হিমালয়ে নতুন প্রজাতির সন্ধান: সিকিমে মিলল 'মেলানোসেরিস পেন্ড্রি' ফুল

সম্পাদনা করেছেন: An goldy

সিকিমের সুউচ্চ উপত্যকার পাতলা বাতাসে, যেখানে পাহাড়ের ঢালগুলো ঘন রডোডেনড্রন বন থেকে ক্রমে নগ্ন পাথুরে চূড়ায় মিশেছে, সেখানে গবেষকরা এমন একটি উদ্ভিদের সন্ধান পেয়েছেন যা আগে কোনো পরিচিত শ্রেণিবিন্যাসের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এর সরু কান্ড এবং গাঢ় বর্ণের পুষ্পমঞ্জুরি সাধারণ গাছপালার ভিড়ে আলাদাভাবে নজর কাড়ে, যা উদ্ভিদবিদদের এই অঞ্চলের প্রজাতির বৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

পূর্ব হিমালয়ে অবস্থিত সিকিম তার সমৃদ্ধ উদ্ভিদ জগতের জন্য দীর্ঘকাল ধরেই সুপরিচিত। এখানে গ্রীষ্মমন্ডলীয় থেকে শুরু করে আল্পাইন জলবায়ু মণ্ডলের মিলন ঘটেছে, যা বিরল ও স্থানীয় প্রজাতির বেড়ে ওঠার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। 'মেলানোসেরিস' গণ বা জেনাস, যার অন্তর্ভুক্ত এই নতুন প্রজাতিটি, মূলত এমন কিছু পাহাড়ি লতাগুল্ম নিয়ে গঠিত যা স্বল্পস্থায়ী গ্রীষ্ম এবং তাপমাত্রার চরম পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম। 'মেলানোসেরিস পেন্ড্রি' (Melanoseris pendryi)-এর এই আবিষ্কার সিকিমের জীববৈচিত্র্যের মানচিত্রে আরও একটি নতুন মাত্রা যোগ করল।

সম্ভবত এই প্রজাতির সীমিত বিস্তার এবং অতি সংক্ষিপ্ত ফুল ফোটার সময়ের কারণেই এটি এতদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিল। ক্ষেত্র গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই উদ্ভিদটি ৩৫০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় পাথুরে ঢালে জন্মাতে পছন্দ করে, যেখানে অন্যান্য প্রজাতির সাথে প্রতিযোগিতার সুযোগ খুব কম। এই দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছানো বেশ কঠিন এবং গত কয়েক বছরের সুশৃঙ্খল অভিযানের মাধ্যমেই কেবল বর্ণনার জন্য পর্যাপ্ত নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।

এই আবিষ্কারের গুরুত্ব নিছক তালিকাভুক্তকরণের চেয়েও অনেক গভীর। প্রতিটি নতুন প্রজাতি আমাদের এটি বুঝতে সাহায্য করে যে, কীভাবে পাহাড়ি বাস্তুসংস্থান জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানুষের নানাবিধ কর্মকাণ্ডে সাড়া দিচ্ছে। সিকিমে পর্যটন এবং কৃষিকাজের চাপ বাড়ার সাথে সাথে এই ধরণের আবিষ্কার আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রকৃতির ক্ষুদ্রতম অংশটিকেও সংরক্ষণ করা কতটা জরুরি। এগুলো ছাড়া উদ্ভিদ, পতঙ্গ এবং মাটির মধ্যকার সম্পর্কের অবিচ্ছেদ্য শিকল মানুষের অজান্তেই ভেঙে যেতে পারে।

পুরনো একটি চীনা প্রবাদে বলা হয়েছে, "একটি ক্ষুদ্র ঘাসও পাহাড়ের ঢাল ধরে রাখতে সক্ষম।" মেলানোসেরিস পেন্ড্রি সম্ভবত তার নিজ অঞ্চলে মাটির ক্ষয় রোধে এবং ক্ষুদ্র জলবায়ু বা মাইক্রোক্লাইমেট বজায় রাখতে খুব সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রচণ্ড শীত এবং অতিবেগুনি রশ্মির বিরুদ্ধে এর টিকে থাকার ক্ষমতা ভবিষ্যতে খরা-সহনশীল ফসল উদ্ভাবনের গবেষণায় কাজে লাগতে পারে।

এই ধরনের উদ্ভিদের আবিষ্কার এটিই স্পষ্ট করে যে, হিমালয়ের উদ্ভিদরাজি সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান এখনও কতটা অসম্পূর্ণ এবং দুর্গম অঞ্চলগুলোতে ক্ষেত্র গবেষণা চালিয়ে যাওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

10 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • New flower species discovered in Sikkim

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।