৬০ হাজার ডলারের নিচে বিটকয়েন: ভূ-রাজনীতি কাঁপিয়ে দিচ্ছে ক্রিপ্টো বাজার, সামনে আসছে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ

সম্পাদনা করেছেন: Yuliya Shumai

৬০ হাজার ডলারের নিচে বিটকয়েন: ভূ-রাজনীতি কাঁপিয়ে দিচ্ছে ক্রিপ্টো বাজার, সামনে আসছে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ-1

রবিবার সন্ধ্যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার খবরে বিটকয়েনের দাম ৫৯ হাজার ডলারের নিচে নেমে যায় এবং ইথারসহ অন্যান্য অল্টকয়েনেরও দরপতন ঘটে। এতে মোট লিকুইডেশনের পরিমাণ ১৮০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যার মধ্যে মূলত ‘লং পজিশন’ বা বেশি দামে কেনার অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্রিপ্টো বাজারের ‘ফিয়ার অ্যান্ড গ্রিড ইনডেক্স’ বা ভয় ও লোভের সূচক এখন ‘চরম ভয়’ (এক্সট্রিম ফিয়ার) পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ডিজিটাল সম্পদের মোট বাজার মূলধন ৩.৩৮ শতাংশ কমে ২.০২ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এই ধরনের আকস্মিক ওঠানামা খুব কমই কাকতালীয় হয়। ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকিগুলো এখানে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে, যা বাজার সংশ্লিষ্টদের তাদের বিনিয়োগের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করছে। গত এক সপ্তাহে বড় বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৮৮০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ইথার বিক্রি করে দিয়েছেন, যা প্রধান সাপোর্ট লেভেলের নিচে দাম কমার চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা কিছু ইতিবাচক সংকেতও লক্ষ্য করছেন: বিটকয়েন যদি পুনরায় ৬১ হাজার ডলারের উপরে উঠতে পারে, তবে তা ‘বুলিশ ডাইভারজেন্স’ নিশ্চিত করবে এবং দাম ৬৫ হাজার ডলারে পৌঁছানোর পথ প্রশস্ত করবে।

বাজারে ভয়ের মাত্রা কেবল সংবাদের কারণেই নয়, বরং বিনিয়োগকারীদের সামগ্রিক মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়ার কারণেও চরমে পৌঁছেছে। এমনকি যখন সম্ভাব্য ‘যুদ্ধবিরতির’ খবরে মার্কিন সূচকের ফিউচারগুলো ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে, তখনও ক্রিপ্টো বিনিয়োগকারীরা লোকসান স্বীকার করে সম্পদ বিক্রি করে দিচ্ছেন। এটি একটি চিরচেনা চিত্র: অনিশ্চয়তার মুহূর্তে পুঁজি সবসময় আরও ‘ঐতিহ্যবাহী’ সম্পদের দিকে ধাবিত হয় এবং ডিজিটাল মুদ্রাগুলোকে অতিরিক্ত ঝুঁকির উৎস হিসেবে দেখা হয়। অবশ্য এই পরিস্থিতিতেও এক্সআরপি (XRP) তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে, যা প্রমাণ করে যে সব টোকেন একইভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় না।

সাধারণ মানুষের কাছে এই দরপতন কেবল স্ক্রিনের কিছু সংখ্যা নয়। এগুলো মনে করিয়ে দেয় যে বাইরের ঘটনাপ্রবাহ কীভাবে ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কেউ কেউ আতঙ্কিত হয়ে সস্তায় সম্পদ বিক্রি করে দিচ্ছেন, আবার কেউ একে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ জমানোর সুযোগ হিসেবে দেখছেন। ইতিহাস বলছে যে ‘চরম ভয়ের’ সময়ের পরেই প্রায়ই বাজার ঘুরে দাঁড়ায়, তবে তা কেবল তাদের জন্যই যারা এই অস্থিরতা সহ্য করার ক্ষমতা রাখেন।

এক্ষেত্রে ভূ-রাজনীতি মূল কারণ নয়, বরং একটি বাহ্যিক সূত্রপাতকারী বা ট্রিগার হিসেবে কাজ করছে। এর নেপথ্যে রয়েছে প্রকৃত স্বার্থ: নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রত্যাশা থেকে শুরু করে বড় বিনিয়োগকারীদের কৌশল, যারা অস্থিরতার সময়কে তাদের পোর্টফোলিও নতুন করে সাজানোর জন্য ব্যবহার করেন। ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজার বিকেন্দ্রীভূত হওয়া সত্ত্বেও সামষ্টিক অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক সংকেতগুলোর প্রতি সংবেদনশীল রয়ে গেছে।

পরিশেষে, ৬০ হাজার ডলারের নিচে এই পতন কেবল একটি কারিগরি পর্যায় নয়, বরং এটি একটি আয়না যেখানে অস্থির বিশ্বে ঝুঁকির প্রতি বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়। যারা মাথা ঠান্ডা রেখে মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর নজর দেন, সাধারণত ঝড় থেমে যাওয়ার পর তারাই লাভবান হন।

6 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • 比特币以太坊狗狗币下跌 XRP持稳 美伊紧张局势周末升级

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।