২০২৬ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন মূলধারার গণমাধ্যমে অজ্ঞাত আকাশযান বা ইউএপি সংক্রান্ত বিষয়টি এক অভাবনীয় গতি লাভ করে। হোয়াইট হাউস প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী এবং জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ডক্টর ফিল ম্যাকগ্রোকে সম্প্রতি অবমুক্ত করা ইউএপি সংক্রান্ত নথিপত্রগুলো সবার আগে পর্যালোচনা করার একটি বিশেষ সুযোগ করে দেয়। এই ঘটনাটি নথিপত্রগুলো জনসমক্ষে আসার ঠিক আগেই ঘটেছিল এবং পরবর্তীতে নিউজনেশন চ্যানেলের রিয়েলিটি চেক অনুষ্ঠানে সাংবাদিক রস কুলথার্টের সাথে ডক্টর ফিলের বিস্তারিত আলোচনার মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
The government's most successful deception wasn't convincing you UFOs don't exist. It was convincing you that EVEN asking about them makes you a fool. That's not an accident. It's a psyop, and it's been running for decades. I break it all down in my Daily Mail exclusive:
ডক্টর ফিল নিজে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞ না হওয়া সত্ত্বেও কেন মার্কিন প্রশাসন তাকেই এই কাজের জন্য বেছে নিল, সেই রহস্য তিনি নিজেই উন্মোচন করেছেন। তার মতে, প্রশ্নটি কেবল নথির বিষয়বস্তু নিয়ে ছিল না, বরং সাধারণ সমাজ এই সংবেদনশীল তথ্যগুলো কীভাবে গ্রহণ করবে তা নিয়ে প্রশাসন চিন্তিত ছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী প্রায় ৭১ শতাংশ আমেরিকান ভিনগ্রহের প্রাণের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন। তবে পৃথিবী বহির্ভূত কোনো উন্নত বুদ্ধিমত্তার উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ মানুষের প্রচলিত বিশ্বদর্শন, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মানসিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
নথিপত্রগুলো বিশ্লেষণ করে ডক্টর ফিল একটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও ধারাবাহিক চিত্র তুলে ধরেন। ১৯৪৭ সালের শুরুর দিকেই লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাথান টুইনিং এই রহস্যময় ঘটনাগুলোকে বাস্তব বলে নথিবদ্ধ করেছিলেন। ১৯৪৯ সালে লস আলামোসের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর বারবার সবুজ অগ্নিগোলক দেখা যাওয়ার পর সেখানে একটি উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সময় উল্কাপাত বিশেষজ্ঞ ডক্টর লিঙ্কন লা পাজ এগুলোর প্রাকৃতিক উৎস হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছিলেন। এই ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনা পরবর্তীতেও অব্যাহত থাকে, যেমন ২০১৫ সালে টেক্সাসের প্যানটেক্স প্ল্যান্টের আকাশসীমায় একটি অজ্ঞাত বস্তু দেখা গিয়েছিল, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।
তথ্য গোপনের প্রাতিষ্ঠানিক কৌশলগুলো ডক্টর ফিলের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। জ্যানাপ ১৪৬ এর মতো কঠোর নির্দেশিকাগুলোর মাধ্যমে সামরিক ও বাণিজ্যিক পাইলটদের কারাদণ্ড, বিশাল অঙ্কের জরিমানা এবং এমনকি গুপ্তচরবৃত্তি আইনের আওতায় আনার ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখা হতো। সিআইএ-র রবার্টসন প্যানেলের মূল কৌশল ছিল কেবল সেই ঘটনাগুলোই জনসমক্ষে আনা যেগুলোকে সহজেই যুক্তি দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া যায়। ডক্টর ফিল একে একটি সুপরিকল্পিত লুকোচুরি এবং দীর্ঘমেয়াদী মনস্তাত্ত্বিক অপারেশন হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা কয়েক দশক ধরে সাধারণ মানুষকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে যে এই বিষয়ে সামান্যতম আগ্রহ দেখানো মানেই হলো নিজেকে বোকা হিসেবে প্রমাণ করা।
তিনি আরও লক্ষ্য করেছেন যে, সরকার কর্তৃক প্রকাশিত ছবিগুলো প্রায়ই অস্পষ্ট বা নিম্নমানের হয়, যদিও অত্যাধুনিক রাডার এবং অনবোর্ড ক্যামেরা থেকে পাওয়া অনেক বেশি উন্নত মানের ফুটেজ কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। ডক্টর ফিলের মতে, কংগ্রেস সদস্য টিম বারচেট এবং আন্না পলিনা লুনা এই সত্যগুলো পুরোপুরি জনসমক্ষে আনার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দুটি বিষয়ে তার দৃঢ় বিশ্বাসের কথা জানান। প্রথমত, এখানে একটি বিশাল আকারের গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে এবং দ্বিতীয়ত, এমন কিছু প্রযুক্তির অস্তিত্ব রয়েছে যা মানুষ তৈরি করেনি এবং যা এই জগতের বাইরের কোনো উৎস থেকে এসেছে।
সংকটে থাকা মানুষের সাথে কাজ করার প্রায় ৫০ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে ডক্টর ফিল এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তিনি সেই সব নথিপত্র পড়ার সুযোগ পেয়েছেন যা লেখার সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভাবেননি যে এগুলো কখনো সাধারণ মানুষের নজরে আসবে। তিনি এই প্রচলিত ধারণাটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন যে আমেরিকানরা সত্য সহ্য করার মতো যথেষ্ট মানসিকভাবে শক্তিশালী নয়। তবে তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করে দিয়েছেন যেন এই তথ্যগুলো যাদের ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত বিশ্বাসে বড় আঘাত হানবে, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক ও সামাজিক সহায়তার প্রস্তুতি রাখা হয়।
এই সাক্ষাৎকারটি একটি বড় ধরনের সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে ইউএপি বিষয়টি সামাজিক উপহাসের বিষয় থেকে বেরিয়ে এসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় আলোচনায় পরিণত হচ্ছে। যদিও এই রহস্যময় ঘটনার প্রকৃত উৎস এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়ে গেছে, তবুও ডক্টর ফিলের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ জনমত গঠনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। প্রকাশের এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে তা কেবল সময়ই বলে দেবে, তবে পরিবর্তনের এই জোরালো হাওয়া এখন আর অস্বীকার করার উপায় নেই।

