আইনি বলয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি: রুশ নাগরিকদের সঞ্চয়ে কি স্বাধীনতা আসবে নাকি নতুন শিকল?

সম্পাদনা করেছেন: Yuliya Shumai

রাশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ‘ধূসর এলাকায়’ থাকা ক্রিপ্টোকারেন্সি শীঘ্রই একটি আনুষ্ঠানিক রূপ পেতে যাচ্ছে—আগামী ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ সংক্রান্ত আইন কার্যকর হতে পারে। প্রচলিত ‘সাবধানতার সাথে অনুমোদিত’ নীতির পরিবর্তে এখন একটি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা চালু হবে: ডিজিটাল সম্পদ কেনা যাবে শুধুমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে, তবে দেশের অভ্যন্তরে এগুলো দিয়ে লেনদেন করার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। আপাতদৃষ্টিতে এটি স্বচ্ছতার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে প্রশ্ন থেকে যায়, এতে লাভ কার হচ্ছে এবং বিটকয়েন বা ইথারে সঞ্চয় করতে চাওয়া সাধারণ মানুষ এর ফলে কী হারাচ্ছে।

গত এপ্রিলে প্রথম পাঠে গৃহীত এই বিলটি প্রাথমিকভাবে ১ জুলাই থেকে চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এখন সেই সময়সীমা দুই মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনিক ও ফৌজদারি অপরাধ বিধির সংশোধনীগুলো পরবর্তী স্টেট ডুমা অধিবেশন পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। সংসদীয় কমিটির আর্থিক বাজার বিষয়ক চেয়ারম্যান আনাতোলি আকসাকভ সরাসরি বলেছেন: “আমরা অবশ্যই ডিজিটাল মুদ্রাকে বৈধতা দেব।” কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিন ধরে বাজারকে অন্ধকার থেকে বের করে এনে মূলধনের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার এই মুহূর্তটির অপেক্ষায় ছিল। ব্যাংক এবং ব্রোকাররা কমিশন ভিত্তিক মধ্যস্থতার একটি নতুন ক্ষেত্র খুঁজে পাবে। রাষ্ট্র লেনদেনগুলো পর্যবেক্ষণ করার এবং প্রয়োজনে সেগুলো সীমাবদ্ধ করার সুযোগ পাবে।

সাধারণ রুশ নাগরিক যারা তাদের সঞ্চয়ের একাংশ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রাখেন, তাদের জন্য এই পরিবর্তন দ্বিমুখী প্রভাব বয়ে আনবে। একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তালিকায় থাকা বৈধ এক্সচেঞ্জ হাউজ তৈরি হবে, যেখানে প্রতারিত হওয়ার বা কার্ড ব্লক হওয়ার ঝুঁকি ছাড়াই সম্পদ কেনা যাবে। অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে সব ধরনের লেনদেন হবে স্বচ্ছ। আগে যেসব অর্থ অনানুষ্ঠানিক পথে ঘুরপাক খেত, তা এখন থেকে আনুষ্ঠানিক মাধ্যম দিয়ে প্রবাহিত হবে। এটি অনেকটা এমন এক নদীর মতো যাকে কংক্রিটের বাঁধে আটকে দেওয়া হয়েছে: স্রোত এখন অনুমানযোগ্য হলেও পানি আর আগের মতো পুরনো পথে বইতে পারবে না।

এর নেপথ্য উদ্দেশ্যটি বেশ স্পষ্ট। নিষেধাজ্ঞা এবং প্রথাগত পুঁজিবাজারে সীমিত প্রবেশাধিকারের প্রেক্ষাপটে অনেকের কাছেই ক্রিপ্টোকারেন্সি ছিল ঝুঁকি কমানোর এবং বাধা অতিক্রম করার একটি মাধ্যম। নতুন এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যেমন একদিকে এই সরঞ্জামটিকে আংশিকভাবে বৈধতা দিচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে একে কঠোর নজরদারির আওতায় নিয়ে আসছে। যারা আগে পরিচয় গোপন রাখাকে প্রধান্য দিতেন, এখন তাদের সামনে দুটি পথ খোলা: হয় ঝুঁকির মুখে সেই ‘ধূসর এলাকায়’ থেকে যাওয়া, নয়তো এমন এক বৈধ ব্যবস্থায় আসা যেখানে কমিশন এবং জবাবদিহিতা এড়ানো অসম্ভব। মানসিকভাবে এটি একটি চিরচেনা দোটানা: স্বাধীনতা হারানোর ভয় নাকি টাকা হারানোর ভয়।

অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা যেমনটি দেখায়, নিয়ম প্রবর্তন বাজারকে খুব কমই ধ্বংস করে—বরং এটি বাজারকে নতুন করে বিন্যস্ত করে। এতে বড় খেলোয়াড় এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা লাভবান হয়, ক্ষুদ্র খুচরা বিনিয়োগকারীরা সুরক্ষা পেলেও তাদের নমনীয়তা হারায়। রাশিয়ায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনগণের আস্থা ঐতিহাসিকভাবেই কম হওয়ায় অনেকেই বিকল্প পথ খোঁজা অব্যাহত রাখবেন। এখন শুধু দেখার বিষয় যে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের পর সেই বিকল্প পথগুলো কতটা ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

পরিশেষে বলা যায়, এই আইনটি কেবল নতুন পথই উন্মুক্ত করছে না, বরং নতুন লক্ষ্যও নির্ধারণ করে দিচ্ছে। যারা ক্রিপ্টোকারেন্সি রাখার পরিকল্পনা করছেন, তাদের এখনই ভেবে দেখা উচিত যে তারা এই স্বচ্ছতা এবং মধ্যস্থতাকারীদের জন্য প্রস্তুত কি না, নাকি তারা তাদের বর্তমান সুবিধা ও অসুবিধা নিয়েই থাকতে চান। পছন্দটি একান্তই প্রত্যেকের নিজস্ব।

3 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Закон о криптовалютах в России может заработать с 1 сентября

এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।