মহাসাগরকে জানতে এক ফোঁটা জলই যথেষ্ট

লেখক: Inna Horoshkina One

प्रतিটি পানির নমুনা কেবল একটি বৈজ্ঞানিক নমুনা নয়। এটি সমুদ্রের জীবনের বৃহৎ গল্পের আরেকটি লাইন।

দীর্ঘকাল ধরে মানুষ অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মহাসাগর নিয়ে গবেষণা করেছে।

মানুষ বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করেছে, গভীর সমুদ্রে যান পাঠিয়েছে, নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং নানাবিধ পরিমাপ নিয়েছে। কিন্তু আজ এই দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করেছে।

প্রাণের সন্ধান করার পরিবর্তে, বিজ্ঞান এখন মহাসাগরের সেই গল্প শোনার চেষ্টা করছে যা সে নিজেই দীর্ঘকাল ধরে বলে আসছে।

২০২৬ সালের ৬ জুলাই ওশান বায়োডাইভারসিটি ইনফরমেশন সিস্টেম বা OBIS (Ocean Biodiversity Information System) প্রথমবারের মতো এনভায়রনমেন্টাল ডিএনএ (eDNA) সংক্রান্ত একটি ডেটাসেট প্রকাশ করেছে, যা নতুন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড Event Core অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।

প্রথম দেখায় এটিকে বৈজ্ঞানিক তথ্যভাণ্ডারের একটি নিছক প্রযুক্তিগত আপডেট মনে হতে পারে।

কিন্তু এই ঘটনার পেছনে লুকিয়ে আছে এক গভীর পরিবর্তন।

শুধু প্রযুক্তি বদলাচ্ছে না। মানুষ যেভাবে জীবন্ত মহাসাগরকে বুঝতে শুরু করেছে, সেই ভাষাও বদলে যাচ্ছে।

প্রতিটি সামুদ্রিক প্রাণী পানিতে তাদের উপস্থিতির অদৃশ্য আণবিক চিহ্ন রেখে যায়।

এগুলো হলো কোষ, ত্বক, শ্লেষ্মা এবং ডিএনএ সমৃদ্ধ অন্যান্য জৈবিক উপাদানের আণুবীক্ষণিক অংশ। বিজ্ঞানীরা একে বলছেন environmental DNA — eDNA

কোনো প্রজাতির প্রাণী সেখানে সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও, সমুদ্রের মাত্র এক ফোঁটা পানির নমুনা থেকেই বোঝা সম্ভব সেখানে সম্প্রতি কোন কোন প্রজাতির বিচরণ ছিল।

তবে আসল উদ্ভাবনটি কেবল eDNA প্রযুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি বেশ কয়েক বছর ধরেই গবেষণায় সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আজ যা বদলাচ্ছে তা হলো জ্ঞানের বিন্যাস পদ্ধতি।

সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত সামুদ্রিক তথ্যের বেশিরভাগই ছিল বিচ্ছিন্নভাবে কোনো প্রজাতির সন্ধানের ওপর ভিত্তি করে। প্রতিটি প্রাণীর ক্ষেত্রে নমুনা সংগ্রহের স্থান, পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, গভীরতা এবং পরিবেশের অন্যান্য বিষয়গুলো বারবার রেকর্ড করতে হতো।

যদি একটি নমুনাতেই ১০০টি প্রজাতি পাওয়া যেত, তবে একই তথ্য ১০০ বার পুনরাবৃত্তি হতো।

নতুন Event Core মানদণ্ড এই মূলনীতিকেই বদলে দিচ্ছে। এখন প্রথমেই কোনো একটি 'ঘটনা' বা ইভেন্টকে বর্ণনা করা হয়।

নমুনাটি কোথায় নেওয়া হয়েছিল। কখন নেওয়া হয়েছিল। পরিবেশগত পরিস্থিতি কেমন ছিল।

আর এর পরেই সেই নির্দিষ্ট ঘটনার সাথে খুঁজে পাওয়া সমস্ত প্রাণের যোগসূত্র স্থাপন করা হয়।

