ব্লকচেইন নিয়ে চীনের কড়াকড়ি: রাশিয়ার সাথে আর্থিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব

সম্পাদনা করেছেন: Yuliya Shumai

চীন আবারও ব্লকচেইন সংক্রান্ত নিয়মকানুন বদলে দিচ্ছে, আর এবার বিষয়টি কেবল তাদের অভ্যন্তরীণ ডিজিটাল অর্থনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সেইসব দেশগুলোর জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে যারা নিষেধাজ্ঞার মুখে বিকল্প পথ খুঁজছে। যখন ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের নিজস্ব ডিজিটাল মুদ্রা নিয়ে আলোচনা করছে, ঠিক তখনই বেইজিং বেসরকারি ব্লকচেইন প্রকল্পগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে তাদের সরকারি ডিজিটাল ইউয়ানকে আরও জোরালোভাবে সামনে নিয়ে আসছে। এটি একটি অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি করছে: যে প্রযুক্তিটি লেনদেনকে বিকেন্দ্রীভূত করার জন্য তৈরি হয়েছিল, সেটি এখন আরও কঠোর রাষ্ট্রীয় নজরদারির হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে।

রাশিয়ার জন্য এই পরিবর্তনের সরাসরি গুরুত্ব রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তঃসীমান্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে যেসব যৌথ প্রকল্পের কথা আলোচনা হয়েছে, সেগুলোকে এখন চীনের নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় আসতে হবে। প্রথাগত পেমেন্ট সিস্টেম এড়ানোর জন্য যেসব ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান ব্লকচেইনের ওপর ভরসা করছে, তাদের এখন চীনা কর্তৃপক্ষের যাচাইকরণ এবং রিপোর্টিং সংক্রান্ত শর্তাবলী মেনে চলতে হবে। অন্যথায় সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়া বা অংশীদারিত্ব বাতিল হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে।

এখানে বেইজিংয়ের গোপন উদ্দেশ্যটি স্পষ্ট: দেশের ভেতরে ডিজিটাল মুদ্রার ওপর একাধিপত্য বজায় রাখা এবং একইসাথে দেশের বাইরে ব্লকচেইনকে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা। অন্যদিকে রাশিয়া বিকল্প উপায়ে লেনদেনের ক্ষেত্রে দ্রুত রূপান্তরের সুযোগ পেলেও তার বিনিময়ে চীনের মানদণ্ড ও অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এটি কেবল কোনো প্রযুক্তিগত বিষয় নয়—বরং দুই দেশের মধ্যে পুঁজির প্রবাহ শেষ পর্যন্ত কার নিয়ন্ত্রণের থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ধরা যাক, একজন রুশ রপ্তানিকারক এবং একজন চীনা আমদানিকারকের মধ্যে একটি সাধারণ বাণিজ্যিক লেনদেন হচ্ছে। আগে এই লেনদেন হতো ডলার এবং পশ্চিমা ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। এখন এর কিছু অংশ অনুমোদিত ব্লকচেইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হতে পারে, তবে প্রতিটি লেনদেন চীনা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরদারিতে থাকবে। অর্থ এখন আর কেবল বিনিময়ের মাধ্যম হয়ে থাকছে না, বরং এটি এমন তথ্যে পরিণত হচ্ছে যা ট্র্যাক করা এবং প্রয়োজনে আটকে দেওয়া সম্ভব।

এই পরিস্থিতি ক্রিপ্টোকারেন্সিতে সম্পদ রাখা বা এশীয় অঞ্চলে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবিয়ে তুলছে। যখন বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি নিজেই নিয়ম নির্ধারণ করে দেয়, তখন পূর্ণ গোপনীয়তা বা রাষ্ট্রের থেকে স্বাধীনতার আশা নিছক এক বিভ্রম মাত্র। বরং তারাই লাভবান হবেন, যারা প্রযুক্তিগত স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যবর্তী সীমা বুঝতে পারবেন।

পরিশেষে, ব্লকচেইন নিয়ে চীনের নতুন নীতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়: যে বিশ্বে অর্থ ক্রমেই ডিজিটাল হয়ে উঠছে, সেখানে আসল ক্ষমতা প্রযুক্তির উদ্ভাবকদের হাতে নয়, বরং তাদের হাতে থাকে যারা এটি ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারণ করে।

46 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • China blockchain policy update

মন্তব্য

এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:

HSBC just named its Hong Kong stablecoin. It's called RedCoin. And it's going straight to 3.3 million retail users. No exchange. No self-custody wallet. Just PayMe and the HSBC app. • Name: HSBC RedCoin • Peg: 1:1 HKD • License: HKMA FRS02 (granted April 2026) •

Reply
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।