বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গন এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে কিংবদন্তি শিল্পী মাইকেল জ্যাকসনের জীবনীনির্ভর চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’ (Michael)-এর আনুষ্ঠানিক মুক্তির জন্য। যদিও সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে আসার জন্য আরও কয়েক মাস সময় বাকি রয়েছে, তবে ইতোমধ্যে পরিবেশক এবং সমালোচকদের জন্য আয়োজিত প্রথম দিকের বিশেষ প্রদর্শনীগুলো বিনোদন জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই রুদ্ধদ্বার প্রদর্শনীর পর থেকে চলচ্চিত্রটি নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জাফার জ্যাকসন, যিনি এই সিনেমায় তার প্রয়াত চাচার চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, জাফার জ্যাকসনের অভিনয় শুধুমাত্র মেকআপ বা সাজসজ্জার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তিনি মাইকেল জ্যাকসনের কথা বলার ধরন, চাহনি এবং সেই বিখ্যাত ‘ইলেকট্রিক’ এনার্জি হুবহু নিজের মধ্যে ধারণ করেছেন। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই সিনেমায় জাফারকে তরুণ দেখানোর জন্য খুব সামান্যই কম্পিউটার গ্রাফিক্স বা ওল্ড-এজ সিজিআই ব্যবহার করা হয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো, জাফার নিজেই মাইকেলের প্রায় সব আইকনিক এবং জটিল নাচের মুদ্রাগুলো কোনো কৃত্রিম সহায়তা ছাড়াই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
- পপ সম্রাটের ভ্রাতুষ্পুত্র জাফার জ্যাকসন কোনো গ্রাফিক্সের সাহায্য ছাড়াই মাইকেলের সেই কঠিন কোরিওগ্রাফিগুলো পুনর্নির্মাণ করে এক বিস্ময়কর সাদৃশ্য তৈরি করেছেন।
- পরিচালক অ্যান্টোনি ফুকুয়া একটি অত্যন্ত সৎ এবং সাহসী দৃষ্টিভঙ্গি বেছে নিয়েছেন, যেখানে শিল্পীর অনন্য সৃজনশীল প্রতিভা এবং তার জীবনের চারপাশের বিতর্কিত অভিযোগগুলোও সমানভাবে স্থান পেয়েছে।
- চলচ্চিত্র সমালোচকরা ইতোমধ্যে ধারণা করছেন যে, এটি এই দশকের অন্যতম প্রধান সিনেমা হতে যাচ্ছে এবং জীবনীনির্ভর চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আয়ের সব রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনা রাখে।
কাঠামোগতভাবে এই চলচ্চিত্রটি মাইকেল জ্যাকসনের পুরো জীবনকে একটি সুতোয় গেঁথেছে। এতে ‘জ্যাকসন ফাইভ’ (Jackson 5)-এর সময়কার সেই কঠোর ও ক্লান্তিকর মহড়া থেকে শুরু করে তার জীবনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ‘দিস ইজ ইট’ (This Is It) ট্যুর পর্যন্ত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরিচালক অ্যান্টোনি ফুকুয়া, যিনি ‘ট্রেনিং ডে’-এর মতো শক্তিশালী চলচ্চিত্রের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত, তিনি এই বায়োপিকে কোনো রূঢ় সত্য গোপন করার চেষ্টা করেননি।
সিনেমাটিতে মাইকেলের জীবনের কঠিন আইনি লড়াই এবং বিভিন্ন আসক্তির বিরুদ্ধে তার দীর্ঘ সংগ্রামের চিত্রও অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এখানে মাইকেল জ্যাকসনকে একজন ট্র্যাজিক এবং মানসিকভাবে একাকী মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যিনি একই সাথে তার শিল্পকলায় ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও অতুলনীয়। প্রযোজক গ্রাহাম কিং, যিনি এর আগে অস্কারজয়ী ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’র মতো সফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন, তিনি এখানে একটি মহাকাব্যিক ক্যানভাস তৈরি করতে চেয়েছেন যা কেবল জীবনী বর্ণনা করবে না, বরং ‘কিং অফ পপ’-এর মনস্তাত্ত্বিক রহস্য উন্মোচন করবে।
২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল যখন সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাবে, তখন দর্শকরা একজন বিশ্বখ্যাত তারকার পেছনের রক্ত-মাংসের মানুষটিকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারবেন। এই চলচ্চিত্রটি কেবল একটি বাণিজ্যিক প্রজেক্ট নয়, বরং এটি মাইকেল জ্যাকসনের উত্তরাধিকারকে বিশ্ববাসীর কাছে পুনরায় তুলে ধরার একটি শৈল্পিক প্রয়াস। জাফার জ্যাকসনের অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং অ্যান্টোনি ফুকুয়ার দূরদর্শী পরিচালনা মিলে এই সিনেমাটি একটি ঐতিহাসিক দলিলে পরিণত হতে যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