এই প্রথমবারের মতো মহাসাগরকে কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু পর্যবেক্ষণের সমষ্টি হিসেবে দেখা হচ্ছে না।

বরং এটিকে দেখা হচ্ছে নির্দিষ্ট স্থান ও কালে চলমান জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য আখ্যান হিসেবে।

এই পদ্ধতির প্রথম উদাহরণ হলো Invertebrate eDNA Gotland Summer 2021 নামক একটি ডেটাসেট, যা বাল্টিক সাগরের সুইডিশ দ্বীপ গোটল্যান্ডের আশেপাশে অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের গবেষণার সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এতে মোট ১১৬টি রেকর্ড রয়েছে।

তবে এই প্রকাশনার গুরুত্ব কেবল পর্যবেক্ষণের সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়।

এটি প্রমাণ করে যে, এই নতুন মানদণ্ডগুলো এখন কেবল বড় বড় বিজ্ঞান কেন্দ্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ছোট গবেষণা দলগুলোর কাছেও সহজলভ্য হয়ে উঠছে, যা বিশ্ব মহাসাগর নিয়ে আরও সমন্বিত গবেষণার পথ প্রশস্ত করছে।

আজকের দিনে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সামুদ্রিক ইকোসিস্টেম আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত গতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে।

এই নতুন পদ্ধতিগুলো বিরল এবং স্বল্প-পরিচিত প্রজাতি শনাক্ত করতে, জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তন রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করতে এবং সামগ্রিক পরিস্থিতির গভীর উপলব্ধির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

কিন্তু সম্ভবত সবচেয়ে বড় আবিষ্কারটি কোনো ল্যাবরেটরিতে ঘটছে না।

এটি ঘটছে আমাদের দেখার ভঙ্গির পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে।

গত কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞান প্রকৃতিকে কেবল গবেষণার একটি 'বস্তু' হিসেবে দেখার চেষ্টা করেছে।

আমরা খুঁজেছি। মেপেছি। বিচ্ছিন্ন সব তথ্য নথিবদ্ধ করেছি।

আজ ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে যে, প্রকৃতি দীর্ঘকাল ধরে তার নিজের গল্প নিজেই বলছে।

আমাদের কেবল সেই ভাষাটি বোঝার দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

সমুদ্রের প্রতিটি ফোঁটা পানি এখন আর কেবল বিশ্লেষণের জন্য কোনো নমুনা নয়।

এটি হয়ে উঠছে বিভিন্ন জীবের মধ্যকার সম্পর্কের এক আখ্যান। এটি স্থান ও কাল জুড়ে জীবনের সঞ্চার সম্পর্কে কথা বলে।

এটি সেই অদৃশ্য জগতের গল্প বলছে, যা নিরন্তর পুরো ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে।

আধুনিক বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের একটি সম্ভবত এখানেই নিহিত।

আমরা ক্রমশ বিচ্ছিন্ন কিছু তথ্য সংগ্রহের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে জীবনব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ রূপটি বোঝার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

কোনো একটি বস্তুকে আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণের পরিবর্তে এখন আমরা তাদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের সন্ধানে মগ্ন।

জ্ঞানের এক নতুন মানদণ্ড কেবল তথ্যের আধিক্য থেকে তৈরি হয় না।

এটি তখনই তৈরি হয় যখন আমরা সবকিছুর মধ্যে এক গভীর যোগসূত্র দেখতে শুরু করি।

7 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • OBIS publishes its first eDNA dataset based on Event Core

  • Toward a new data standard for combined marine biological and environmental datasets

  • Invertebrate eDNA Gotland Summer 2021 | Ocean Biodiversity Information System

  • OBIS official documentation on eDNA

  • Ocean Biodiversity Information System (OBIS)

  • The OBIS manual - data_format

  • Environmental DNA (eDNA): A Powerful Tool for Exploring Marine Ecosystems

  • Environmental DNA (eDNA) - NOAA Ocean Exploration

  • Environmental DNA (eDNA) Technology in Biodiversity and Ecosystem Health Research

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।