রিও ডি জেনেরিও-র উপকূলে হাম্পব্যাক তিমির আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক দশকে এই অঞ্চলে তাদের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার থেকে বেড়ে পঁয়ত্রিশ হাজারে দাঁড়িয়েছে এবং বর্তমানে এই মহিমান্বিত প্রাণীরা নিয়মিতভাবে বিখ্যাত গুয়ানাবারা উপসাগরে প্রবেশ করছে। এটি কেবল আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়—বরং মনে হচ্ছে তিমিরা তাদের পরিযায়নের পথে নতুন সব এলাকা খুঁজে নিচ্ছে।
কয়েক দশকের শিল্পভিত্তিক তিমি শিকারের পর এখন এই প্রজাতিটি আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ১৯৮২ সালে আন্তর্জাতিক তিমি শিকার কমিশন (IWC) এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং তারপর থেকে পাওয়া তথ্যগুলো প্রাণীদের সংখ্যায় এক স্থিতিশীল বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে জুন থেকে নভেম্বরের মধ্যে হাজার হাজার হাম্পব্যাক তিমি দক্ষিণ মহাসাগরের শীতল জলরাশি থেকে প্রজননের উপযুক্ত উষ্ণ অঞ্চলের দিকে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ব্রাজিলীয় উপকূল বরাবর চলাচল করে।
এই প্রজাতির পুনরুদ্ধার পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। রিও-র বিভিন্ন কোম্পানি এখন পালতোলা নৌকায় ভ্রমণের সুবিধা দিচ্ছে, যেখানে জাহাজে একজন জীববিজ্ঞানীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। এ ধরনের ভ্রমণ কেবল কাছ থেকে তিমি দেখার সুযোগই করে দেয় না, বরং তাদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে এবং সমুদ্র সংরক্ষণের গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করে। আয়োজকদের মতে, এই আকর্ষণীয় প্রাণীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ প্রকৃতির প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে সক্ষম।
বিজ্ঞানীরা কেবল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই থেমে নেই। হাম্পব্যাক তিমি গবেষণা প্রকল্পের পক্ষ থেকে রিও-র জলসীমা তাদের বিশ্রাম, প্রজনন নাকি বাচ্চা প্রসবের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হবে, তা নিশ্চিত করতে একটি অভিযান চালানো হচ্ছে। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে তিমিরা এই জলভাগে সক্রিয়ভাবে বিচরণ করছে এবং প্রাথমিক তথ্যগুলো তাদের নিয়মিত যাতায়াতের পথ বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে তিমি দেখার প্রতি ক্রমবর্ধমান এই আগ্রহের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। জনসংখ্যার ইতিবাচক বৃদ্ধি সত্ত্বেও সমুদ্রে মানুষের উপস্থিতি যেকোনো উপায়ে প্রাণীদের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পর্যটনের বিকাশ যাতে বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ এবং কঠোর নিয়মনীতির সাথে তাল মিলিয়ে চলে তা নিশ্চিত করা জরুরি, যা তিমি এবং তাদের আবাসস্থল উভয়কেই রক্ষা করবে।
রিও-র উপকূলে হাম্পব্যাক তিমির ফিরে আসা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপন্ন প্রজাতিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব, তবে এর সাফল্য নির্ভর করছে এই নতুন অতিথিদের প্রতি আমরা কতটা যত্নশীল তার ওপর।

