কয়েক দশক ধরে ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে দূরে থাকার পর জাপানের শীর্ষ ব্যাংকগুলো এখন নিজস্ব স্টেবেলকয়েন চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমইউএফজি (MUFG), এসএমবিসি (SMBC) এবং মিজুহো (Mizuho)—এই তিন বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে যৌথভাবে এটি চালুর পরিকল্পনা করেছে। এটি কেবল ব্লকচেইন নিয়ে সাধারণ কোনো পরীক্ষা নয়, বরং একসময় যাকে হুমকি মনে করা হতো, তার ওপর পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি প্রয়াস।
বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, এই স্টেবেলকয়েনগুলো জাপানি ইয়েন দ্বারা সমর্থিত হবে এবং কঠোর নিয়ন্ত্রক বিধিমালার আওতায় থাকবে। মার্কিন ইউএসডিটি (USDT) বা ইউএসডিসি (USDC)-র মতো না হয়ে এগুলো সরাসরি জাতীয় কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে থাকবে। এই পদ্ধতি ব্যাংকগুলোকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের ভূমিকা ধরে রাখতে সাহায্য করবে, যাতে বিকেন্দ্রীভূত প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে তারা জায়গা না হারায়।
এর পেছনে মূল উদ্দেশ্যটি স্পষ্ট: জাপানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দেখছে যে তরুণ প্রজন্ম এবং বড় কর্পোরেশনগুলো আন্তঃসীমান্ত লেনদেনের জন্য ক্রমবর্ধমানভাবে ডিজিটাল সম্পদ ব্যবহার করছে। নিজস্ব কোনো মাধ্যম না থাকলে গ্রাহকরা বিদেশি ইস্যুকারীদের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারেন। যৌথভাবে মুদ্রার প্রচলন খরচ এবং ঝুঁকি উভয়ই কমিয়ে দেয়, কারণ বাজারের তিনটি বড় খেলোয়াড় এর দায়িত্ব ভাগ করে নিচ্ছে।
মজার ব্যাপার হলো, এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে যখন ডিজিটাল মুদ্রার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা তীব্রতর হচ্ছে। চীন ইতিমধ্যে ডিজিটাল ইউয়ান পরীক্ষা করছে এবং ইউরোপীয় ব্যাংকগুলো নিজস্ব প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছে। আর্থিক উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকভাবে সতর্ক জাপান নিষেধাজ্ঞার বদলে নিয়ন্ত্রিত একীভূতকরণের পথ বেছে নিচ্ছে। এটি আমানতকারীদের আস্থা বজায় রাখার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলার সুযোগ করে দেবে।
সাধারণ মানুষের কাছে এর প্রভাব বৈপ্লবিক হওয়ার চেয়ে বরং অলক্ষিতই থেকে যাবে। দেশের ভেতরে এবং বাইরের লেনদেন আগের চেয়ে দ্রুত ও সাশ্রয়ী হতে পারে, বিশেষ করে ব্যবসার ক্ষেত্রে। তবে এই অর্থের আসল ক্ষমতা সেই ব্যাংকগুলোর হাতেই থাকবে যারা বর্তমানে প্রথাগত অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করছে। ডিজিটাল মোড়ক কোনোভাবেই পুরনো নিয়মগুলোকে বদলে দেবে না।
পরিশেষে, ব্যাংকগুলো নতুন ধরণের অর্থের বিরুদ্ধে লড়াই না করে বরং সেটিকে নিজেদের মতো করে মানিয়ে নিচ্ছে। প্রশ্ন হলো, এই অভিযোজন কতদূর পর্যন্ত যাবে এবং পরিচিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে ব্যবহারকারীদের কাছে কোনো বিকল্প টিকে থাকবে কি না।



