বিটকয়েন ৬৪ হাজার ডলারে ৩০৭ দিনের কনসোলিডেশনে আটকে আছে: দীর্ঘ স্থবিরতা ধৈর্যের বড় পরীক্ষা

সম্পাদনা করেছেন: Yuliya Shumai

বিটকয়েন ৬৪ হাজার ডলারে ৩০৭ দিনের কনসোলিডেশনে আটকে আছে: দীর্ঘ স্থবিরতা ধৈর্যের বড় পরীক্ষা-1

বিটকয়েন গত ৩০৭ দিন ধরে ৬০ থেকে ৭০ হাজার ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে এবং বর্তমানে এর দাম ৬৪ হাজার ডলারের কাছাকাছি, যা এই সম্পদের ইতিহাসে তৃতীয় দীর্ঘতম স্থিতাবস্থা। যারা এই কয়েন জমা রাখছেন বা নতুন করে বিনিয়োগের কথা ভাবছেন, তাদের কাছে এটি কেবল গ্রাফের কোনো সংখ্যা নয়, বরং বাজারের গতিপ্রকৃতি বোঝার এবং ধৈর্য ধরার এক প্রাত্যহিক পরীক্ষা।<\/p>

পার্শ্বমুখী গতির এমন দীর্ঘ সময় আগেও দেখা গেছে: ২০১৮ ও ২০২২ সালের মন্দার সময় বিটকয়েন সবচেয়ে বেশি সময় ১০-২০ হাজার এবং ২০-৩০ হাজার ডলারের ঘরে অবস্থান করেছিল। গ্লাসনড-এর (Glassnode) তথ্যমতে, বর্তমান সময়কালটি ইতোমধ্যেই আগের অনেক রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে এবং তা আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন যে, এই সময়ে ক্রিপ্টো সঞ্চয়ের লক্ষণ দেখা গেছে: নতুন বড় বিনিয়োগকারীরা সক্রিয়ভাবে কিনছেন, অন্যদিকে পুরনোরা বড় ধরনের বিক্রি না করে তাদের অবস্থান ধরে রেখেছেন।<\/p>

প্রযুক্তিগত চিত্র এখানে বেশ কিছু সূক্ষ্ম ইঙ্গিত দিচ্ছে। সম্প্রতি এর দাম ২০০-সপ্তাহের মুভিং অ্যাভারেজের উপরে ফিরে এসেছে এবং আরএসআই (RSI) একটি বুলিশ ডাইভারজেন্স বা ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে—যা অতীতে অনেক সময় বড় পরিবর্তনের পূর্বলক্ষণ হিসেবে কাজ করেছে। তবে কয়েনবেস প্রিমিয়াম এখনো নেতিবাচক রয়ে গেছে এবং পতনের পর ইটিএফ (ETF) প্রবাহ মাত্র কয়েক দিন আগে পুনরুদ্ধার হতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে বাজার এখনো ঊর্ধ্বমুখী বা নিম্নমুখী কোনো শক্তিশালী পরিবর্তনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয় বলেই মনে হচ্ছে।<\/p>

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এই স্থিতাবস্থা মানে কেবল অপেক্ষা করা নয়। এই অবস্থায় আটকে থাকা টাকা কোনো লাভ বয়ে না আনলেও আতঙ্কে হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না। পুকুরের পানির মতো যা স্থির মনে হলেও ভেতরে খনিজ সঞ্চয় করে, এখানে বিনিয়োগও তেমনি গভীরতা অর্জন করে—যা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের গড় খরচ কমিয়ে দেয় এবং দ্রুত মুনাফাকারীদের সরিয়ে দেয়। মনস্তাত্ত্বিকভাবে এটি সেই পুরনো প্রবাদের কথা মনে করিয়ে দেয়: "সবুরে মেওয়া ফলে"।<\/p>

প্রাতিষ্ঠানিক খেলোয়াড় ও বড় বিনিয়োগকারীরা বিটকয়েন জমানো চালিয়ে যাচ্ছেন, যদিও সাধারণ খুচরা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনো হতাশা বিরাজ করছে—বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের জরিপে দেখা গেছে অধিকাংশ মানুষ দাম ৫৫ হাজার ডলারের নিচে নামার বাজি ধরছেন। বড় বিনিয়োগকারীদের পদক্ষেপ এবং সাধারণ মানুষের ধারণার মধ্যে এই পার্থক্য প্রায়ই পরবর্তী বড় কোনো পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করে। সার্কেলকে (Circle) ব্যাংক হিসেবে অনুমোদন দেওয়ার মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর খবর বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনলেও তা অস্থিরতা পুরোপুরি দূর করে না।<\/p>

দীর্ঘদিনের এই স্থিতাবস্থা বড় কোনো উল্লম্ফনের নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এটি স্পষ্ট করে দেয় যে: বাজার তাড়াহুড়ো পছন্দ করে না। যারা সুশৃঙ্খল থাকেন এবং বাইরের গুজবে কান দেন না, তাদের কাছে একদিন এই পুঞ্জীভূত "শক্তি" যে কোনো একদিকে ফেটে পড়ার সাক্ষী হওয়ার সুযোগ আসবে।<\/p>

1 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Bitcoin RIPS Back To $64K On Day 307 Of Its Third-Longest Range

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।