে মানুষ আবার আলোর পথে ফিরে আসে, তা নিয়ে এক শান্ত ও পরিপক্ক কথোপকথন উঠে এসেছে।

সাক্ষাৎকারের অন্যতম আবেগঘন বিষয় ছিল পরিবার। পিট তার মায়ের কথা স্মরণ করেছেন, যিনি গত বছর মারা গেছেন এবং তার বাবাকে নিয়ে কথা বলেছেন, যিনি এখন একা হয়ে পড়েছেন।

তিনি এখন নিয়মিত মিসৌরিতে তার বাবার সঙ্গে দেখা করতে যান। এই সফরগুলো তার কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তারা বারান্দায় বসে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ শোনেন এবং তার মাকে নিয়ে কথা বলেন।

তাদের কথোপকথন দীর্ঘ বা বিস্তারিত নয়, বরং ঘনিষ্ঠ মানুষের মধ্যে যেমন হয় ঠিক তেমনই। একটি ছোট বাক্য অনেক বড় ব্যাখ্যার চেয়েও হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলে।

পিট এই সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে শোকের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি নাটকীয়তা বা কাউকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেননি, বরং সময়ের সঙ্গে শোক সম্পর্কে তার উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন।

মূলত, এটি এমন এক কথোপকথন যেখানে শোক কীভাবে মানুষকে বদলে দেয় এবং ছোট ছোট মুহূর্তের প্রতি মনোযোগী করে তোলে, তা ফুটে উঠেছে। নীরবতা, স্মৃতি এবং প্রিয়জনের সান্নিধ্যের গুরুত্ব এখানে স্পষ্ট।

অভিনেতা তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় অর্থাৎ বিবাহবিচ্ছেদের পরবর্তী সময় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি একে কেবল পারিবারিক বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে তার কখনো আত্মহত্যার চিন্তা আসেনি, কারণ এটি তার স্বভাবের সঙ্গে যায় না।

তবে এমন একটি সময় ছিল যখন ব্যথা এত তীব্র ছিল যে তিনি মৃত্যুর মধ্যে মুক্তির সন্ধান করেছিলেন। এটি সাক্ষাৎকারের অন্যতম শক্তিশালী এবং সৎ স্বীকারোক্তি।

এই কথোপকথনের মূল সুর বিষণ্ণতা নয়, বরং এক ধরনের প্রশান্তি। পিট ব্যথাকে আঁকড়ে ধরে রাখেননি।

তিনি বছরের পর বছর ধরে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন: শোক হলো মানুষের অন্যতম কঠিন আবেগ, আর একাকীত্ব হলো সবচেয়ে ভারী বোঝা। তার কথায় কোনো কৃত্রিমতা নেই, বরং জীবনের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।

এই অবস্থা থেকে সহজে পালানো যায় না বলে তিনি মনে করেন। এটি ধাপে ধাপে, প্রতিদিন লড়াই করে কাটিয়ে উঠতে হয়।

একসময় আপনি অনুভব করবেন যে চারপাশের জগত কিছুটা নমনীয় হয়ে এসেছে। পিট খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন যে, একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে হবে আকাশটা একটু বেশি উজ্জ্বল আর বাতাসটা একটু মিষ্টি। এই অনুভূতিই প্রমাণ করে যে, ব্যথা থেকে পুরোপুরি মুক্তি না মিললেও জীবনে ধীরে ধীরে ফিরে আসা সম্ভব।

অবশ্যই, সিনেমায় তার কাজ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে পিট এখন নিজেকে কেবল একজন তারকা হিসেবে দেখেন না, বরং একজন অভিনেতা হিসেবে পেশার বৃহত্তর দিকগুলো নিয়ে ভাবেন।

সাক্ষাৎকারের মেজাজ থেকে বোঝা যায়, সিনেমা তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু এটিই তার আত্মমর্যাদার একমাত্র পরিমাপক নয়। এখানে খ্যাতির চেয়ে অভিজ্ঞতার গুরুত্ব বেশি।

তিনি তার বর্তমান কাজের কথা উল্লেখ করে বলেছেন যে, তিনি এখন আগের চেয়ে বেশি কাজ করছেন এবং নতুন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে আগ্রহী।

তিনি মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি সঠিক সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে মাঝারি বাজেটের সিনেমাগুলো আবার পর্দায় ফিরতে পারে। এবং তিনি এখনো ব্যক্তিগতভাবে বেছে নেন পর্দায় কোন আবেগ ফুটিয়ে তুলবেন।

ছবিগুলোতে তাকে বিভিন্ন রূপে দেখা গেছে—কখনো চামড়ার জ্যাকেটে, কখনো সোয়েটারে। তবে সব ছবির মূল সুর হলো এমন একজন মানুষের প্রশান্তি, যে আর নিজের জীবন থেকে পালিয়ে বেড়ায় না।

এ কারণেই ব্র্যাড পিটকে নিয়ে এস্কোয়ারের এই সংখ্যাটি এত আকর্ষণীয়। এটি কেবল একটি সুন্দর ম্যাগাজিন বা স্টাইলিশ ফটোশুট নয়।

এটি এমন এক বিরল সাক্ষাৎকার যেখানে একজন বিখ্যাত ব্যক্তি চিৎকার করে নয়, বরং নিচু স্বরে কথা বলেছেন, যা অনেক বেশি শক্তিশালী। এটি পরিবার, স্মৃতি এবং শোক কাটিয়ে জীবনের স্বাদ ও আশা ফিরে পাওয়ার এক অনন্য দলিল।

ফলাফলটি অত্যন্ত উষ্ণ এবং সান্ত্বনাদায়ক। এটি নিখুঁত হওয়ার গল্প নয়, বরং বেঁচে থাকার গল্প। সম্ভবত এই কারণেই ব্র্যাড পিটের এই সাক্ষাৎকারটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম শক্তিশালী বিবৃতি হিসেবে বিবেচিত হবে।

131 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Esquire

  • Brad Pitt opens up about sobriety, suicidal thoughts and more in candid interview

মন্তব্য

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।