শব্দের ভাষায় কথা বলে সমুদ্র: প্রবাল প্রাচীরের লুকানো সুর শুনতে শিখছে নতুন রোবট

লেখক: Inna Horoshkina One

এই স্বয়ংক্রিয় রোবট কোরাল রিফগুলোকে রক্ষা করতে সহায়তা করছে.

দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্র এমন এক বিশাল ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ছিল যাকে মানবজাতি মূলত দেখার মাধ্যমেই বুঝতে চেয়েছে: স্যাটেলাইট, ক্যামেরা, গভীর সমুদ্রের মানচিত্র কিংবা সাবমেরিনের সাহায্যে। তবে সম্ভবত এর প্রকৃত ভাষার একটি বড় অংশ সবসময় কেবল ছবির মধ্যে নয়, বরং শব্দের ভেতরেই লুকিয়ে ছিল।

২০২৬ সালের মে মাসে Science Robotics-এ প্রকাশিত উডস হোল ওশানোগ্রাফিক ইনস্টিটিউশন (WHOI)-এর বিজ্ঞানীদের এক নতুন গবেষণা ঠিক এই পথেই এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। গবেষকরা CUREE নামক একটি স্বায়ত্তশাসিত সিস্টেম উন্মোচন করেছেন যা প্রবাল প্রাচীরের সবচেয়ে সক্রিয় জৈবিক অঞ্চলগুলো খুঁজে বের করতে ভিজ্যুয়াল পর্যবেক্ষণ এবং শব্দ শোনার ক্ষমতাকে একত্রিত করে।

এর পেছনের মূল ভাবনাটি যেমন সহজ, তেমনি কাব্যিক: সমুদ্রকে কেবল মানচিত্রের ফ্রেমে না বেঁধে একে শ্রবণ করাও সম্ভব।

প্রবাল প্রাচীর হলো পৃথিবীর অন্যতম জটিল এক শব্দনির্ভর বাস্তুসংস্থান। চিংড়ির ক্লিক করার শব্দ, মাছের নড়াচড়া এবং প্রাণের নিরন্তর স্পন্দন সেখানে এক অনন্য শব্দ-বৈশিষ্ট্য তৈরি করে। সামুদ্রিক প্রাণীদের জন্য এই শব্দময় পরিবেশ তাদের দিকনির্ণয়, অবস্থান নির্ধারণ এবং বেঁচে থাকার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখন এই সংকেতগুলো কৃত্রিম যন্ত্রের মাধ্যমেও ব্যবহার করা শুরু হচ্ছে।

এই সিস্টেমটি হাইড্রোফোনের মাধ্যমে পানির নিচের শব্দ বিশ্লেষণ করে এবং সেগুলোকে দৃশ্যমান তথ্যের সাথে মিলিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চ জীববৈচিত্র্যপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রবাল প্রাচীর যখন সংকটের মুখে রয়েছে, তখন এই প্রযুক্তি গবেষণার গতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।

তবে এই ঘটনার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি সম্ভবত দার্শনিক।

আমরা এমন এক যুগে প্রবেশ করছি যেখানে প্রযুক্তি শুধু পৃথিবীকে দেখতেই শিখছে না, বরং তার জীবন্ত ছন্দগুলো অনুভব করতেও শিখছে। এখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের উপলব্ধির বিকল্প নয়, বরং তার এক নতুন প্রসার হিসেবে কাজ করছে।

বিজ্ঞান আমাদের বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, জীবন শুধু আকৃতিতেই নয়, কম্পাঙ্কেও কথা বলে।

আগে যদি সমুদ্রকে এক নিস্তব্ধ গভীরতা মনে করা হতো, তবে আজ এটা স্পষ্ট যে সে সবসময়ই মুখর ছিল। আমরা কেবল এখন সেই শব্দ শোনার পাঠ নিতে শুরু করেছি।

এই উদ্ভাবন পৃথিবীর সুরের ভুবনে নতুন কী মাত্রা যোগ করল?

সম্ভবত এটি বোঝার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া যে, শব্দ কেবল জীবনের অনুষঙ্গ নয়, বরং এটি পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন এক ভাষা।

9 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।